সাবজনীন পেনশন স্কিম সময়ের প্রয়োজনেই এটি গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০১৯, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

সরকার সবার জন্য পেনশন চালু করতে চায়। এ জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে সরকার। ৬ নভেম্বর রাজধানীর এক হোটেলে ‘ইন্ট্রোডিউসিং অ্যা ইউনিভার্সাল পেনশন স্কিম ইন বাংলাদেশ : ইন সার্চ অব অ্যা ফ্রেমওয়ার্ক’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘সর্বজনীন পেনশন চাই কি না? আমার কথা হলো- অবশ্যই চাই।’
২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এটি শুরু করতে চায় সরকার। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
মন্ত্রী ভাষ্যমতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভেতরে ছোট একটি সেল বা প্রতিষ্ঠান আছে, যারা এ বিষয়টা নজরে রেখে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষকে আমরা নানাভাবে ছুঁয়ে যাচ্ছি। তার মানে বেশি এলাকা আমরা কাভার করে ফেলেছি। আর সামান্য বাকি। আমার মনে হয়, আমরা পারব।’
বাংলাদেশের মানের অন্য দেশগুলো কীভাবে এটা চালাচ্ছে, অর্থের সংস্থান কীভাবে করা যায়, আয়োজকদের কাছে এ ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক পরামর্শগুলো প্রত্যাশা করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
সংবাদ মাধ্যমে তথ্য অনুযায়ী সকল বয়স্ক মানুষের জন্য একটি সার্বজনীন পেনশন স্কিম কিভাবে চালু করা যায়, সেনিয়ে ওই সভায় একটি প্রস্তাব তুলে ধরেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ।
এখন দেশে মূলত সরকারি ও অল্প কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মজীবীরাই পেনশন পান।
কিন্তু শেষ জীবনে আর্থিক চাহিদা থাকে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মী সহ সকলের।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ৬৫ বছরের উপরে ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ কোনো ধরনের পেনশন বা বয়স্ক ভাতা পান না। এখন দেশে মূলত সরকারি ও অল্প কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মজীবীরাই পেনশন পান।
কিন্তু শেষ জীবনে আর্থিক চাহিদা থাকে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মী সহ সকলের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে দেশে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা এখন ৮০ লাখ। তাদের মধ্যে যারা বেসরকারি চাকুরে ছিলেন তাদের মাত্র দশ শতাংশ গ্রাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ পাচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতেই কাজ করেন ৮৭ শতাংশ মানুষ। তারা কোনো কিছুর আওতায়ই পড়েন না। বয়সকালে সবাই যেন আর্থিক এবং সামাজিক সুরক্ষা পান, সেজন্য একটি সার্বজনীন পেনশন স্কিম খুবই জরুরি।
এখনও বাংলাদেশে ১১-১২ শতাংশ মানুষ আছে, যাদের আমরা হতদরিদ্র বলি। যাদের কোনো নিট আয় নাই। এসব মানুষকে কীভাবে সার্বজনীন পেনশনের আওতায় আনা যাবে সেটা একটি চ্যালেঞ্জ বটে। কেননা এই হতদরিদ্ররা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে কাজ করে না। বলা যায় দিন মজুর। এদের ক্ষেত্রে পেনশনের ধরনটা কেমন হবেÑ সেটা গুরুত্বের দাবি রাখে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে কাজটা কঠিন হলেও সেটা করা সম্ভব হবে। তাছাড়া এসডিজির লক্ষ্য পূরণ করতে হলে কাল বিলম্ব না করে দারিদ্র বিমোচন কাক্সিক্ষত মাত্রায় নামিয়ে আনতে নতুন নতুন উদ্ভাবনীর প্রয়োজন আছে। সার্বজনীন পেনশন স্কিম চালুতে সরকার সক্ষম ও সফল হবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ