সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশ || সক্ষমতার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা

আপডেট: মার্চ ১৪, ২০১৭, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ সাবমেরিন যুগে প্রবেশ করলো। বাংলাদেশ সাবমেরিন সক্ষমতা অর্জন বিশ্বের ৪১তম দেশ হিসেবে সাবমেরিন ক্ষমতার মালিক হল বাংলাদেশ। চিনের ০৩৫-জি টাইপ দু’টি ডিজেল ইলেকট্রিক সাবমেরিনের অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে নতুন যুগে পদার্পণ করল বাংলাদেশ নৌবাহিনী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার চট্টগ্রামে নৌ-ঘাঁটি ইশা খাঁয় ‘বানৌজা নবযাত্রা’ ও ‘বানৌজা জয়যাত্রা’ নামের সাবমেরিন দু’টির কমিশনিং আদেশ হস্তান্তর করেন। এর মধ্য দিয়ে ত্রিমাত্রিক নৌশক্তিতে পরিণত হল বাংলাদেশের নৌবাহিনী।
নৌবাহিনীর রীতি অনুযায়ী, সাবমেরিন দু’টির নামফলকও উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। দু’টি সাবমেরিন যোগ হওয়ায় আধুনিকতা ও উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা  যায়, চিনের দালিয়ান প্রদেশের লিয়াওনান শিপইয়ার্ডে গত বছরের ১৪ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদের কাছে সাবমেরিন দু’টি হস্তান্তর করেন চিনের রিয়ার অ্যাডমিরাল লিউ জি ঝু। বাংলাদেশ ও চিনের নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের যৌথ তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ ও ‘সি ট্রায়াল’ শেষে গত ২২ ডিসেম্বর সাবমেরিন দু’টি চট্টগ্রামে আসে। বানৌজা ‘নবযাত্রা’ এবং বানৌজা ‘বানৌজা নবযাত্রা’ ও ‘বানৌজা জয়যাত্রা’ দৈর্ঘ্যে ৭৬ মিটার এবং প্রস্থে ৭.৬ মিটার। টর্পেডো ও মাইনে সজ্জিত সাবমেরিন দু’টির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায়য ১৭ নটিক্যাল মাইল এবং ডিসপ্লেসমেন্ট এক হাজার ৬০৯ টন। নৌবাহিনীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটো সাবমেরিনই ডিজেল-ইলেকট্রিক চালিত। সাবমেরিন দুটি টর্পেডো এবং মাইন দ্বারা সুসজ্জিত যা শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনকে আঘাত করতে সক্ষম। প্রতিরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল জেনস ডিফেন্স উইকলি বলছে, এই সাবমেরিনের এর ক্রয় মূল্য ২০৩ মিলিয়ন ডলার। যদিও ক্রয় মূল্য সরকারের তরফ থেকে কিছু জানা যায়নি।
নিঃসন্দেহে সাবমেরিন সক্ষমতা বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। স্বাধীনতার এই মাসে দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন সাবমেরিন বাংলাদেশের নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়া একটি বিশেষ দিন ১২ মার্চ। জাতির সক্ষমতা অর্জনের একটি গেীরবময় দিন হিসেবে বিবেচিত হতে থাকবে। বাংলাদেশ যে একটি মর্যাদাপূর্ণ জাতি তা-ই বিশ্বকে নতুন করে জানান দেয়া হলো। বাংলাদেশকে নিয়ে যারা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে, তলাবিহীন ঝুড়ি আখ্যায়িত করেছেÑ সেই বাংলাদেশ এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশ কারো সাথেই যুদ্ধে জড়াবে নাÑ কিন্তু বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ সম্পদ সুরক্ষার পূর্ণ অধিকার রাখে। প্রধানমন্ত্রী সাবমেরিন কমিশনিংকালে সে কথাই বলেছেন।  তিনি দৃঢ়তার সাথেই বলেছেন, কিন্তু যদি কেউ আমাদের আক্রমণ করে তাহলে আমরা যেন তার সমুচিত জবাব দিতে পারি সেই প্রস্তুতি আমাদের সবসময় থাকবে। সে দিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা যা যা করণীয় তা করে যাচ্ছি।” এছাড়াও বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমার মধ্যেকার সম্পদ সুরক্ষা ও তার আহরণের জন্য ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা অর্জনের প্রয়োজন ছিল।  মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পরে বাংলাদেশ বিশাল একটি সমুদ্র এলাকার নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের দায়িত্বও বেড়ে গেছে অনেক, বিশেষ করে নৌবাহিনীর। বাংলাদেশের নৌবাহিনী অনেক দুর্বল অবস্থানে ছিলো। সেই প্রেক্ষাপট থেকে তার সক্ষমতা আগের থেকে বাড়ানোর দরকার ছিলো। বাংলাদেশের বহির্বাণিজ্য মূলত চলে সমুদ্রে পথে। আর সেই সাথে সমুদ্রে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানে বাংলাদেশের যে পরিকল্পনা সেই কার্যক্রমের নিরাপত্তা দেয়ার কাজটিও সহজ হলো।
বাংলাদেশ তার অব্যাহত সক্ষমতার মধ্য দিয়ে আরো আরো বেশি এগিয়ে যাক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ