সাইফের মাঝে সিমিং অলরাউন্ডারের খোঁজ

আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০১৭, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



একজন থিসারা পেরেরা কিংবা একজন ড্যারেন স্যামির সন্ধান করছে বাংলাদেশ বহুদিন ধরে। শেষের ঝড়ে সমীকরণ নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসার সামর্থ্য আছে এমন একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার পাওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবেই এবার দলে তরুণ মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।
বাঁহাতি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান গত কয়েক বছর ধরে ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের অন্যতম আস্থা। নিজেকে ক্রমশ দলের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করছেন তরুণ অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু সেই নির্ভরযোগ্য পেস বোলিং অলরাউন্ডার আর পাওয়া হয়ে উঠেনি বাংলাদেশের।
এক সময় ফরহাদ রেজা, জিয়াউর রহমানকে নিয়ে চেষ্টা করা হয়েছিল। দুই জনের কেউই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। আলাউদ্দিন বাবুকে নিয়েও চেষ্টা ছিল কিন্তু আগের ধাপগুলোই পেরুতে পারেননি তিনি, তাই সুযোগ মেলেনি জাতীয় দলে।
টি-টোয়েন্টিতে চেষ্টা হয়েছিল মুক্তার আলিকে নিয়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মহা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিরিজে এক ম্যাচ দিয়েই তার ওপর আগ্রহ হারিয়েছে দল। সেই ম্যাচে ১৫ বলে ১৯ রানে অপাজিত ছিলেন মুক্তার। ২ ওভারে দিয়েছিলেন ১৭ রান।
এবার এলেন সাইফ। ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপের ম্যাচে বাংলাদেশ দলের সেরা পারফরমার ছিলেন। চার ম্যাচে সাত উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারে করেছেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু রান।
এর আগে বিসিএলে তিন ম্যাচে নিয়েছিলেন ১২ উইকেট, করেছিলেন একটি অর্ধশতক। জাতীয় লিগে চার ম্যাচে উইকেট ছিল ১০টি, করেছিলেন দুটি অর্ধশতক। নজর কেড়েছিলেন দেশের মাটিতে গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও।
ব্যাটিংটা ভালোই করেন কিন্তু শেষটায় কতটা ঝড় তুলতে পারবেন সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে মাত্র দুই ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ মিলেছে। সব মিলিয়ে ১৩ বলে করেছেন ২২ রান।
শ্রীলঙ্কার হয়ে এক জন থিসারাই কত ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশের হাত থেকে। শেষটায় তার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে কতবার দিক হারিয়েছে প্রতিপক্ষ। তেমন একজন দলে না থাকার আক্ষেপ অনেকবারই ঝরেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মুখে।
অনেকে সাইফের মধ্যে দেখছেন তার সমাধান। তবে সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের কাছে এবারের দলে তার উপস্থিতি ভবিষ্যতের জন্য দলের বিনিয়োগ। “সাইফ তরুণ খেলোয়াড়। ভবিষ্যতে সিমিং অলরাউন্ডার আমাদের খুব প্রয়োজন। সামনে আমাদের অনেক সিরিজ আছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আছে। ২০১৯ বিশ্বকাপ আছে। সবকিছু মিলে আমার মনে হয়, আমাদের এমন একজন খেলোয়াড় প্রয়োজন ছিল। আমি মনে করি সে অনেক পরিপক্ক।” “দলের সঙ্গে থাকলে যে আবহাওয়াটা পাওয়া যায়, সেটা একজন তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।” প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে শ্রীলঙ্কায় এসেছিলেন সাইফ। ২০ বছর বয়সী অলরাউন্ডার এবার জাতীয় দলের সদস্য। সাবেক অলরাউন্ডার মাহমুদ জানান, সব দিক বিবেচনা করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায় কেবল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেই। “টেস্টে একটা ফিক্সড দল থাকে। ওয়ানডেও অনেকটা তেমনই। টি-টোয়েন্টিতেই কেবল দেখা সম্ভব হয়, নতুনরা কেমন খেলে। এখানে র‌্যাঙ্কিংয়ের চাপ নেই। আমাদের নতুন খেলোয়াড়দের দেখার উপায় এখানেই। ২-৩ বছর পর যখন শূন্য জায়গা তৈরি হবে, সেটা পূরণ করতে কিছু খেলোয়াড় তো তৈরি হতে হবে। আমরা চাই হঠাৎ করে সিনিয়র খেলোয়াড় অবসরে চলে গেলে যেন শূন্যতা তৈরি না হয়।” টি-টোয়েন্টিতে সাইফের খেলার সুযোগ মিলবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। উইকেট দেখে বাংলাদেশ একাদশ ঠিক করবে।