সান্ধ্যকোর্স বিরোধী দিবসে রাবিতে মুক্ত আলোচনাসভা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


সান্ধ্যকোর্স বিরোধী দিবসে রাবিতে আলোচনা সভায় আলোচকবৃন্দ সোনার দেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বাণিজ্যিক সান্ধ্যকোর্স বিরোধী দিবস উপলক্ষে মুক্ত আলোচনাসভা করা হয়েছে। গতকাল রোরবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পিছনে ‘সন্ত্রাস ও নিপীড়ন বিরোধী ঐক্যে’র ব্যানারে এ আলোচনাসভা করা হয়।
সভায় বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলনের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, সংবিধানের মূল চারটা নীতির মধ্যে একটি হলো সাম্যতা। এই সাম্যতা নিশ্চিত করতে হলে সর্বপ্রথম শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের সকল নাগরিককে সুশিক্ষার সুযোগ করে দিতে হবে। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত আছে, এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এক রকম শিক্ষা দেয়া হয় আবার কিছু ইংলিশ মিডিয়াম নামধারী বিদ্যালয়গুলোতে পাশ্চাত্যের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের কাম্য না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেউ কষ্ট করে পড়ালেখা করে ভর্তি হয়ে সার্টিফিকেট পায় আবার কেউ টাকা দিয়ে সান্ধ্যকোর্স করে সার্টিফিকেট নিয়ে তাদের পদোন্নতি করে। তাহলে প্রকৃত মেধার মূল্য কোথায়? রাষ্ট্রের প্রধান যেখানে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের ঘোষণা দেয়। তারপরেও রাবিতে চলমান সান্ধ্যকালীন কোর্স আমাদের আদর্শিক চেতনায় বাঁধে। স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনো শিক্ষা বাণিজ্য চলতে পারে না।
এসময় চলমান সান্ধ্যকোর্স বন্ধসহ ২০১৪ সালে সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিলের আন্দোলনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয় তাদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির আহব্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক, রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ অন্তর, ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহব্বায়ক মাজহারুল ইসলাম, পপুলেশন সাইন্স বিভাগের শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ আমান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, রাবিতে সব ধরনের বর্ধিত ফি ও বাণিজ্যিক সান্ধ্যকোর্স বাতিলের দাবিতে ২০১৪ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। অব্যাহত আন্দোলন চলাকালে ২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও পুলিশ। এরপর থেকে রাবিতে ২ ফেব্রুয়ারিকে শিক্ষা বাণিজ্য প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ