সামনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে! ডেঙ্গ প্রতিরোধে কিছু একটা করুন

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২৩, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞরাও সে কথা বলছেন। এর আগে ডেঙ্গু নিয়ে এতো দুর্ভাবনার কারণ কখনো ঘটেনি। বলা হচ্ছে, ডেঙ্গুর প্রভাব সামনের দিনগুলোতে আরো মারাত্মক আকার ধারণ করবে। এর আগে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই রাজধানীকেন্দ্রিক ছিলÑ তা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি পাল্টে মারাত্মকরূপে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বছরজুড়েই ডেঙ্গুর প্রকোপ। এবার ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে; যা ঢাকা নগরীতে ভর্তি রোগীর প্রায় দ্বিগুণ। দেশে ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কখনো এতো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। এবার মশা-বাহিত এই রোগ সব জেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ার মধ্য মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য-উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো ৭৫৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ১৯৬ জন। এতে এ বছর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৩৪ জনে। ঢাকায় এ সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ৮৬২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো ১২ জনের, যা নিয়ে মোট প্রাণহানি হয়েছে ১৫৯৫ জনের। এদের মধ্যে ৯২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। বাকি ৬৭০ জন ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছেন।
রাজশাহীতেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মৃত্যুর হার এর আগের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে। শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ৭ টার পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একদিনে এটি সর্বোচ্চ মৃত্যু। এখন পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫ হাজার ১৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৪ হাজার ৮৫৬ জন। মারা গেছেন ৩৪ জন। অর্থাৎ ডেঙ্গ প্রকোপ রাজশাহীতে বাড়ছে।
এখন বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এইডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারলে সামনের বছরগুলোতে রোগটি আরো ব্যাপক আকারে দেখা দিতে পারে। শনিবার ঢাকার নিপসম মিলনায়তনে এপিডেমিওলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা বলেছে, ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা ঢাকার বাইরে পাওয়া যাচ্ছে। এতে সামনে এই রোগটি আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বাস্তবিক অর্থেই ডেঙ্গু প্রকোপ খুবই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোথাও কী দায়িত্বে অবহেলা বা উদাসীনতার কারণ ঘটেছে? সেটা হয়ে থাকলে বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করা বাঞ্ছনীয়। ডেঙ্গুর টিকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে বটে কিন্তু সে ক্ষেত্রে অগ্রগতি নেই। এখন বিষয়টিকে অবহেলা কিংবা উদাসীনভাবে দেখার সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে এখনই করণীয় সম্পর্কে পরিকল্পনা কৌশল প্রণয়ন করা দরকার। পরিস্থিতি নাগালের মধ্যে থাকতেই ব্যবস্থাটা নিতে হবে। অন্যথায় হলে অনেক বড় মাশুল দিতে হতে পারে।