সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমানসহ বিএনপির অধীনে সকল নির্বাচনই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ : মেয়র লিটন

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১, ১০:০৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান সহ বিএনপি’র অধীনে ইতিপূর্বে যতগুলো নির্বাচন হয়েছিলো সকল নির্বাচনই ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে। বাংলাদেশের জনগণও ওই নির্বাচনগুলোর ফলাফল মেনে নিতে পারে নি।
গতকাল সোমবার ( ১৫ ফেব্রুয়ারি) ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি কর্তৃক একতরফা প্রহসনের নির্বাচনের প্রতিবাদে সমাবেশে এসব বক্তব্যে দেন তিনি।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিকাল ৫টায় নগরীর কুমারপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন শেষে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।
সমাবেশের প্রধান অতিথি এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একদলীয় ভোটার বিহীন প্রহসনের নির্বাচন করে বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছিলো। সেই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে শুধু গণতন্ত্রকেই ধ্বংস করে নাই, মহান সংসদকেও কলঙ্কিত করেছিলো বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি কর্ণেল অব. ফারুককে বিরোধী দলের নেতার আসনে বসিয়ে। ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রের উপরে চপেটাঘাত করে একটি প্রহসনের নির্বাচন করেছিলো খালেদা জিয়া ও বিএনপি। আজ (১৫ ফেব্রুয়ারি) সেই দিন যেদিন জনগণের প্রাণের দাবি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন চাই তত্ত্ববধায়কের সরকারের অধীনে, সেই দাবি উপেক্ষিত হয়েছিলো। আজ (১৫ ফেব্রুয়ারি)সেই দিন, যেদিন খালেদা জিয়া ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে নির্বাচন করেও ভেবেছিলেন তার ক্ষমতা চিরস্থায়ী হবে কিন্তু সেই দিন তৎকালিন বিরোধী দলের নেতা গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে জনগণের অব্যাহত আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করে খালেদা জিয়া নিরপেক্ষ তত্ত্ববধায়ক সরকারের দাবী মেনে নিয়েছিলো। জনগণের বিজয় নিশ্চিত হয়েছিলো।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি’র জন্ম হয়েছিলো ক্যান্টনমেন্টে, যে বিএনপি’র জন্মদাতা জিয়াউর রহমান নামক একজন ব্যক্তি। যার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা অনেক প্রশ্নবিদ্ধ। এই জিয়াউর রহমান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ উপস্থিত পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যার সকল কার্য সম্পন্ন করে খন্দকার মোস্তাক-কে সামনে শিখন্ডি হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়ে সকল ক্ষমতা দখল করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান সহ বিএনপি’র অধীনে ইতিপূর্বে যতগুলো নির্বাচন হয়েছিলো সকল নির্বাচনই ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে। বাংলাদেশের জনগণও ওই নির্বাচনগুলোর ফলাফল মেনে নিতে পারে নি।
দেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিলো। এবং তার ফলশ্রুতিতে একটি পর্যায়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জিয়াউর রহমানকে প্রাণ দিতে হয় ও আরেকটি সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসে। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পরে বঙ্গবন্ধু’র কন্যা জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে এরশাদ এর পতন ঘটিয়ে আমরা একটি নির্বাচনে গিয়েছিলাম। আমাদের প্রত্যাশা ছিলো আমরা ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে জয়লাভ করবো। যখন সকল কেন্দ্রের নির্বচানের ফলাফল পর্যায়ক্রমে ঘোষণা হচ্ছিল, তখন আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমরা হেরে যাচ্ছি। এবং আমাদের হারিয়ে দেওয়া হলো। পরের দিন দেখলাম খালেদা জিয়া সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ পদ পেয়েছে। তখন দেশরতœ শেখ হাসিনা বললেন, ভোট কারচুপি হয়েছে, আমরা এই ভোট মানি না। খালেদা জিয়ার এই কথা শোনার সময় ছিলো না। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হবেন এই আনন্দে তিনি বিভোর ছিলেন। খালেদা জিয়া সরকার গঠনের ২মাস পর দেশের প্রাকৃতিক দূর্যোগ হয়েছিলো। দেশের বিভিন্ন পেশাশ্রেণির মানুষ তার কিছু চাইলেই তিনি অকারণে তাদের গুলি করে হত্যা করেছেন। দিনাজপুরের মেয়ে ইয়াসমিনকে সে সময় পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মম ভাবে নির্যাতন করেছিলো।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যার নেতৃত্বে সরকার সফল ভাবে ১২ বছর অতিবাহিত করে দেশের প্রভূত উন্নতি সাধিত করে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে। আর এতে করেই বিএনপি’র গা জ্বালা শুরু হয়েছে। তারা নাকি ১মার্চ রাজশাহীতে মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকার পতন আন্দোলন শুরু করবে, তাদের উদ্দেশ্যে লিটন বলেন, ০১ মার্চ আমরাও রাজপথে থাকবো, যদি কোন উস্কানিমূলক কর্মসূচি এবং জন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, এমন কর্মকা- করলে রাজনৈতিক ভাবেই তার মোকাবিলা করা হবে।
ডাবলু সরকার বলেন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখান করেছিলো, জনগণ তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়েছিলো। কিন্তু সেটা হয় নি। তারা একতরফা নির্বাচন করে ভেবেছিলো পাকাপোক্ত ভাবে তারা ক্ষমতায় আসীন হবে। কিন্তু দেশের জনগণ সেটা হতে দেয় নি। দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণ সেই দিন খালেদা জিয়াকে গদি থেকে টেনে হেঁচড়ে নামিয়েছিলো। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের ১২ই জুন দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। প্রতিষ্ঠিত হয় জনগণের সরকার। সেই সরকারের সুফল জনগণ পেয়েছিলো, ১০ টাকা কেজি চাল, ৩০টাকা কেজি তেল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে ছিলো। দেশে সুশাসনের বাতাস বইছিলো। কিন্তু বলেন, ২০০১ সালের ০১ অক্টোবরের নির্বাচনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করা হয়। ক্ষমতায় আসে জামায়াত-বিএনপি। দেশে এক বিভিষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে রুপ নেয়। বিরোধী দলকে দমন করার জন্য জঙ্গী সংগঠন জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ সৃষ্টি করে খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া’র নেতৃত্বে বাংলা ভাই ও শায়খ রহমানদের তৈরি করা হয়। এই বাংলা ভাই রাজশাহীর ২২ জন আওয়ামী লীগের নেতাকে হত্যা করে শান্তিপ্রিয় রাজশাহী শহরকে অশান্ত করতে চেয়েছিলো। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে ৬৩টি জেলায় তারা বোমা বিস্ফোরন করেছিলো। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশরত্ন শেখ হাসিনা বলেছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো, দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। তারই ধারাবাহিকতায় জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন এবং বাংলাদেশের মানুষ যেগুলো কখনই কল্পনা করতে পারেন নি, তিনি সেই সকল উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন।
তিনি বিএনপি’র উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করেছেন। বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সবসময়ই উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন। উস্কানির মাধ্যমে এই শান্তির শহরকে যদি তারা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই তাহলে তারা কখনও এই রাজশাহীর মাটিতে থাকতে পারবে না। এই রাজশাহীর মাটি হযরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহঃ) এর পূণ্যভূমি। তিনি একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন। এই মাটিতে শায়িত আছেন আমাদের জাতীয় নেতা শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান। আর রাজশাহীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁরই সুযোগ্য পুত্র, আমাদের প্রিয় নেতা, শান্তিপ্রিয় নেতা জননেতা এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। সামনে তারা জনসমাবেশ করবে, পূর্বের মতো বিশৃঙ্খল কাজ করলে আমরা তাদেরকে কঠোর ভাবে প্রতিহত করবো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, রেজাউল ইসলাম বাবুল, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, আহ্সানুল হক পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আসলাম সরকার, মীর ইসতিয়াক আহম্মেদ লিমন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফিরোজ কবির সেন্টু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আলম রবি, আইন সম্পাদক অ্যাড. মুসাব্বিরুল ইসলাম, শ্রম সম্পাদক আব্দুস সোহেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক পংকজ দে, সদস্য এনামুল হক কলিন্স, নজরুল ইসলাম তোতা, আশরাফ উদ্দিন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আব্দুল মান্নান, সৈয়দ মন্তাজ আহমেদ, আলিমুল হাসান সজল, মজিবুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, ইউনুস আলী, মোখলেশুর রহমান কচি, মাসুদ আহম্মেদ, খায়রুল বাশার শাহীন, বোয়ালিয়া (পূর্ব) থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি আতিকুর রহমান কালু, বোয়ালিয়া (পশ্চিম) থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান রতন, রাজপাড়া থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাফিজুর রহমান বাবু, নগর কৃষক লীগ সভাপতি রহমতউল্লা সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সাকির হোসেন বাবু, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আব্দুল মোমিন, সাধারণ সম্পাদক জেডু সরকার, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি রকি কুমার ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান রাজিব প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ