সাবধান বাজারে ভেজাল প্রসাধনী! নকল ও ভেজাল পণ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

করোনায় যখন বিশ্ব এক মহামারি ও অস্থির সময় অতিক্রম করছে। সেখানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী করোনাকালে নকল বা ভেজাল ওষুধ, প্রসাধনী বিক্রি করা বন্ধ হয়নি। করোনায় এদের বিবেক জাগ্রত হয়নি। এতে করে সৎ ব্যবসায়ীরা বাজারে টিকে থাকতে পারছে না। মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ জীবন রক্ষাকারী ওষুধও নকল বিক্রি হচ্ছে। এই চক্রের রয়েছে বিশাল নেটওয়ার্ক। তারা অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং এখনো নিচ্ছে। এসব নকল বা ভেজাল পণ্য কিনে আমাদের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দেশ-বিদেশের বিখ্যাত কোম্পানির প্রায় সব পণ্য নকল বাজারে পাওয়া যায়। শপিং মল, ফুটপাত এবং ছোটখাটো সব বাজারে এসব নকল পণ্য বিক্রি হচ্ছে সস্তা দামে। নানা কৌশলে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে, যা আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতার পক্ষে যাচাই করা কঠিন। এতে শুধু আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি না, বরং সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছে নামিদামি ব্র্যান্ডের নকল পণ্য। কিছু অসাধু ও ধান্দাবাজ লোক বিদেশ থেকে দামি ব্র্যান্ডের পণ্যের প্যাকেট দেশে নিয়ে আসে। এরপর ওই প্যাকেটে নকল পণ্য ঢুকিয়ে তা বাজারে বিক্রি করছে। নকল ও ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে এবং অনেক অভিযানে পণ্য আটক হচ্ছে। অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হলেও নকল পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ করা যাচ্ছে না। নকল ও অবৈধভাবে পণ্য যেসব বাজারে বিক্রি হচ্ছে এর মধ্যে প্রসাধনী, ওষুধ, সিগারেট, মোবাইল ফোনসেট ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস উল্লেখযোগ্য।
সম্প্রতি রাজশাহীতে বেশিকিছু ভেজাল প্রসাধনীর কারখানায় হানা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসময় বিভিন্ন ব্যান্ডের ভেজাল প্রসাধনী ও প্রসাধনী তৈরির যন্ত্রপাতি-উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। চলতি বছরে ভেজাল প্রসাধনীর কারখানায় পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ৭ জন গ্রেফতার করেছে। এনিয়ে সোনার দেশ পত্রিকায় ২০ সেপ্টেম্বর প্রধান প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। সেখানে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- এসব প্রসাধনী বিশেষ করে গ্রামে-গঞ্জে বেশি বাজারজাত করা হয়। অপেক্ষাকৃত সস্তা হওয়ায় গ্রামের নারী নির্দ্বিধায় ওইসব প্রসাধনী কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্কিন বিশেষজ্ঞ ড. ইব্রাহীম মো. শরফ বলেন, ভেজাল প্রসাধনীতে বেশিমাত্রার রাসায়নিক প্রয়োগ হয়ে থাকে। ফলে মানবদেহে ক্যানসার, অ্যালার্জি, ত্বকের প্রদাহ, স্কিন জ্বালা পোড়া, লাল হয়ে যাওয়া। আর শিশুদের জন্য এসব প্রসাধনীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আরো বেশি মারাত্মক হয়ে থাকে।’
সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ, স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রীর দাম ও মান নিয়ে ব্যাপক আইনি মনিটরিং দরকার। অন্যথায় পরিস্থিতি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করবে। পণ্য কেনার সময় দেখে কিনতে হবে। সাধারণত যে প্রসাধনী ব্যবহার করি সেটাতেই থাকা উচিত। না জেনে, না বুঝে নতুন পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকাই ভালো। আসল ও নকল পণ্য মোড়ক ও ভেতরে দেখতে এক নয়। একটু ভালোভাবে দেখলেই বোঝা যাবে, আসল নাকি নকল। আর নকল পণ্য বন্ধে সরকারের ওপর শুধু দায়িত্ব দিলে হবে না। বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উচিত নকল প্রতিরোধে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো ও নিজস্ব টিম তৈরি করা। নকল ও ভেজাল পণ্য রোধ করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে সরকার বড় বড় ষড়যন্ত্র মোকাবেলা এবং অনেক সমস্যা ভালোভাবেই সমাধান করছে। সরকার খুবই তৎপর হলে এখানেও সফলতা আসবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ