সাপাহারে বিলকৃষ্ণসদা খাস জলমহাল দখল নিয়ে উত্তেজনা

আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০১৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাপানিয়া সীমান্তের কৃষ্ণসদা গ্রামের পাশে অবস্থিত বিল কৃষ্ণসদা খাস জলমহালের দখল নেয়াকে কেন্দ্র করে ইজারাদার ও কৃষ্ণসদা গ্রামবাসীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। গত বুধবার দুপুরে সৃষ্ট এ সংঘর্ষে বিবাদমান দুইপক্ষের কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়। এ নিয়ে ইজারাদার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, কৃষ্ণসদা গ্রামের পার্শ্বে পোরশা উপজেলাধীন মৌজা বিল কৃষ্ণসদা নামক প্রায় ১৫ একর সরকারি খাস জলমহাল অবস্থিত। সীমান্তবর্তী কৃষ্ণসদা গ্রামের প্রায় ৩শ পরিবার তা খাস সম্পত্তি হিসেবে খরা মৌসুমে রবি শষ্য চাষাবাদ করে ভোগদখল করে আসছিল। গত বছর পশ্চিম বিরামপুর গ্রামের শামসুল আলম পোরশা সহকারি ভূমি অফিস থেকে ওই জলমহল তিন বছরের জন্য ইজারা গ্রহণ করেন। বিল ইজারার পর থেকে স্থানীয় কৃষ্ণসদা গ্রামের লোকজনের সঙ্গে ইজারাদারের বিবাদ শুরু হয়।
কৃষ্ণসদা গ্রামের ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ওই বিলের জেগে উঠা পতিত জমিতে গ্রামবাসী বোরো ধানের বীজতলা, আলু, পিয়াজ, গম, সরিষার চাষাবাদ করেছিল। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে ওই জলমহালের ইজারাদার শামসুল আলম পোরশা থানার এসআই সাহারিয়ার ও সাপাহার থানার এসআই নাদিম আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ও স্থানীয় লাঠিয়ালের সঙ্গে নিয়ে জলমহালে দখল প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালায়। এসময় ইজারাদারের লোকজন পুলিশের উপস্থিতিতে ওই বিলের পতিত জমিতে চাষকৃত বোরো ধানের বীজতলা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, সরিষার ফসল কোদাল দিয়ে নষ্ট করে দেন। দুই থানার পুলিশের উপস্থিতিতে ইজারাদারের লোকজনের তা-বে গ্রামের নারী-পুরুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ইজারাদারের লোকজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে বিলের ইজারাদার শামসুল আলম (৪২), মিজানুর রহমান (১৮) প্রতিপক্ষের রুমালী বেওয়া (৪০) ইসমতারা খাতুন (১৪), ফাইমা বেগম (৩৫) গুরুত্বর আহত হয়। পরে আহতদের সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
এদিকে বিল কৃষ্ণসদার ইজারাদার শামসুল আলম জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী জলমহালটি তিনি ইজারা নিয়েছেন। প্রতিপক্ষের লোকজন বেআইনিভাবে তাকে বারবার ভোগদখলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।
এ বিষয়ে থানায় কোন মামলা বা আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল কিনা জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাপাহার থানার এসআই নাদিম আলী গ্রামবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওসি সাহেবের নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ