সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নির্দেশনা নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা সময়ের দাবি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্বেচ্ছাচারী ও উস্কানিমূলক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। পৃথিবীর অনেক দেশই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। তারাও আইন প্রণয়ন করে ক্ষতিকর প্রভাব রোধ করতে চাইছে।
আমাদের দেশেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার যে ভাবে গতি পাচ্ছে তাতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের যথেষ্ট কারণ আছে। এটি এখন সময়ের দাবিও।
বিজ্ঞানের অগ্রগতির ধািরাকে যেমন এগিয়ে নিসতে হবে তেমনি এর অপব্যবহারের প্রবনথা বা অপহেণ্টাও রুখে দেয়ার ব্যবস্থাও থাকতে পারে। নতুবা সমাজের মূল্যবোধ ক্ষুণœ হতে পাওে, অস্থিতিশীল হতে পাওে সমাজ। সারা পৃথিবীই এখন ডিজিটাল যোগাযোগে নিজেদের যুক্ত রেখেছে। বিবিধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কার্যকর রয়েছে সর্বত্র। এর সুফলও যথেষ্ট পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারের নানা সুযোগও রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে রেডিও-টেলিভিশনের চেয়ে গুগল, টুইটার, ফেসবুক, টিকটক বড়সংখ্যক মানুষের হাতের কাছে। কোটি কোটি মানুষের হাতে রয়েছে স্মার্টফোন। তাই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অপব্যবহারকারীরা বিভিন্ন বয়সের মানুষকে নানা রকম অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করতে পারছে। যুক্ত করছে নানা আসক্তিতে। জঙ্গিবাদ ও বিভিন্ন নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীরা নিজেদের অপকর্মের হাতিয়ার বানাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে। নানা গুজব ছড়িয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তুলতে ভূমিকা রাখছে। ভূমিকা রাখছে দেশ থেকে বিদেশে অর্থপাচারে। জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। অনেক ক্ষেত্রে নৈতিক স্খলন ঘটাতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চা থেকে প্রজন্মের মন সরিয়ে নিচ্ছে অন্ধকারের দিকে।
এভাবে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে কোনো কোনো গোষ্ঠী। আমরা মনে করি যে বক্তব্যে, যে প্রচারণায় রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাকে প্রতিরোধ করতেই হবে।
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সরকার ঘর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ অনুসরণের উদ্যোগ নিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার সব পর্যায়ে ইতোমধ্যেই দশ দফার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার বা নিজ অ্যাকাউন্টে ক্ষতিকারক কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং সেজন্য প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদেও অবশ্যই দায়িত্বশীল আচরণ বাঞ্ছনীয়। কিন্তু দেখা গেছে লাগামহীন রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা লাগামহীনভাবে চলে আসছে। সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু নির্দেশনা দিলেই চলবে না এর নিবিড় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকাও দরকার হবে। যে বা যারাই বিচ্যূতি হবে বা নির্দেশনার লঙ্ঘন করবে তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অপব্যবহারের কারণে যাতে সমাজ ও রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা দেখার দায়িত্ব সরকারের। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইন করে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ