সাদা পোশাকে আদিবাসির বাড়িতে তল্লাশি করে ৩০ হাজার টাকা লুট || মুণ্ডুমালা ফাঁড়ির এসআই ক্লোজ

আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০২০, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি


রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের বনকেশ ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে বাড়ি মাদক আছে এমন কথা বলে এক আদিবাসীর বাড়ি তল্লাশি করে সাদা পোষাকে থাকা মুণ্ডুমালা তদন্ত কেন্দ্রে এসআই আনোয়ার ও দুইজন পুলিশ সদস্য। তল্লাশি করে মাদক না পেলেও বাড়িতে থাকা ৩০ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায় তারা।
ঘটনাটি ঘটেছে বনকেশর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত জলপাই মুন্সির ছেলে বিশ্বনাথের বাড়িতে। ঘটনার দিন ছিল ২৭ ডিসেম্বর দুপুরের। ঘটনার সময় বাড়ির মালিক বিশ্বনাথ পারিবারিক কাজে রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন। তকে তার স্ত্রী বাড়িতে থাকলেও তাকে বাড়ি থেকে বাইরে রেব করে তল্লাশি করেন।
এমন ঘটনায় বিশ্বনাথ ২৮ ডিসেম্বর জেলা পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে ঘটনা তদন্ত শুরু করেন পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে ৩০ ডিসেম্বর রাতেই মুণ্ডুমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে থেকে এসআই আনোয়ারকে ক্লোজ করে রাজশাহী পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। তবে সঙ্গে থাকা দুই পুলিশ সদস্য বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
বিশ্বনাথ বলেন, আমি মাদক ব্যবসা করিনা। বাড়িতে দুইটি শুকর বিক্রির ৩০ হাজার টাকা ছিল। এটি প্রতিবেশিরাও জানে। পুলিশ শুধু তার টাকা নিতেই স্থানীয় দালাল নিয়ে বাড়ি তল্লাশি করে টাকা নিয়ে গেছে।
বিশ্বনাথ আরো বলেন, তানোর থানায় এসআই আনোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার পরেই স্থানীয় লোকজনদের ম্যানেজ করে এসআই আনোয়ার ৩০ হাজার টাকা ফেরত দিতে চান। তদন্ত হলে যেন তিনি স্বীকার না করেন বলে হুমকি দেন। তাই তার দেয়া ৩০ হাজার টাকা ফেরত নেই নি।
পরে রাজশাহীর জেলা পুলিশের গোদাগাড়ী সার্কেল স্যার এসে তদন্ত করেন। গ্রামের ইউপি সদস্যের মাধ্যমে এসআই আনোয়ারের কাছে থেকে উদ্ধার করা ৮ হাজার টাকা ফেরত দিলেও বাকি ২২ হাজার টাকা এখনও পাইনি।
গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল বলেন, এসআই আনোয়ার শুদু বিশ্বনাথের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে থেমে থাকে নি। এঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে গ্রামে রিয়াজ আলী (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে মাদক খাওয়ার অপবাদ দিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই আনোয়ারে সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
তানোর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, এসআই আনোয়ারের বিষয়টি সরাসরি এসপি স্যার দেখছেন। ক্লোজের বিষয়ে তিনি বলেন, এ তানোর থানা তার দুই বছর বেশি সময় হয়ে গেছে তাই নিয়মিত বদলি হিসেবে তাকে বদলি হয়ে থাকতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ