সাংসদদের নিরাপত্তা চাইলেন ডেপুটি স্পিকার

আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০১৭, ১১:০০ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া।
জাতীয় সংসদ ভবনে সোমবার গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের জানাজা শেষে একই জেলার আরেক আসনের এই সাংসদ সাংবাদিকদের একথা জানান।
ফজলে রাব্বী বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করে এমপিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন।”
খ্রিস্টীয় বছরের শেষ দিন সন্ধ্যা রাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ লিটনকে তার বাড়ির বৈঠকখানায় ঢুকে গুলি করে পালিয়ে যায় আততায়ীরা। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু ঘটে। এর আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিরোধী দলে থাকার সময় গুলি করে ও গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যকে হত্যা করা হয়।
২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে শ্রমিক নেতা ও গাজীপুরের সাংসদ আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করা হয়। পরের বছরই ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে ঈদপরবর্তী এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে।
দুটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রধানত বিএনপি নেতাদের আসামি করা হয়। এর মধ্যে আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত পেরিয়ে হাই কোর্টের রায়ে বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় অভিযোগপত্রভুক্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের পৌরসভার সাময়িক বরখাস্তকৃ হওয়া মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ ও হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ মোট ৩২ জনের বিচার চলছে।
লিটনকে কারা মেরেছে, সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। লিটনের বোন রোববার রাতে অজ্ঞাতনামা পাঁচজনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন।
আওয়ামী লীগের নেতারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করলেও দলটি তা অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেছে, প্রকৃত খুনিদের আড়াল করতেই তাদের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে।
সোমবার সংসদ ভবনের জানাজার আগে গাইবান্ধা- ৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, “অপরিণত বয়সে লিটনের মৃত্যু হয়েছে। এটা জামাত-শিবিরের চক্রান্ত। গোলাম আজমকে সুন্দরগঞ্জের মাটিতে নামতে দেয়নি লিটন। এই দোষের শিকার হল লিটন।”
সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তায় গানম্যানের ব্যবস্থা করা হবে কি না এই প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, “জনপ্রতিনিধিদের তাদের নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়। বিভিন্নভাবে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হয়। এজন্য জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”- বিডিনিউজ