সাকিবের স্পিনে স্বস্তিতে বাংলাদেশ

আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০১৭, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ওপেনার রেনশকে আউট করে সাকিবের উল্লাস

নিজের ৫০তম টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখতে পুরোপুরি সফল সাকিব আল হাসান। ব্যাটে ও বলে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি। ব্যাট হাতে ইনিংস সেরা ৮৪ রান করার পর বোলিংয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশও থাকলো এগিয়ে। অস্ট্রেলিয়াকে ২১৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে তারা প্রথম ইনিংসে লিড পায় ৪৩ রানের। এর পর দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমে স্বাগতিকরা ১ উইকেটে ৪৫ রান করেছে। প্রথম ইনিংসে ২৬০ করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ৮৮ রানের লিড নিয়ে।
প্রথম ইনিংসের মতো ব্যাটিং দুর্দশার মুখোমুখি বাংলাদেশকে হতে হয়নি দ্বিতীয়টিতে। বরং সম্ভাবনাময়ী জুটি গড়ার পথে ছিলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। কিন্তু বাড়াবাড়ি শটে দ্বিতীয় ইনিংসেও ভালো কিছু করতে পারলেন না সৌম্য। অ্যাস্টন অ্যাগারের বলে অনেক উঁচু শট নিলেন তিনি, লং অনে দাঁড়ানো উসমান খাজার হাত ফসকে দুইবার বল বেরিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ধরা দেয়। ১৫ রানে বিদায় নেন সৌম্য। ৫৩ বলে সাজানো ছিল তার ৩ বাউন্ডারির ইনিংস।
দিন শেষ হওয়ার আগে তামিম ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ‘নাইট ওয়াচম্যান’ হিসেবে মাঠে নেমে তাইজুল ইসলাম ৯ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেন নি।
এর আগে দ্বিতীয় সেশনে সাকিব-মিরাজের স্পিনে ১৪৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রতিরোধ গড়ে তারা অ্যাগার ও প্যাট কামিন্সের জুটিতে।
তাদের ৪৯ রানের জুটিতে ৮ উইকেটে ১৯৩ রানে চা বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় সেশনে এসেই সাকিব এ জুটি ভাঙেন। কামিন্সকে (২৫) বোল্ড করে নিজের চতুর্থ উইকেট নেন এ স্পিনার। শেষ ব্যাটসম্যান জশ হ্যাজলউডকে ৫ রানে ইমরুল কায়েসের ক্যাচ বানান তিনি। ৭৪.৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়। তার ইনিংস ছিল ৯০ বলের। অ্যাগার ৪১ রানে খেলছিলেন।
সোমবার সকালে দুর্দান্ত শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দিনের তৃতীয় ওভারেই মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিনে বোল্ড হয়ে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথ (৮)। অধিনায়ক চলে যাওয়ার পর ৬৯ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন পিটার হ্যান্ডসকম্ব ও ম্যাট রেনশ। তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে এলবিডাব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন হ্যান্ডসকম্ব (৩৩)। ১০২ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর আবার বাংলাদেশের অনুকূলে চলে যায় ম্যাচ। ওপেনার রেনশ কয়েকবার জীবন পেলেও সৌম্য সরকারের হাতে স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন ৪৫ রানে। সাকিব ফেরান তাকে।
ম্যাথু ওয়েড এলবিডাব্লিউ হন ৫ রানে, মিরাজ নেন তার উইকেট। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল বেশিদূর যেতে পারেননি। সাকিবের স্টাম্পিংয়ের শিকার তিনি ২৩ রানে। প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানদের বিদায় করে দিয়ে যখন বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনেই ব্যাট করার আভাস পাচ্ছিল, তখন অ্যাগার-কামিন্স বিস্ময়কর প্রতিরোধ গড়েন। অবশেষে এ জুটি ভেঙে স্বস্তি ফেরায় বাংলাদেশ। অ্যাগার একপ্রান্ত আগলে রাখলেও পারেননি হ্যাজলউড। তাকে ফিরিয়ে সাকিব পান নিজের পঞ্চম উইকেট।
সাকিব ২৫.৫ ওভারে ৭ মেডেনসহ ৬৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। বাঁহাতি অলরাউন্ডার তার টেস্ট ক্যারিয়ারে এনিয়ে এক ইনিংসে ১৬ বার ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখালেন। ৩ উইকেট পান মিরাজ। একটি পান তাইজুল।-বাংলা ট্রিবিউন