সাত হত্যা মামলার রায় ।। মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করেছে

আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০১৭, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায়  ঘোষণা হয়েছে সোমবার। সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও সাবেক তিন র‌্যাব কর্মকর্তাসহ ২৬ আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। এ মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি নয়জনকে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদ-। নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন সোমবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে জনাকীর্ণ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়।
একই সময়ে একই স্থানে আরেকটি গাড়িতে থাকা নারায়ণগঞ্জ আদালতের প্রবীণ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার চালককে অপহরণ করা হয়।
ঘটনার তিন দিন পর বন্দর উপজেলা শান্তির চর এলাকায় শীতলক্ষ্যা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সাত জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যেকের পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন; প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দুটি করে বস্তায় বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
মামলার ২৩ আসামি রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকি ১২ জনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েননি। রায় ঘোষণার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলামের সমর্থক এবং আইনজীবী চন্দন সরকারের সমর্থকরা আদালতের বাইরে উল্লাসে ফেটে পড়েন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকা- শুধু দেশেই নয় সারা বিশ্বের মিডিয়া স্থান পায়। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধতন কমকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করে। হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে সারা দেশের মানুষ সোচ্চার হয়ে উঠে। সরকারও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়ায় সরকারের আন্তরিকতা ছিল প্রশ্নাতীত। মামলাকে কোনো অবস্থাতেই ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে বিবেচনা না করে আইনকে নিজের মত করে চলতে দেয়ার সব ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এই হত্যা মামলার রায় নিঃসন্দেহে মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করেছে।
রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মন্তব্য করেছেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কিংবা অন্য যে কেউই হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, অপরাধ করলে কেউ পার পাবে না, সবারই বিচার হবে। এ রায়ের মাধ্যমে এই মেসেজই পৌঁছে দেয়া হয়েছে।’
এমনকি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুও রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্যে, মানুষের ভেতরে যে আতঙ্ক, যে অসহায়ত্ব, সেই অসহায়ত্বটা দূর করার জন্য নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন মামলার রায় প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, বিচারিক আদালতের রায় যাতে উচ্চ আদালতে বহাল থাকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ দেশের বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার রায় দেশে আইনের শাসনের পথকে সুপ্রশস্ত করেছে। অপরাধ করলে যে শাস্তি পেতেই হবে এমন বোধ আমাদের বিচার বিভাগ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করতে পেরেছে। প্রকৃত অর্থেই বলা যায়, নারায়ণগঞ্জের হত্যা মামলার রায় মানুষের মধ্যে বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে আস্থার সৃষ্টি করেছে। বিচার নিয়ে মানুষের মধ্যে হতাশা ও অসহায়ত্ব দূর করতে এই মামলার রায় ভূমিকা রাখবে। আমরা আশা করি এই রায় উচ্চ আদালতও বহাল থাকবে। এর জন্য রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবে এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ