সাকিব-তামিমই যা আলো ছড়ালেন

আপডেট: আগস্ট ২৮, ২০১৭, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সাকিব-তামিমের জুটি থেকে আসে ১৫৫ রান

বাংলাদেশ ক্রিকেট বললে তাদের নামটাই আসে সবার আগে। তা সেই তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান যখন টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট খেলতে নামলেন, তখন তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশার কমতি ছিল না। প্রত্যাশা মিটিয়ে দলে স্বস্তি ফিরেও আবার ফেরাতে পারলেন না ঠিক। দুজনই হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে লম্বা ইনিংসের আভাস দিলেও থেমে গেলেন বাজে দুটো শট খেলে। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোরটাও এগোলো না খুব বেশি দূর। প্রথম দিনেই অলআউট হয়ে গেছে ২৬০ রানে।
তবু প্রথম ইনিংসে প্রাপ্তি বলতে সাকিব-তামিমের চমৎকার ব্যাটিং। চতুর্থ উইকেটে ১৫৫ রানের জুটি গড়ে যে জায়গা থেকে তারা দলকে টেনে তুলে এনেছিলেন, তাতে আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাদের বাংলাদেশের ক্রিকেটের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাত্র ১০ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার (৮), ইমরুল কায়েস (০) ও সাব্বির রহমানের (০) ব্যর্থতার পর শুরু সাকিব-তামিমের প্রতিরোধ।
চতুর্থ উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়ে তামিম ও সাকিব স্বস্তি ফিরিয়ে নিজেরাই আবার ব্যর্থতার পথ দিয়ে যান খুলে। যে পথে পরে হেঁটেছেন মুশফিকুর রহিম-নাসির হোসেনরা। এটাও ঠিক ভাগ্য সঙ্গে ছিল না বাংলাদেশের। নইলে আউট না হয়েও কেন ফিরতে হলো মেহেদী হাসান মিরাজকে? নাথান লিওনের বলে শর্ট লেগে পিটার হ্যান্ডসকম্বের হাতে ধরা পড়লেও আসলে ব্যাটে লাগেইনি বল। আম্পায়ার আলিম দার আউট দিলে আবার রিভিউ নেওয়ার সুযোগ পাননি মিরাজ। আগেই রিভিউ দুটি শেষ করে গিয়েছিলেন সাব্বির ও মুশফিক।
ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে আলো ছড়িয়েছে যা ওই তামিম-সাকিবই। টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫০তম ম্যাচ খেলতে নামা সাকিব দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির আশাও জাগিয়েছিলেন। কিন্তু পারলেন না। ৮৪ রানে থেমে যায় তার ইনিংস। নাথান লিওনের বলে স্টিভেন স্মিথের হাতে ধরা পড়েন সাকিব।
তার মতো ৫০তম টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন তামিম ইকবাল। তিনিও পেয়েছেন হাফসেঞ্চুরির দেখা। তবে সাকিবের মতো বাংলাদেশি ওপেনারও লম্বা করতে পারেননি ইনিংস। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বলে আউট হয়ে যায় ৭১ রান করে। খণ্ডকালীন এই অফ স্পিনারের কাছ থেকে বাড়তি কিছুই চেয়েছিলেন স্মিথ। টেস্টের আগেই এমনটাই জানিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। অবশেষে প্রথম টেস্টে সেই কাজটাই করে দেখালেন ম্যাক্সওয়েল। থিতু হয়ে যাওয়া ওপেনার তামিমকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুরে ৫০তম টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন তামিম ও সাকিব। ১০ রানে ৩ উইকেট পরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের ইনিংসে প্রাণ ফেরাচ্ছিলেন এই দুজন। এছাড়া মাইলফলক টেস্ট হিসেবেও এই টেস্টের গুরুত্ব ছিল তাদের কাছে। টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখতে আগেই ঘোষণা এসেছিল মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে। যার প্রমাণ শুরুতে দেন সাকিব। ৫০তম টেস্টে ২২তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার; তামিমও বসে থাকেননি। ২৩তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার।

মিরপুর টেস্ট শুরুর আগে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে মাঠের বাইরের আরেকটি বিষয় ছিল আলোচনায়। সেটা হলো বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে আগেই জানানো হয়েছিল দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে বৃষ্টির সম্ভাবনা যথেষ্ট। প্রথম দিনেই শুরু হয়ে গেছে তা। ৬৭তম ওভারের সময় বৃষ্টি শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় ম্যাচ। তবে বেশিক্ষণ ভোগায়নি, আবার শুরু হয় ম্যাচ।
বৃষ্টির আগে বাংলাদেশ সবশেষ হারায় মুশফিকুর রহিমের উইকেটটি। ডাউন দ্য উইকেটে এসে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন বলটি। কিন্তু অ্যাস্টন অ্যাগারের করা বল ব্যাটে না লেগে সরাসরি আঘাত করল তার প্যাডে। হলো জোড়ালো আবেদন। যে আবেদনে আম্পায়ার নাইজেল লং সাড়া দিলে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের আউটের পর ফিরে গেলেন যে মুশফিকুর রহিমও। অধিনায়কের দায়িত্বটা ঠিকঠাক পালন করতে পারলেন তিনি, আউট হয়ে গেলেন ১৮ রান করে। মাঠের আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়েছিলেন মুশফিক। তাতে অবশ্য কাজ হলো না। টিভি রিপ্লেতে ধরা পড়ে প্যাডে লাগা বলটা আঘাত করছে সরাসরি উইকেটে। অধিনায়কের বিদায়ে বাংলাদেশ হারায় ষষ্ঠ উইকেট।
তার আউটের পর মিরাজকে নিয়ে ভালো একটা জুটি দাঁড় করিয়ে ফেলেছিলেন নাসির। কিন্তু আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে বলি হয়ে মিরাজ ১৮ রান করে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। খানিক পর আউট হলে যায় দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা নাসির (২৩)।
শেষের মতো শুরুটাও আশা জাগানিয়া ছিল না বাংলাদেশের। মিরপুর টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং শুরু করলেও প্যাট কামিন্সের দ্বিতীয় ওভারে শুরুতেই বাইরের বল খোঁচা মেরেছিলেন ওপেনার সৌম্য সরকার। গালিতে ক্যাচ ধরে তার সাজঘরে ফেরা নিশ্চিত করেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব।
এরপর চতুর্থ ওভারে ফের আঘাত হানেন কামিন্স। জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। ভারসাম্য না রাখাতে বটম এজ হয়ে ম্যাথু ওয়েডের গ্ল্যাভসবন্দী হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। হতাশার এখানেই শেষ নয়। পরের বলে গ্ল্যাভসবন্দী হন সাব্বির রহমানও। যদিও আম্পায়ার আলিম দারের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেননি সাব্বির। ব্যাট মাটিতে স্পর্শ করেছিল, সন্দেহ থাকায় রিভিউ নেন। কিন্তু টিভি আম্পায়ার আগের সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন।-বাংলা ট্রিবিউন