সাকিব মাঠে থাকবে না একবছর ক্রিকেটের জন্যই বিশাল ক্ষতি

আপডেট: অক্টোবর ৩১, ২০১৯, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

সাকিবের মতো এর আগে জয়সুরিয়াসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের নিষেধাজ্ঞা হয়েছে। আইসিসি কোনো দিন শাস্তি কমায়নি। তাই সাকিবের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই। তবে সাকিব যদি ভালোভাবে আইসিসিকে সহযোগিতা করে। তাহলে দ্বিতীয় বছর থেকে তার চিরচেনা ক্রিকেটাঙ্গনে ফিরতে পারবে।
বাংলাদেশের কাছে ভারত সফরের চেয়েও বড় বিষয় এখন সাকিব। কারণ বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় একটা ধাক্কা খেয়েছে। তাই একটা সফরের চেয়ে সাকিব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ফর্মের তুঙ্গে থাকা সাকিবের একবছর না থাকাটা শুধু বাংলাদেশ নয়, ক্রিকেটের জন্যই বিশাল ক্ষতি। তবে সাকিব কথা দিয়েছেন, তিনি আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবেন। তবে সেই ফিরে আসার জন্য তিনি সবার সহায়তা চেয়েছেন। আসলেই এই দুঃসময়ে সবাইকে তার পাশে থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমজনতা সবাই সাকিবের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। আমরা সবাই আছি সাকিবের পাশে, ক্রিকেটের পাশে। তাই সাকিবের এ খবরে স্তম্ভিত হয়ে গোটা বাঙালি জাতি। তাই তো তার নিষেধাজ্ঞায় গতকাল রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন করেছে। তারা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ভালোবাসেন, ভালোবাসেন সাকিবকে। এজন্য আগামী দিনের খেলোয়াড়দের জন্য আইসিসির কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে সাকিব বলেছেন, ‘যে খেলাটি ভালোবাসি, সেখান থেকে নিষিদ্ধ হয়ে আমি অবশ্যই অসম্ভব কষ্ট পাচ্ছি। কিন্তু আমার কাছে অনৈতিক প্রস্তাব আসার পরও না জানানোর ফলে আমার শাস্তি আমি মেনে নিয়েছি। আইসিসির দুর্নীতিবিষয়ক কমিটির দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করে। এ ঘটনায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করতে পারিনি।’ ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল না করার অঙ্গীকার করে সাকিব বলেছেন, ‘বিশ্বের অধিকাংশ ক্রিকেটার ও সমর্থকের মতো আমিও চাই দুর্নীতিবিরোধী খেলার পরিবেশ। আমি আইসিসির দুর্নীতিবিষয়ক কমিটির সঙ্গে এ ব্যাপারে কাজ করার অপেক্ষায় আছি। তরুণ ক্রিকেটারদের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেব এবং নিশ্চিত করতে চাই, তরুণ ক্রিকেটাররা আমার ভুল থেকে শিক্ষা নেবে।’ এটাই আসল কথা। সাকিবরা আমাদের শিশুদের, তরুণদের আদর্শ। তারা যেন কোনো ভুল বার্তা না পায়। তাই আমাদের চাওয়া একবছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাকিব ফিরে আসুক শুদ্ধ হয়ে, সবার আইডল হয়ে।
এর আগে একবছর তিনি কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। আর পরের এক বছর হলো, স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। পরের বছরটায় তিনি পর্যবেক্ষণে থাকবেন। এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত। সাকিব বাংলাদেশের জন্য কতটা, সেটা গত বিশ্বকাপে গোটা বিশ্ব দেখেছে। নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী ব্রিফিঙে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনও বলেছেন, সাকিব এমন একজন খেলোয়াড়, যার কোনো বিকল্প নেই। আসলেই সাকিব মানে দুইজন সেরা খেলোয়াড়। কখনো কখনো সাকিব একইসঙ্গে দলের সেরা ব্যাটসম্যান ও সেরা বোলার। এমন একজন খেলোয়াড়ের আসলে বিকল্প হয় না। কিন্তু নিজের ভুলে সাকিব আজ ক্রিকেট থেকে দূরে। সাকিবের না থাকাটা বড় ধাক্কা, কিন্তু ভারত সিরিজের ঠিক আগে হওয়াতে ধাক্কাটা আরো অনেক বড় হয়ে এসেছে। সাকিব নেই, তামিম নেই; দল ছন্নছাড়া। নতুন অধিনায়ক। সব মিলিয়ে ভারত সফরটা বিপর্যয়ের হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। ভারত সফরের আগের দিনেই সাকিবের নিষেধাজ্ঞাটা কোনো বড় ষড়যন্ত্রের অংশ কি-না আলোচনা আছে তা নিয়েও। তাই আমরা ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর দিনটার অপেক্ষায় থাকি। আমাদের সাকিব আবার রাজার বেশে মাঠে ফিরবে আসবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ