সামাজিক সংগঠনগুলোর বিরিুদ্ধে বিভিন্ন দফতরে ‘উড়োচিঠি’ || বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ

আপডেট: জুলাই ৩, ২০১৭, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে নেমেছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। নিজেদের নাম ব্যবহার না করে ওই সিন্ডিকেট রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদসহ একাধিক সামাজিক সংগঠনের আন্দোলন ও সংগ্রাম দমিয়ে দেয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি দফতরে উড়ো চিঠি দিয়ে পরিকল্পিত ও কল্পনাপ্রসুত মনগড়া মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রশাসনের কান ভারি করার চেষ্টা করছে।
ওই সিন্ডিকেট সম্প্রতি রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং বিশিষ্টজন ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে উড়ো চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহীর সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এসব উড়োচিঠির কোনো ভিত্তি না থাকলেও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ এসব অভিযোগের ভিত্তিতে এসব সংগঠনের নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও গোপনে খোঁজ খবর নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এসব সামজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
তারা মনে করেন, রাজশাহীর উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার নিয়ে সামাজিক সংগঠন যখন সোচ্চার ভূমিকা রাখছে তখন কতিপয় সার্থন্বেষী গোষ্ঠি সামাজিক সংগঠনসমুহের বিরুদ্ধে উড়োচিঠির মাধ্যমে বিভিন্ন ভুল  তথ্য সন্নিবেশিত করে প্রশাসনের কাছে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এ নিয়ে রাজশাহীর বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, উড়োচিঠির কোনো ভিত্তি নেই। এসব চিঠিদাতাদের প্রশাসন না খুঁজে বরং সামাজিক সংগঠনসমুহের নেতাদের পেছনে অনুসন্ধান শুরু করেছে। নেতৃবৃন্দ মনে করেন, উড়োচিঠির ভিত্তিতে নয়, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের সুষ্ঠু অনুসন্ধান জরুরি।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, দুইযুগের বেশি সময় ধরে রাজশাহীর উন্নয়নের পক্ষে থেকে সমাজের অবহেলা, দুর্নীতি, চিকিৎসায় অনিয়ম, পানির সমস্যা, মাদকের আগ্রাসন, সস্ত্রাস বন্ধের দাবি ছাড়াও রাজশাহীর রেশম কারখানা চালু, পদ্মা নদীর বাধ সংরক্ষণ, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প, রেলওয়ের উন্নয়ন, গ্যাস, হোল্ডিং ট্যাক্স, সোনাদিঘি ও ভুবনমোহন পার্ক রক্ষার জন্য আন্দোলন করে আসছে। শুরু থেকেই এ সংগঠন মানুষের অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার আওয়াজ তুলে তিলে তিলে গণমানুষের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় এ সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে একটি বিশেষ মহল উঠেপড়ে লেগেছে। নিজেদের নাম প্রকাশের সাহস না থাকলেও তারা উড়োচিঠি দিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করছে আর সামাজিক সংগঠনসমুহের সুনাম ক্ষুণেœর পাঁয়তারা করছে। তারা বিভিন্নভাবে এসব সংগঠনের নেতাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে দূরে থাকারও ঈঙ্গিত দিচ্ছে। এ নিয়ে নগরীর বিশিষ্টজনরাও গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা গোপনে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানার পোস্টারও ছিড়ে ফেলেছে।
রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রবিউস সামস প্যাডির নামেও একই ধরনের চিঠি দেয়া হয়েছে প্রশাসনের কাছে। একই ধরনের চিঠিতে নগরীর বিভিন্ন সামজিক সংগঠনের বিরুদ্ধেও নানাভাবে কুৎসা রটানো হচ্ছে। এছাড়া রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খানের ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবেও ভুল তথ্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রবিউস সামস প্যাডি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি গোষ্ঠি তাদের পিছনে লেগেছে। তাদের ভালো কাজ মেনে নিতে না পেরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নানা বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। এ সিন্ডিকেটের পেছনে কতিপয় সন্ত্রাসী ও মুখোশের আড়ালে থাকা রাঘব বোয়ালরাও জড়িত রয়েছে বলে মনে করেন তারা।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাংগাঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ প্রামানিক দেবু বলেন, যারা কাপুরুষ, নোংরা মনের অধিকারী। তারা সরাসরি সামনে না এসে বেনামে উড়োচিঠির মাধ্যমে জনপ্রিয় সামাজিক সংগঠনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। নেতাদের নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কুৎসা রটাচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আশার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, যারা মুখোশের আড়ালে থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে আন্দোলন দমাতে চায় তাদের সনাক্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রাজশাহী বারিন্দ্র মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. বিকে দাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সবসময় একটি পক্ষ ভালো কাজের বিরুদ্ধে থাকে। তারা প্রকাশ্যে না আসতে পেরে উড়োচিঠির মাধম্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়। তাদের অপচেষ্টা কোনোদিন টেকে না। তাদের ভিত্তিহীন চিঠি আমলে না নিয়ে এইসব উড়োচিঠিদাতাদের খুঁজে বের করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাাডভোকেট ইয়াহিয়া বলেন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ছাড়ার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন রাজশাহীর বিবেক হিসেবে কাজ করছে। এসব সংগঠন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র টিকবে না। কোন গোষ্ঠি এসব উড়োচিঠির মাধ্যমে সংগঠনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তা চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ঈদের আগে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদর বিরুদ্ধে একটি উড়োচিড়ি ছড়ানো হয়েছে। এ চিঠির কপি মহানগর পুলিশের অভিযোগ বাক্সে ফেলে আসা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ