সাবেক সাংসদের বাড়িতে শিশু নির্যাতন || তা হলে শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

আপডেট: মার্চ ১৬, ২০১৭, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

শিশু নির্যাতনের ঘটনা বন্ধই হচ্ছে না। আদিম প্রবৃত্তি থেকে আমরা সভ্য মানুষ হিসেবে নিজেদের এখনই প্রমাণ করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছি। ঘরে-বাইরে আমাদের শিশুদের কোথাও নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা যাচ্ছে না। সমাজের নিচু থেকে উচ্চপর্যায়ের লোকদের দ্বারা হরহামেশাই শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে। শিশু নির্যাতন এক ভয়ঙ্কর সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের প্রতি অবিচার করে সামজিক নিরাপত্তার সঙ্কট আমরা নিজেরাই সৃষ্টি করে চলেছি। আজকের নির্যাতিত শিশু- ভবিষ্যতের অবিবেচক, নিষ্ঠুর, প্রতিহিংসাপরায়ণ মানুষ সৃষ্টি করছি।
যারা আইন তৈরি করেন, যারা আইনের রক্ষক তারা পর্যন্ত শিশুদের অবলীলায় নির্যাতন করছেন কিংবা নির্যাতনকে সমর্থন করছেন। সমাজের এই প্রবণতা খুবই উদ্বেগের বিষয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের বাগান বাড়িতে কবুতর চুরির অভিযোগে আব্দুল আলিম (১২) নামে এক শিশুকে ধরে তার শহরের বাড়িতে এনে প্রায় ৮ঘণ্টা বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শিশু আব্দুল আলিমের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মিলকি বাগান পাড়ায়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এবং সংবাদ মানুষকে দারুণভাবে মর্মাহত করেছে।
বৃহত্তম একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতার বাগান বাড়িতে নিয়ে একজন শিশুকে বেধে রাখা, তাকে অভূক্ত রাখাটা ওই রাজনীতিকের সরাসরি কোনো অপরাধ ছিল না। তার বাগানবাড়ির কর্মচারীরা সে অপরাধটি হয়ত করেছেÑ কিন্তু সংবাদপত্রে প্রকাশিত ওই নেতার বক্তব্য প্রচ-ভাবে হতাশাজনক। তিনি তাঁর বক্তব্যে বরং ওই শিশুকে নির্যাতন করার কারণ বা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শিশুকে নির্যাতন করার জন্য কোনো ব্যাখ্যা দেশের প্রচলিত আইনে আছে বলে আমাদের জানা নেই। তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন, তিনি নিশ্চয় জানেন, শিশুর প্রতি কেমন আচরণ করতে হবে। তিনি অবশ্যই জাতিসংঘের শিশু সনদ সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেনÑ না হলে তিনি রাজনীতিবিদ কেন! রাজনীতি তো দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য। দেশের রাজনীতির মূল স্লোগানও তাইÑ জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। সেই রাজনীতিক যদি শিশু নির্যাতনের সমর্থক হয়ে যায় তা হলে জনগণের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি মিথ্যা হয়ে যা না? বরং ওই রাজনীতিক শিশু নির্যাতনের সংবাদ শুনে নিজে লজ্জিত হতেন, শিশুর ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থা করতেন এবং পরিবারের কাছে শিশুকে সযতেœ পৌঁছে দিয়ে পরিবারকে সতর্ক হতে বলতে পারতেন। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যে এটাই মনে হয়েছে যে, শিশুকে নির্যাতন করা যায়।
আমাদের উদ্বেগ এই কারণে যে, রাজনীতিকরা যদি অসংবেদনশীল আচরণ করতেই থাকেন তা হলে সে দিন আর বেশি দূরে নয়Ñ যখন রাজনীতিটা সম্পূর্ণরূপে দুর্বৃত্তদের হয়ে যাবে। সেই পরিস্থিতি কারুরই কাম্য নয়। রাজনীতিকরা জাতিকে পরিশীলিত হতে, আর্থ-সামজিক উন্নয়নে, সামজিক নিরাপত্তায়, জ্ঞান- বিজ্ঞানে এগিয়ে যাওয়ায় নেতৃত্ব দেয়। তারা যখন ভুল করেন তার প্রায়শ্চিত্ত পুরো জাতিকে করতে হয়। এজন্য একজন রাজনীতিককে সংবেদনশীল, ভভিষ্যতমূখিন ও সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা অর্জন করতে হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ