সাকিব-মুশফিকের ব্যাটে বাংলাদেশের বিশাল সংগ্রহ

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৭, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটন টেস্টের দ্বিতীয় দিন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড জুটিতে বিশাল সংগ্রহ গড়ছে বাংলাদেশ।
ক্যারিয়ারের প্রথম দ্বিশতক পেলেন সাকিব আল হাসান। অবশেষে নিউজিল্যান্ডে রান পেলেন মুশফিকুর রহিম। দুই জন পঞ্চম উইকেটে গড়লেন রেকর্ড ভাঙা এক জুটি। তাতে প্রথম ইনিংসে বিশাল সংগ্রহ গড়ছে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৫৪২/৭। ১০ রানে ব্যাট করছেন সাব্বির রহমান। অতিথিরা আর কতদূর যাবে তা নির্ভর করছে এই তরুণের ওপর।
শেষ সেশনে তিন উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ২১৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলে ফিরেন সাকিব আল হাসান। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বিদায় নেন ১৫৯ রান করে। দিনের শেষ বলে আউট হন তরুণ মেহেদী হাসান মিরাজ। দিনের প্রথম সেশনে ১১৫ ও দ্বিতীয় সেশনে ১২২ রান যোগ করে বাংলাদেশ।
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের আলো ঝলমলে দিনে রান দেওয়ার শতক করেছেন নিল ওয়াগনার (৩/১২৪), ট্রেন্ট বোল্ট (২/১২১) ও টিম সাউদি (২/১৪৪)।
দিনের শেষ বলে মিরাজ আউট : দিনের শেষ বলে আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজ। দেশের বাইরে নিজের প্রথম ইনিংসে এই তরুণ ফিরেন শূন্য রানে। নিল ওয়াগনারের বলে টিম সাউদি স্লিপে ক্যাচ নেওয়ার সময় ১৩৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৫৪২/৭।
রেকর্ড গড়ে ফিরলেন সাকিব :  বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দিয়ে ফিরেন সাকিব আল হাসান। নিল ওয়াগনারের বলে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। দলের স্কোর তখন ৫৩৬/৬। ২৭৬ বলে ২১৭ রান করতে ৩১টি চার হাঁকান সাকিব। এই ইনিংসেই টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি।
সাকিবের আউটের পর ছুটে এসে তার সঙ্গে হাত মেলান নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়রা।
তামিমকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ ইনিংস সাকিবের : তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ এখন সাকিব আল হাসানের। ১ রান নিয়ে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ২০৬ রানকে ছাড়িয়ে যান তিনি। সাকিব রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার পর দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে সতীর্থকে অভিনন্দন জানান তামিম।
গাপটিল-ম্যাককালামকে ছাড়িয়ে সাকিব-মুশফিক : বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজে যে কোনো জুটিতে সর্বোচ্চ রান এখন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের। ৩৫৯ রানের জুটিতে তারা পেছনে ফেলেন মার্টিন গাপটিল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। নিউজিল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যান ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে ষষ্ঠ উইকেটে গড়েছিলেন ৩৩৯ রানের জুটি।
অধিনায়কের বিদায়ে ভাঙলো রেকর্ড জুটি : মুশফিকুর রহিমকে আউট করে করে ৮২.২ ওভার স্থায়ী ৩৫৯ রানের বিশাল জুটি ভাঙেন ট্রেন্ট বোল্ট। অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিংকে ক্যাচ দেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।  ২৬০ বলে ২৩টি চার ও একটি ছক্কায় ১৫৯ রান করেন মুশফিক। শেষ বিকেলে অধিনায়কের ফেরার সময় দলের স্কোর ৫১৯/৫।
সাকিবের দ্বিশতক : কাট করে চার হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো দ্বিশতকে পৌঁছান সাকিব আল হাসান। টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্বিশতক পেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।  ২৫৩ বলে দ্বিশতকে যেতে ৩০টি চার হাঁকান সাকিব। সে সময় অন্য প্রান্তেই ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্বিশতক করা মুশফিকুর রহিম।
সাকিব-মুশফিকের ২ হাজার রান : তামিম ইকবাল-ইমরুল কায়েসের পর টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় জুটি হিসেবে দুই হাজার রান স্পর্শ করেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম।
টেস্টে তাদের জুটির শতক আছে তিনটি, অর্ধশতক ১৪টি। ৪৮ ইনিংসে ইমরুল-তামিমের রান ২ হাজার ২২৯।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ : ট্রেন্ট বোল্টের বলে মুশফিকুর রহিমের চারে পাঁচশ ছাড়ায় বাংলাদেশের সংগ্রহ। এক রান নিয়ে দলকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ এনে দেন অধিনায়ক। ১২২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫০৩/৪।  নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে করা ৫০১ রান।
আবার জীবন পেলেন সাকিব : ৪ রানে মিচেল স্যান্টনার ছাড়েন সহজ ক্যাচ। ১৩৭ রানে ক্যাচ নিয়েও মাটিতে বল ছোঁয়ান উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিং। ভাগ্যকে পাশে পাওয়া সাকিব আল হাসানকে আবার জীবন দেন রস টেইলর। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়ার সময় বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ছিলেন ১৮৯ রানে।
মুশফিকের ছক্কায় জুটির রেকর্ড : টেস্টে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়তে কেন উইলিয়ামসনকে ছক্কা হাঁকান মুশফিকুর রহিম; পঞ্চম উইকেটে রান হয় ৩১৬। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ জুটি ছিল তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের অধিকারে। এই দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে তুলেছিলেন ৩১২ রান।
সাকিব-মুশফিক জুটির তিনশ’ : ১১২তম ওভারের শেষ বলে নিল ওয়াগনারের বলে মুশফিকুর রহিমের ১ রানে তিনশ’ স্পর্শ করে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তার পঞ্চম উইকেট জুটি। ইমরুল কায়েস-তামিম ইকবালের ৩১২ রানের পর এই প্রথম কোনো উইকেটে তিনশ’ রানের জুটি দেখল বাংলাদেশ। ৪১২ বলে তিনশ’ স্পর্শ করেন সাকিব-মুশফিক। এর আগে ১৭৮ বলে জুটিতে একশ’ ২৯৬ বলে দুইশ’ রান করেন তারা।
এবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ : দারুণ এক জুটিতে রেকর্ডের অনেক পাতায় নিজেদের নাম বসান সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এখন তাদের অধিকারে। ১৯৭৬ সালের অক্টোবরে লাহোরে জাভেদ মিয়াদাদ ও আসিফ ইকবালের ২৮১ ছিল পঞ্চম উইকেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের সর্বোচ্চ। সেই রান ছাড়িয়ে জুটি আর বড় করছেন সাকিব-মুশফিক।
পঞ্চম উইকেটে নিউজিল্যান্ডে সেরা জুটি : পঞ্চম উইকেটে নিউজিল্যান্ডে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড এখন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের। ১৯৯৪ সালে এই মাঠেই স্বাগতিকদের বিপক্ষে ইনজামাম-উল-হক ও সেলিম মালিকের ২৫৮ ছিল আগের সেরা। ১০৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৪৩৫/৪। জুটির রান ২৭৫। টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি এখন এটি। পঞ্চম উইকেটে রানের দিক থেকে এটাই সেরা। ২০১৩ সালে গলে মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে মুশফিকের ২৬৭ ছিল আগের সেরা। সেই ম্যাচেই বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্বিশতক করেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।
সাকিবের ক্যারিয়ার সেরা : নিল ওয়াগনারকে চার হাঁকিয়ে সাকিব আল হাসান পেছনে ফেলেন টেস্টে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসকে। ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের ১৪৪ ছিল তার আগের সেরা। ১০৭ ওভার শেষে তার রান ১৪৯।
সামনে কেবল গলের ৬৩৮ : দেশের বাইরে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ। নিল ওয়াগনারের বলে মুশফিকুর রহিমের চারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০০৪ সালে সেন্ট লুসিয়ায় করা ৪১৬ রানকে ছাড়িয়ে যায় তারা। দেশের বাইরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৩ সালে গলে করা ৬৩৮ রান।
সাকিব-মুশফিক জুটির আড়াইশ’ : ১৬০ রানে প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে হারানো বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে এই দুই জনে গড়েন আড়াইশ’ রানের জুটি। ৩৬০ বলে আসে সাকিব-মুশফিকের ২৫০। এই রানে সাকিবের অবদান ১২৫, মুশফিকের ১২১। টেস্টে বাংলাদেশের এর চেয়ে বড় জুটি আছে আর মাত্র দুটি।
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ : সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ। হ্যামিল্টনে ২০১০ সালে করা ৪০৮ রান ছাড়িয়ে সংগ্রহ আরো বিশাল করার পথে আছে অতিথিরা।
বাংলাদেশের চারশ’ পার : নিল ওয়াগনারের বলে সাকিব আল হাসানের চারে চারশ’ পার হয় বাংলাদেশের সংগ্রহ। নিউজিল্যান্ডে এর আগে একবারই চারশ’ রান করে তারা। ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে করা সেই ৪০৮ রান ছাড়িয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। ১০৩ ওভার শেষে মুশফিকদের স্কোর ৪০৭/৪।
দুর্দান্ত এক সেশন! : চলতি টেস্টে এই প্রথম কোনো সেশনে উইকেট হারাল না বাংলাদেশ। লাঞ্চ থেকে টি-ব্রেক পর্যন্ত ১২২ রান তুলেছেন করছেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। দুই জনই পেয়েছেন নিজেদের চতুর্থ শতক। চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৯১/৪। সাকিব ১২৬ ও মুশফিক ১১২ রানে অপরাজিত।  এর আগে দিনের প্রথম সেশনে মুমিনুল হকের উইকেট হারিয়ে ১১৫ রান যোগ করে বাংলাদেশ।
নিউজিল্যান্ডে প্রথম ‘১০০ ওভার’ : নিউজিল্যান্ডে এই প্রথম কোনো টেস্টে এক ইনিংসে একশ’ ওভার খেলল বাংলাদেশ। এর আগে সবচেয়ে কাছাকাছি যায় ২০১০ সালে। সেবার হ্যামিল্টনে ৯৭.৩ ওভারে ৪০৮ রান করে তারা।  ১০০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩৮৯/৪।
দ্বিতীয় নতুন বলে চড়াও বাংলাদেশ : দ্বিতীয় নতুন বলে আশা পূরণ হয় নি নিউজিল্যান্ডের। জুটি ভাঙতে ৮০ ওভার শেষ হতেই নতুন বল নেন কেন উইলিয়ামসন। তবে এই সময়ে আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ১৮ ওভারে ১০২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে শেষ ১০ ওভারে আসে ৬১ রান। শতকে পৌঁছান দুই ব্যাটসম্যান।
এবারই প্রথম : এই প্রথম কোনো টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের চারজন পঞ্চাশ বা তার বেশি রান করলেন। তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হক অর্ধশতক করে ফিরে যান। তবে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম পৌঁছান শতকে।

সাকিবের পর মুশফিকের শতক : মুশফিকুর রহিম নিউজিল্যান্ডে নিজের প্রথম অর্ধশতকটাকে শতকে পরিণত করলেন। টিম সাউদির বল ছেড়ে দিতে চাইলেও ব্যাটের কানা লেগে চার হলে নিজের চতুর্থ শতকে পৌঁছান অধিনায়ক। ১৭৯ বলে রান তিন অঙ্কে নিতে ১৭টি চার হাঁকান তিনি। নিউজিল্যান্ডে নিজের আগের ৬ ইনিংসে সব মিলিয়ে ৫০ রান করেছিলেন মুশফিক। এই শতকে মুমিনুল হক ও সাকিব আল হাসানের পাশে বসলেন মুশফিক। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে তাদের চেয়ে বেশি শতক আছে কেবল মোহাম্মদ আশরাফুল (৬টি) ও তামিম ইকবালের (৮টি)।
সাকিব-মুশফিক জুটির দুইশ’ : ১৬০ রানে প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে হারানো বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে এই দুই জন গড়েন দুইশ’ রানের জুটি। ৭৮ বলে আসে তাদের অর্ধশতক। ১৭৮ বলে রান যায় তিন অঙ্কে। দেড়শ’ রান করতে খেলেন ২৪২ বল। টেস্টে বাংলাদেশের ষষ্ঠ দুইশ’ ছোঁয়া জুটি গড়তে খেলেন ২৯৬ বল। দুইশ’ রানের জুটিতে মুশফিকের অবদান ৯৭ রান, সাকিবের ১০০।
সাকিবের দুর্দান্ত শতক : ৯০ এর ঘরে স্নায়ু চাপে একটুও ভুগলেন না সাকিব আল হাসান। দুটি চার, একটি দুই আর শেষটায় ১ রান নিয়ে তিন অঙ্কে পৌঁছান এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ১৫০ বলে আসে সাকিবের চতুর্থ শতক। ১৩টি চার হাঁকান তিনি। হাবিবুল বাশারকে (৩ হাজার ২৬) ছাড়িয়ে এখন টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সাকিবের। বাংলাদেশের হয়ে বেশি টেস্ট রান আছে কেবল তামিম ইকবালের (৩ হাজার ৪০৫)।  নিউজিল্যান্ডে টানা দ্বিতীয় শতক পেলেন সাকিব। ২০১০ সালে সবশেষ ইনিংসে ১০০ রান করেছিলেন এই অলরাউন্ডার। এই শতকে মুমিনুল হকের পাশে বসলেন সাকিব। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে তাদের চেয়ে বেশি শতক আছে কেবল মোহাম্মদ আশরাফুল (৬টি) ও তামিম ইকবালের (৮টি)।
নিউজিল্যান্ডের ব্যর্থ রিভিউ : উইকেটের জন্য মরিয়া নিউজিল্যান্ড রিভিউ নেয় সাকিব আল হাসানের থাই প্যাডে লেগে উইকেটরক্ষকের কাছে যাওয়া ক্যাচের। রিপ্লেতে দেখা যায় ব্যাটের কানা নেয় নি বল। ব্যর্থ হয় স্বাগতিকদের রিভিউ। ৮৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩৩২/৪।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি : সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেরা জুটি পায় বাংলাদেশ। ২০০৮ সালে ডানেডিনে জুনায়েদ সিদ্দিকের সঙ্গে তামিম ইকবালের ১৬১ রানের উদ্বোধনী জুটির রান ওয়েলিংটনে ছাড়িয়ে যান সাকিব-মুশফিক। ৮৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩২৩/৪। সাকিব-মুশফিক জুটির রান তখন ১৬৩।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেরা পঞ্চম উইকেট জুটি : টিম সাউদির বলে মুশফিকুর রহিমের টানা দুই চারে পঞ্চম উইকেটে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তার দারুণ জুটি দেড়শ’ ছাড়ায়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে এটি বাংলাদেশের সেরা জুটি। পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের আগের সেরা জুটিতেও ছিলেন মুশফিক। ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে তার সঙ্গে ১৪৪ রানের দারুণ জুটি গড়েছিলেন মেহরাব হোসেন জুনিয়র।
বাংলাদেশের তিনশ’ পার : টিম সাউদির বলে সাকিব আল হাসানের চারে তিনশ’ পার হয় বাংলাদেশের সংগ্রহ। নিউজিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এর চেয়ে বড় আর একটি ইনিংসই আছে তাদের। ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের ৪০৮ রান।
৮৪ ওভার শেষে বাংলাদেশর সংগ্রহ ৩১২/৪।
দ্বিতীয় নতুন বল : ৮০ ওভার শেষ হতেই দ্বিতীয় নতুন বল নেন কেন উইলিয়ামসন। সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের জমাট জুটি ভাঙতে বাঁহাতি পেসার ট্রেন্ট বোল্টকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক। ৮০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২৮৫/৪।
হাবিবুল-তামিমের পর সাকিব : বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে তিন হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব আল হাসান। ২ হাজার ৯২৯ রান নিয়ে ওয়েলিংটন টেস্ট শুরু করেন সাকিব। মিচেল স্যান্টনারের বলে এক রান তাকে পৌঁছে দেয় তিন হাজারে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে হাবিবুল বাশার সবার আগে তিন হাজার রানের মাইলফলকে যান। তার পরে ছিলেন কেবল উদ্বোধনী তামিম ইকবাল। এবার যোগ দিলেন সাকিবও।
সাকিব-মুশফিকের ব্যাটে দারুণ প্রথম সেশন : দিনের শুরুতে মুমিনুল হককে হারালেও দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন বাংলাদেশের। এ সময়ে ১ উইকেট হারিয়ে ১১৫ রান যোগ করে অতিথিরা। সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের দারুণ জুটিতে এসেছে শতরান। অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে তাদের ১০৯ রানে মুশফিকের অবদান ৫৩। নিউজিল্যান্ডে এটাই তার প্রথম অর্ধশতক। নিউজিল্যান্ডে নিজের শেষ ইনিংসে শতক পাওয়া সাকিব অপরাজিত ৬৬ রানে। দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ২৬৯/৪। এর মধ্যে ১৭০ রান এসেছে বাউন্ডারি থেকে।
সাকিব-মুশফিকের শত রানের জুটি : ট্রেন্ট বোল্টের বলে স্লিপ আর গালির মাঝ দিয়ে সাকিব আল হাসানের চারে একশ’ পার হয় মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তার পঞ্চম উইকেট জুটির। দুই জনে শতরান করতে খেলেন ১৭৮ বল। এর আগে ৮৬ বলে এসেছিল তাদের পঞ্চাশ। নিউজিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় শতরানের জুটি। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্যতম সফল সাকিব-মুশফিক জুটিরও তৃতীয়।
নিউজিল্যান্ডে মুশফিকের প্রথম অর্ধশতক : মিচেল স্যান্টনারকে চার হাঁকিয়ে নিউজিল্যান্ডে প্রথমবারের অর্ধশতক করেন মুশফিকুর রহিম। দেশটিতে আগের ৬ ইনিংসে সব মিলিয়ে ৫০ রান করেছিলেন তিনি। পঞ্চাশ স্পর্শ করতে ৭টি চার হাঁকান বাংলাদেশের অধিনায়ক। বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকের জন্য নিউজিল্যান্ড সফর মানেই যেন ছিল হতাশার। পাঁচ ইনিংসে দুই অঙ্কেই যেতে পারেন নি তিনি। অধিনায়ক হিসেবে এখানে নিজের প্রথম ইনিংসেই পেলেন অর্ধশতক। নিউজিল্যান্ডে মুশফিকের আগের তিন টেস্টে ছয়টি ইনিংস ৭, ৬, ৮, ০, ৭, ২২ রানের।
অবশেষে স্পিন : অলরাউন্ডারসহ চার পেসার নিয়ে খেলা নিউ জিল্যান্ড দলে বিশেষজ্ঞ স্পিনার মিচেল স্যান্টনার। সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিমের জমে যাওয়া জুটি ভাঙতে ৬৯তম ওভারে প্রথমবারের মতো বাঁহাতি স্পিনারকে আক্রমণে আনেন কেন উইলিয়ামসন।
সাকিবের অর্ধশতক : আগের দিন জীবন পাওয়া সাকিব আল হাসান দারুণভাবে সুযোগ কাজে লাগান। টিম সাউদিকে চার হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের ২০তম অর্ধশতকে পৌঁছান তিনি। ৮৬ বলে পঞ্চাশে যাওয়া বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের ৩২ রানই আসে চার থেকে। নিউজিল্যান্ডে টেস্টে এনিয়ে টানা তিন ইনিংসে পঞ্চাশ পার হলেন তিনি। ৬৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২৪১/৪।
সাকিব-মুশফিকের অর্ধশত রানের জুটি : কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের বলে মুশফিকুর রহিমের ঝুঁকিপূর্ণ চারে পঞ্চাশ স্পর্শ করে তার সঙ্গে সাকিব আল হাসানের পঞ্চম উইকেট জুটি। লাফিয়ে একটুর জন্য দ্বিতীয় স্লিপে বল পান নি জিত রাভাল। টেস্টে এটি সাকিব-মুশফিক জুটির পঞ্চদশ অর্ধশতক। দুটি শতরানের জুটিও আছে তাদের। নিউজিল্যান্ডে এই প্রথম বাংলাদেশের পঞ্চম উইকেট জুটি অর্ধশতক পেল। আগের সেরা ছিল ২০০১ সালে হ্যামিল্টনে হাবিবুল বাশার ও সানোয়ার হোসেনের ২৬। সাকিব-মুশফিক জুটির অর্ধশতক হয়েছে ৮৬ বলে। ৫৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২১০/৪।
বাংলাদেশের দুইশ’ পার : নিল ওয়াগনারের বলে মুশফিকুর রহিমের চারে দুইশ’ পার হয় বাংলাদেশের সংগ্রহ। ৫৫ ওভার শেষে দলটির স্কোর ২০৬/৪। নিউজিল্যান্ডে এই প্রথম কোনো টেস্টে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দুইশ’ পার হল বাংলাদেশর সংগ্রহ। আগের সর্বোচ্চ ছিল এই মাঠেই করা ১৪৩। সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডে পাঁচবার দুইশ’ পার হল বাংলাদেশের সংগ্রহ।
সকালেই ফিরলেন মুমিনুল : দিনের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। কোনো রান যোগ না করেই ফিরে যান মুমিনুল হক। দারুণ এক ডেলিভারিতে বিপজ্জনক মুমিনুলকে ফেরান টিম সাউদি। ভেতরে ঢোকা বলে একটু বাড়তি বাউন্সও ছিল। প্রথম দিন এই ধরনের বেশিরভাগ বল ছেড়ে দেওয়া বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এবার খেলতে যান। ঠিকঠাক পারেননি, বাইরের কানা নিয়ে জমা পড়ে বিজে ওয়াটলিংয়ের গ্লাভসে। এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১৬০/৪।
আধ ঘণ্টা আগে দিন শুরু : ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে ৩ উইকেটে ১৫৪ রান নিয়ে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিন বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার জন্য প্রায় ৫০ ওভার কম খেলা হয়। তাই এদিন নির্ধারিত সময়ের আধ ঘণ্টা আগে দিনের খেলা শুরু হয়।-বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ