সাপাহার থানাকে জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকী: নারী আটক

আপডেট: June 19, 2020, 10:11 pm

সাপাহার প্রতিনিধি :


আটককৃত তৈবাতুন নেসা মিনি- সোনার দেশ

সাপাহার থানা জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকী দেয়ায় তৈবাতুন নেসা মিনি নামের এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নিজ বাসা থেকে তৈবাতুন নেসা মিনিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার মিরাপাড়া দীঘির হাট এলাকার মৃত মহসিন আলীর ছেলে জৈনক মোকাদ্দেস আলীর মিরা পাড়া মৌজায় প্রায় ৩ একর সম্পত্তি ক্রয় করে ৪৩ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী আদলপুর গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের ছেলে রিয়াজ আমম্মেদ ওই সম্পত্তির মধ্যে দশমিক ৪১শতাংশ জমির দলিল তৈরি করে জবর দখলের চেষ্টা করতে থাকে। দখল সম্পন্ন করতে না পেরে এক পর্যায়ে ওই রিয়াজ আহম্মেদ মিরাপাড়া গ্রামের আকলিমা খাতুন (৫২) ও নিশ্চিন্তপুর গ্রামের তৈবাতুন নেসা মিনিকে (৫০) ভাড়া করে জমি জবর দখলের জোর চেষ্টা করে। এর এক পর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার রিয়াজ তার সহযোগীরা ও ওই দুই নারীর সহযোগীতায় জমির উপর একটি অস্থায়ী ঘর তৈরি করে জবর দখলের চেষ্টা করে। এসময় জমির প্রকৃত মালিক মোকাদ্দেস আলী ও তার লোকজন সেখানে গিয়ে তাদের তৈরি ঘরটি উচ্ছেদ করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে এক সংঘর্ষ বাধে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রিয়াজ (৫৫) ও তার ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তাদের থানায় ধরে নিয়ে আসায় তৈবাতুন নেসা মিনি মোবাইলে ওসিকে আসামিদের কোর্টে চালান না করার জন্য বিভিন্ন হুমকী ধামকী দেয়। এসময় আটককৃতদের চালান করলে থানা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দিবে বলে ওসিকে হুমকী দেয় তৈবাতুন নেসা মিনি।
এ ঘটনায় তৈবাতুন নেসা মিনিকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। এসময় আকলিমা পলাতক থাকায় তাকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে এ ঘটনায় ২১ জনকে আসামি করে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে থানায় রিয়াজ আহম্মেদ ওই সম্পত্তির অনেক মূল্য ভেবে নাম মাত্র টাকা দিয়ে জাল দলিল তৈরি করেছে বলে স্বীকার করে।
সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল হাই জানান, অবৈধভাবে ভূমি দখলদার ২ জন ও হুমকি দাতাকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।