সাত হাজার বিঘা জমি অনাবাদি হবার আশঙ্কা || আইন ভেঙে পুকুর খনন

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০১৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :



রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন জুড়ে অবস্থিত বিলপাতিকুলা ও বামলাহাল এলাকায় আইন ভঙ্গ করে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ধানি জমিতে পুকুর খনন করায় ইতোমধ্যেই ৫০০ বিঘা জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকদের বাধা সত্ত্বেও এখনো পুকুর খনন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী এক বছরের মধ্যেই ওই এলাকার প্রায় সাত হাজার বিঘা জমি অনাবাদি হয়ে পড়বে। এতে করে খাদ্য সংকট দেখা দিবে, বেকারত্ব বাড়বে এবং মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কৃষকরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একাধিকবার ৫০০ কৃষক পুকুর খনন বন্ধের দাবিতে আবেদন করলেও তাতে কর্ণপাত করে নি প্রশাসন। এ কারণে সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
লিখিত বক্তব্যে কৃষক ইবনে জাকারিয়া বলেন, বিলপাতিকুলা ও বামলাহাল মৌজায় অসংখ্য পুকুর খনন করা হয়েছে। কিন্তু একটি পুকুরের সাথে অন্য পুকুরের পাড়ের সংযোগ কপাট না থাকায় উজান থেকে পানি ভাটিতে যাচ্ছে না। ফলে পানির অভাবে ফসল ফলানো হচ্ছে না ওইসব এলাকায়। প্রায় ৫০০ বিঘা জমি ইতিমধ্যেই অনাবাদি হয়ে পড়েছে। আরো সাত হাজার বিঘা জমি অনাবাদি হওয়ার পথে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করলেও যে পরিমাণ শ্রমিক প্রয়োজন পড়ে ৩০ বিঘার পুকুরেও সেই পরিমাণ শ্রমিক লাগে না। ফলে পুকুর খনন করায় কৃষির উপর নির্ভরশীল অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এছাড়া ওই এলাকায় খাদ্য সংকটও দেখা দিচ্ছে। বাইরে থেকে ধান-চাল কিনে আনতে হচ্ছে তাদের।
জাকারিয়া ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস সামাদ, শাহীন আলম, সামসুল হোদা, বেলাল আহমেদ, আব্দুস সালাম, মনসুর আলী, সিদ্দিক হোসেন, রফিকুল ইসলাম, লুইস সরেনসহ অর্ধশতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ