সাপের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০১৭, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

মো. আশরাফুল আরেফিন


নগরীর জিরো পয়েন্টে সাপের ভয় দেখিয়ে চাঁদা নিচ্ছেন এক নারী- সোনার দেশ

নগরীর রাস্তায় রাস্তায় সাপ নিয়ে বেদে সম্প্রদায়ের নারীরা চাঁদা উত্তোলন করছেন। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট বড় মসজিদ এলাকায় বেদে সম্প্রদায়ের নারীদের সাপ নিয়ে চাঁদা তুলছে। তাদের কেউ কেউ ময়লা শাড়ি আর সেলোয়ারকামিজ পড়ে ঘুরছে। দল বেঁধে বিভিন্ন জাতের সাপ নিয়ে ছুটছে ওরা বিভিন্ন এলাকার জনবহুল স্থানে। এতে ছোট বড় সব বয়সী মানুষ আতঙ্কিত হয়ে উঠছে। সাপের ভয়ে অনেকে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে এরা ৬ থেকে ৭ জনের দল বেঁধে চাঁদা তুলছে।
তবে তারা জনবহুল স্থান, বাজার ও স্কুল-কলেজ টার্গেট করে মানুষদের কাছে চাঁদার টাকার জন্য চেপে বসছে। নিজের গলায় জড়িয়ে রেখে আবার কাঠের ছোট বাক্সের মধ্য থেকে সাপের মাথা বের করে সবার সামনে এগিয়ে ধরছে সাপ। অমনি ভয়ে চমকে উঠছে পথচারীরা ও দোকানিরা। এরপর পথ আগলে দাবি করা হচ্ছে টাকা। চাহিদা মতো টাকা না দিলে ছেলেদের শার্ট আর মেয়েদের ওড়না টেনে ধরা হচ্ছে। ছোট কাঠের বাক্সে সাপ নিয়ে চাঁদাবাজি নতুন নয়, কিন্তু বর্তমানে তা খুব বেশি দেখা যাচ্ছে নগরীতে।
অনেক পথচারী সাপের ভয়ে বাঁচাতে চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছে। নগরীর সাহেববাজার, অলকার মোড়, রানীবাজার, আরডিএ মার্কেট এলাকার সামনে সবচেয়ে বেশি এদের আনাগোনা দেখা যায়। লোক বুঝে যার থেকে যেমন টাকা পাচ্ছে তা আদায় করছে। বাজার এলাকায় পথচারি সামনেই মানুষের থেকে টাকা নিতে দেখা যায়। প্রথমে টাকা চেয়ে না পেলে সাপ বের করে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে।
এসব বেদের বহর ঝুঁপড়ি করে দল বেঁধে কোথায় বসবাস করে তা সঠিকভাবে বলে না। তবে লোক মুখে জানা যায়, এসব যাযাবর বেদেদের মূল আবাস যশোর, চুয়াডাঙ্গা, সাভার ও নাটোরের সিংড়ায় এলাকায়। তাদের নাম জিজ্ঞাসা করলে তা গোপন করে রাখছে তারা।
এসব বেদে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন তারা ৫ থেকে ৬ শ’ টাকা আয় করেন। তারা তাদের স্বামীদের সঙ্গে না নিয়ে শহর চষে বেড়াচ্ছেন। কারণ এটাই তাদের পেশা।
তবে আগে বেদে পরিবারের পুরুষ-নারী সদস্যরা সাপ খেলা, সাপের ওষুধ বিক্রি, সিঙ্গা লাগানো, বাতের চিকিৎসা দেয়ার নামে শহর ও গ্রামের হাটবাজারে সহজ-সরল নারীদের কাছ থেকে টাকা লুফে নিতো। এখন মানুষ সচেতন হওয়ায় এসব প্রতারণামূলক ব্যবসা ও ভুয়া চিকিৎসা ও ওঝাগিরি করতে পারছেন না বেদে সম্প্রদায়। এখন তারা ছোট-বড় সাপ দেখিয়ে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে থাকে।
এবিষয়ে মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারি পুলিশ কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম জানান, নগরীতে বেদে সম্প্রদায়ের মেয়েদের সাপ নিয়ে চাঁদার টাকা তোলাটা ঠিক হচ্ছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব থানার পুলিশ অফিসারদের তদন্ত করার জন্য বলা হবে। যাতে এধরনের কোন কাজ বেদে সম্প্রদায় না করতে পারে।