বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

সাংসদকে হুমকিদাতা কি প্রশাসনের চেয়েও ক্ষমতাধর হয়ে গেছে?

আপডেট: January 15, 2020, 1:04 am

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীতে সাংসদকে হুমকি প্রতিবাদে মানববন্ধন সোনার দেশ

একজন সংসদ সদস্যকে হুমকিদাতা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা রাজশাহীবাসীর জন্য লজ্জার। কারণ, একজন সংসদ সদস্যকে প্রাণনাশের হুমকিদাতা যদি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তাই হুমকিদাতা গ্রেপ্তার না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তাকে বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেলেও অথচ পুলিশ নাকি তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। এটা মেনে নেয়া যায় না। তাহলে হুমকিদাতা কি প্রশাসনের চেয়েও ক্ষমতাধর হয়ে গেছে?
রাজশাহী-২ সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার প্রাণনাশের হুমকিদাতাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ কথা বলেন।
এ সময় রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন করছেন। তার সাথে শরিক হয়ে ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহীর উন্নয়ন করছেন। অথচ একটি কুচক্রিমহল রাজশাহীর উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। সেই চক্র রাজশাহীর উন্নয়নের কারিগর এমপি বাদশাকে সরিয়ে দিতে চায়। তাই হুমকি দেয়া হয়েছে। অবিলম্বে হুমকিদাতাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। সেইসঙ্গে তাকে যারা আশ্রয় দিচ্ছে তাদেরও চিহ্নিত করতে হবে।
জামাত খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা সভায় এমপিকে হুমকি দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়নি। ডিসি সাহেব, আপনি জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পান। মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তারে কেন আলোচনা হয়নি তার জবাব আপনাকে দিতে হবে।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির জেলার সাধারণ সম্পাদক রাজকুমার সরকার বলেন, সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহীর প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করেছেন। তিনি কখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করেন না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে যে কোনো বিষয়ের সমাধান হয়ে যায়। প্রশাসন যদি বৃহত্তর আন্দোলন না দেখতে চান তাহলে এখনই হুমকিদাতা সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনুন।
সরকারের প্রাক্তন উপ-সচিব মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন বলেন, ফজলে হোসেন বাদশা শুধু একজন এমপিই নন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধাও। দেশের জন্য প্রাণ হাতে লড়াই করেছেন। আজ স্বাধীন দেশে একজন মুক্তিযোদ্ধাকেই প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়! এই জন্যই কী আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম? হুমকিদাতাকে যদি প্রশাসন গ্রেপ্তার করতে না পারে তাহলে আমরা মুক্তিযোদ্ধারাই তাকে খুঁজে বের করব। যথাযথ শাস্তি দেব। অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার সাহস আমাদের আছে।
দিগন্ত প্রসারি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, ফজলে হোসেন বাদশা সব সময় জামায়াত, জঙ্গিবাদ, অপশক্তির বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থেকেছেন। হুমকিদাতাকে অবশ্যই দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।
কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক কবি আরিফুল হক কুমার বলেন, ফজলে হোসেন বাদশা ১৪ দলের অন্যতম একজন শীর্ষ নেতা। তাকে হুমকি দেয়ায় ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিমও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এরপরেও কীভাবে হুমকিদাতা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে? রাজশাহীর মানুষ ফজলে হোসেন বাদশাকে ভালোবাসে। তারা তাকে তিন তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। তারা হুমকিদাতাকে ছেড়ে দেবে না। আমাদের মনে এখন ভয় দেখা দিয়েছে। আমরা আতঙ্কিত। যে ব্যক্তি এমপিকেই হুমকি দিতে পারে, সে যে কোনো সমাজের জন্যই বিপজ্জনক। প্রশাসনকে এটা বুঝতে হবে।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নগর সভাপতি সুজিত সরকার বলেন, রাজাকার-আলবদররা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে সব সময়ই হুমকি দেয়। কিন্তু এটা গণতান্ত্রিক দেশে হতে পারে না। হুমকিদাতা হুমকি দিয়ে বিশেষ রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে থাকবে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আর প্রশাসন তাকে ধরবে না এটাও নিন্দনীয়। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে আয়োজিত এক মানববন্ধন সমাবেশে নেতারা বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজশাহী অচল করে দেয়ারও হুমকি দিয়েছে সংগঠনগুলো।
এ মানববন্ধনে আরো বক্তব্যে রাখেন, সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলী, রাজশাহী বরেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর মালেক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মতিউর রহমান প্রমুখ। রাজশাহী মহিলা পরিষদের সভাপতি কল্পনা রায় এর সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনায় করেন, সমাজসেবক মঞ্জুর মোর্শেদ চুন্না।