সান্তাহার জংশন রেল স্টেশনে থাকা শতাধিক ভাসমানদের খাওয়াচ্ছেন স্থানীয়রা

আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০২০, ২:২০ অপরাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


সান্তাহার জংশন রেল স্টেশনে থাকা ভাসমানদের খাবার দিচ্ছেন স্থানীয়রা- সোনার দেশ

করোনা ভাইরাসের কারণে সান্তাহার জংশন রেলওয়ে স্টেশনে বসবাস করা অনাহারে থাকা ভাসমান মানুষদের স্থানীয় রাজা নামের এক ব্যবসায়ীর উদ্যোগে ৩ বেলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সূত্রে জানা, সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে স্টেশন ও স্টেশনের আশেপাশে নদীভাঙ্গা বাড়ি-ঘর হারানো মানুষ, ভিক্ষুক, অন্ধ, ফেরিওয়ালা, অসহায়, ঠিকানাবিহীন হতদরিদ্র, পাগলসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির ২শতাধিক মানুষ বসবাস করে। তারা সারা দিন ভিক্ষা করে কিংবা মানুষের বাড়িতে, হোটেলে কাজ করে এই স্টেশনে এসে কোনোমতে রাত কাটাতো। যাদের মূল আয়ের উৎসই ছিলো ট্রেন, স্টেশনের আশেপাশের হোটেল ও বাসাবাড়ি। সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব মানুষ পড়ে মহাবিপদে। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া অনাহারে-অর্ধহারে তাদের দিন কাটতে শুরু করলে স্থানীয় এক রেল কর্মচারীর ছেলে আজিজুল হক রাজা স্টেশন মাস্টারের সহযোগিতা নিয়ে এই সব ভাসমান মানুষকে স্টেশনে ৩ বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। স্টেশনের ভোজনালয় বন্ধ থাকায় সেখানকার কর্মচারীরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ভাসমানদের জন্য ৩ বেলা এই খাবার রান্না করে আসছেন। বর্তমানে সান্তাহার ও তার আশেপাশের অনেক বিত্তবানরা এই ভাসমানদের ৩ বেলা খাওয়ানোর জন্য সামর্থ অনুসারে সহযোগিতা প্রদান করছেন। যতদিন না সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে ততদিন ভাসমানদের জন্য এই খাওয়ার ব্যবস্থার আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান আয়োজকরা। এছাড়াও এসব ভাসমানদের মাস্ক দেয়া হচ্ছে এবং যারা অসুস্থ তাদের চিকিৎসাসেবাও প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া এদেরকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।
ভিক্ষুক লিটন, কামালসহ অনেকেই জানান, আমরা ঠিকানাবিহীন অন্ধ, ভিক্ষুক- অসহায় মানুষ। স্টেশনই আমাদের বাড়ি-ঘর। এখানে এসে ৩ বেলা খাবার পাচ্ছি। রাজা ভাই আমাদের খাওয়াচ্ছে। রাজা ভাই না থাকলে আমরা না খেয়ে মরতাম।
প্রধান উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী আজিজুল হক রাজা বলেন, ট্রেন, স্টেশন ও স্টেশনের আশেপাশের হোটেল, দোকান, বাসা-বাড়িগুলো ছিলো এই সব মানুষদের আয়ের প্রধান উৎস। কিন্তু সবকিছু বন্ধ হওয়ার পর এরা আমার কাছে খাবার চাইতে আসে। তখন আমি প্রথমে ১০ কেজি চাল ও কিছু ডালের ব্যবস্থা করি এদের খাওয়ানোর জন্য। তখন স্টেশনের ভোজনালয় বন্ধ থাকায় স্টেশন মাস্টারের সার্বিক সহযোগিতায় ২৪মার্চ থেকে এই ভাসমান মানুষদের খাওয়ার ব্যবস্থা করে আসছি। বর্তমানে অনেকের সহযোগিতাও পাচ্ছি। তবে স্টেশন মাস্টার ও অন্যান্য কর্মচারীর সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছি বলেই এটি করা সম্ভব হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।
সান্তাহার জংশন রেলওেয় স্টেশনের মাস্টার মো. রেজাউল করিম ডালিম জানান, রাজার এই উদ্যোগের সঙ্গে আমি একত্মতা ঘোষণা করে স্টেশনের অন্যান্য লোকদের সহযোগিতা নিয়ে এই ভাসমান মানুষদের ৩ বেলা খাওয়ানোর চেষ্টা করছি মাত্র।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ