বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

‘সাগরসহ হলি আর্টিজানে হামলাকারীরা জঘন্য অপরাধ করেছে’: সাগরের মা

আপডেট: November 28, 2019, 1:13 am

জয়পুরহাট প্রতিনিধি


রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে হাদিসুর রহমান সাগরও একজন। হাদিসুর রহমান সাগর জয়পুরহাট সদর উপজেলার আমদই ইউনিয়নের কয়রাপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ডা. হারুনূর রশিদের ছেলে। তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে মেঝ ছেলে সাগর ২০০৫ সালে কয়রাপাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করলেও ২০০৭ সালে বানিয়াপাড়া মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করতে পারে নি। এরপর কিছু দিন ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করে।
সাগরের মা আছিয়া বেগম জানান- ‘হলি আর্টিজান ট্রাজেডির বেশ কয়েক বছর আগে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয় সাগর। মাঝে মধ্যে বাড়ি আসলে তার চালচলনে বেশ পরিবর্তন দেখা যায়। পরে জানা যায়, সে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।’ সরেজমিনে জানা যায়, সাগর এর বাবা পল্লী চিকিৎসক ডা. হারুনূর রশিদ বয়সের ভারে নূয়ে পড়েছেন। এখন তিনি ঠিকমত চোখেও দেখতে পান না, চলাফেরায়ও করতে পারে না, কারো সঙ্গে কথাও তেমন বলেন না। সাগরের বড় ভাই ঢাকায় গার্মেন্টেস্ েও ছোট ভাই জাহাজ কোম্পানিতে চাকরি করেন। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। অস্বচ্ছলতার কারণে সাগরের মা বাড়িতেই ছোট একটি মুদি দোকান দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালান। সাগর গ্রেফতার হওয়ার পর কিছুদিন পর তার বড় বোন হাদিয়া ও ছোট মেয়ে আতিয়া কয়রাপাড়া গ্রামে দাদার বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে।
সাগরের মা আছিয়া বেগম আরো বলেন, ‘গ্রামের মানুষের মাধ্যমে জানতে পারলাম আমার ছেলেসহ বেশ কয়েক জন বিপথগামী যুবক হলি আর্টিজানে হামলা চালিয়েছে। এরা অবশ্যই অপরাধী।’ কয়রাপাড়া এলাকার গ্রামবাসী নাজমূল হোসেন বলেন, ‘বরাবরই পরিবারটি ছিল অস্বচ্ছল। এরমধ্যে কীভাবে ছেলেটা জঙ্গি কাজে জড়িয়ে গেল জানতেও পারলাম না। জড়িত থাকলে অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত।’
আমদই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহানূর আলম সাবু জানান, ‘ছেলেটা অনেকদিন ধরে এলাকা ছাড়া ছিল। পরে আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানতে পারি। আজ তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে এটাও মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ