সাব্বির সহ তিন তরুণের টেস্ট ক্যাপ জয়

আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০১৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
চট্টগ্রাম টেস্টে সাদা পোশাকে অভিষেকের অপেক্ষায় ছিলেন চার তরুণ ক্রিকেটার। এদের মধ্যে তিনজনের অভিষেক হয়ে গেলো গতকাল বৃহস্পতিবার। স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই টেস্ট ক্যাপ জয়ের রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছিল সাব্বির রহমান, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও মেহেদী হাসান মিরাজের। সাব্বিরের জাতীয় দলের হয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও নেই কামরুল ইসলাম রাব্বি ও মেহেদী হাসান মিরাজের।

 
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথমেই সাব্বির রহমান রুম্মনকে টেস্ট ক্যাপ পড়িয়ে দেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এরপর ভবিষ্যতের তারকা মেহেদী হাসান মিরাজকে টেস্ট ক্যাপ পড়িয়ে দেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, সর্বশেষ পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বিকে টেস্ট ক্যাপ পড়িয়ে দেন সাবেক অধিনায়ক ও পেসার খালেদ মাহমুদ সুজন। এবার দেখে নেয়া যাক অভিষিক্ত এই ক্রিকেটারদের অতীত কীর্তি-
সাব্বির রহমান রুম্মন : টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ৮১তম ক্রিকেটার হিসেবে বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছে রাজশাহী থেকে উঠে আসা তরুণ ক্রিকেটার সাব্বির রহমান রুম্মনের। বিস্ফোরক ব্যাটিং করার পাশাপাশি বল ঘুড়ানোর দক্ষতাই তাকে সুযোগ পেতে সহায়তা করেছে।

 
২০১৪ সালে জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম খেলেছিলেন এই তরুণ। বিস্ফোরক ব্যাটিং করতে পারায় আলাদা নাম ডাক আছে তার। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেক হয় সাব্বির রহমানের। প্রথম ম্যাচেই যোগ্যতার জানান দিয়েছিলেন তরুণ এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার। একই বছর নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। ওয়ানডের অভিষেকেও অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংস খেলে দলের স্কোরকে প্রতিপক্ষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান। ওই সিরিজে ভালো খেলার পুরস্কার হিসেবে সুযোগ পান অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে।

 
এমনকি ভয়-ডরহীন ক্রিকেট খেলার জন্য রীতিমত সুনাম কুড়িয়েছেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট মঞ্চে। চাপের মুহূর্তেও সাব্বিরের ব্যাট থেকে এসেছিল কার্যকরী বেশ কয়েকটি ইনিংস। হয়তো সেগুলো খুব বড় ছিল না, তবে দলের জন্য ছিল উপযোগী। স্বপ্নের মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছেন ৫৩ রানের ইনিংস। এমন মাঠে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন তরুণ এই ক্রিকেটার।
সাব্বিরের উঠে আসা মূলত বয়সভিত্তিক ক্রিকেট দিয়েই। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ২৬ ম্যাচ খেলেছেন এই তরুণু। এমনকি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছেন সাব্বিরের। প্রথম শ্রেণির ৩৫টি ম্যাচ খেলে ৩৪.৭১ গড়ে সাব্বিরের সংগ্রহ ১৮৪০ রান। বেশ কিছুদিন ধরেই সাব্বিরকে লংগার ভার্সন ক্রিকেটে খেলানোর আলোচনা চলছিল নির্বাচকদের মধ্যে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে পাঠানো হয়েছিল ‘এ’ দলের হয়ে ভারত সফরে। গত বছর সেপ্টেম্বরে বেঙ্গালুরু চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে ১২২ রানের ইনিংস খেলেন সাব্বির। ওটাই মূলত টেস্ট ক্রিকেটে সাব্বিরের টার্নিং পয়েন্ট।

 
সাব্বিরের লক্ষ্য : যারা আমাকে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট বলতো, তারা কিন্তু এখন ওয়ানডে স্পেশালিস্টও বলে। আমি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে ওয়ানডে দলে জায়গা করে নিয়েছি। আমি জানি এখন এটাও আমাকে প্রমাণ করতে হবে যে আমি টেস্ট খেলতে পারি। এটা আমার জন্য নতুন একটি চ্যালেঞ্জ। যেখানে সফল হওয়ার চেষ্টা করবো।
সুযোগে নির্বাচকদের ব্যাখ্যা : সাব্বির দারুণ ক্রিকেটার। তাকে নিয়ে আমরা ভাবছি কীভাবে তাকে একাদশে রাখা যায়।
মেহেদী হাসান মিরাজ : অধিনায়ক মুশফিকের কাছ থেকে টেস্ট ক্যাপটা মাথায় পড়েন ২০ বছর বয়সি মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের ৮০তম ক্রিকেটার। বিশেষজ্ঞ অফস্পিনার হিসেবেই একাদশে সুযোগ হয়েছে তার। স্পিনের পাশাপাশি ব্যাট হাতে সমান পারদর্শী খুলনার এই ক্রিকেটার। তবে মিরাজের ক্রিকেটে আসার গল্পটা মোটেও সুখকর ছিল না। ক্রিকেট খেলার কারণে বাবার পিটুনি-বকুনি কিছুই বাদ যায় নি। মিরাজের বাবা কখনোই চান নি ছেলে ক্রিকেট খেলুক। পালিয়ে খেলতে গিয়ে অনেক বার ধরা পড়ে প্রচ- মার খেয়েছেন। তারপর ক্রিকেট চালিয়ে গেছেন। শুরুতে অনূর্ধ্ব-১৪ জেলা দলে সুযোগ পান তিনি। মাঝখানে একবার বাবার বাধা আসলেও আর থামতে হয়নি মিরাজকে। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন মিরাজ। অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলে এখন তিনি জাতীয় দলে। অফস্পিনের পাশাপাশি মিডল-অর্ডার ব্যাটিংয়ে পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার।

 
কালকের আগে বড়দের সঙ্গে জাতীয় দলে খেলা না হলেও প্রিমিয়ার লিগ ও জাতীয় লিগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ইংলিশদের ৫টি উইকেট নিয়ে অভিষেকেই তিনি আলো ছড়িয়েছেন। ১২টি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে ব্যাট হাতে ৫২৪ রান করলেও বল হাতে নিয়েছেন ৪১ উইকেট। এছাড়া লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ২৭ ম্যাচে ৪৮১ রানের পাশাপাশি তার সংগ্রহ ২৭ উইকেট।

 
মিরাজের লক্ষ্য : আমি সব সময় দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পছন্দ করি। দায়িত্ব নিতে পারলে নিজের কাছেই ভালো লাগে। যখন আমি শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ব্যাটিং করার সুযোগ পাবো, চেষ্টা করবো তাদের নিয়ে যতটা ভালো খেলা যায়। যুব বিশ্বকাপে আমি অনেককিছু শিখেছি। ওখানে ভালো খেলেছি। ওখান থেকে যে অভিজ্ঞতাটা নিয়েছি, আশা করি সেগুলো এখানে কাজে লাগাতে পারবো।
সুযোগে নির্বাচকদের ব্যাখ্যা : অনূর্ধ্ব-১৯ এবং ঘরোয়া ক্রিকেটেও যথেষ্ট ভালো খেলেছে। সে হিসেবে সুযোগ দিয়েছি। আমাদের মনে হচ্ছে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ওর কাছ থেকে অনেক কিছু পাওয়ার আছে। তারও দেওয়ার আছে অনেক কিছু। সে জন্যই তাকে দলে নেওয়া। দলে যখন নিয়েছি অবশ্যই সে প্রস্তুত। কামরুল ইসলাম রাব্বি : জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলতি বছর জানুয়ারিতে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম বারের মতো জাতীয় দলের স্কোয়াডে সুযোগ পান কামরুল ইসলাম রাব্বি। কিন্তু অভিষেক হয় নি বলে আক্ষেপে পুড়ছিলেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার সাদা পোশাকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলো বরিশালে জন্ম নেওয়া এই পেসারের। এদিন সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন তার মাথায় টেস্ট ক্যাপটি পড়িয়ে দেন। পুরনো বলে ক্ষিপ্ত গতিতে বল করতে পারেন বলেই সুযোগ পেয়েছেন সাদা পোশাকে।

 
২০০৭ সালে কামরুল ইসলাম তার বড় ভাইয়ের উৎসাহে নাম লিখিয়েছিলেন পেসার হান্টে। যদিও ক্রিকেটে খ্বু একটা মনোযোগী হয়ে উঠতে পারেন নি তিনি। কিন্তু ২০০৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পেয়েই কামরুল ইসলামের ধ্যান-জ্ঞান হয়ে উঠে ক্রিকেট। সেখান থেকেই শুরু তার ক্রিকেটার হয়ে উঠার গল্প। ২০১০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে রাব্বির সঙ্গে খেলেছিলেন এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান। সাব্বির-কামরুলতো বেশ ভালো জুটিও বলা চলে।
৪৭টি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা রাব্বির উইকেট সংখ্যা ১০৩টি। অন্যদিকে ৪৪টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ৬৯টি।

 
রাব্বির লক্ষ্য : ক্রিকেটের ভিত্তিই তৈরি হয়েছে টেস্ট দিয়ে। টেস্ট প্লেয়ার, অনেক বড় ব্যাপার, অনেক সম্মানের। জাতীয় দলে খেলাটাই মূলত ব্যাপার। আর টেস্ট বড় মাপের খেলা। একাদশে সুযোগ হলে নিজের শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করবো।
সুযোগে নির্বাচকদের ব্যাখ্যা : রাব্বী অনেক দিন ধরে এনসিএল, বিসিএল খেলছে। পুরনো বলে জোরে বল করার ক্ষমতা আছে। এখানে ফ্ল্যাট উইকেট, লো ট্র্যাক সেজন্য ওকে বিবেচনা করা হয়েছে।