সাম্প্রদায়িকতার সকল বীজ উপড়ে ফেলতে হবে : রাবি উপাচার্য

আপডেট: অক্টোবর ২৫, ২০২১, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয়সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ

রাবি প্রতিবেদক:


‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় সাম্প্রদায়িকতার ঠাঁই নেই’ কথাটি বাস্তবায়ন করতে হলে সাম্প্রদায়িকতার সকল বীজ উপড়ে ফেলতে হবে এবং সম্প্রীতি রক্ষার্থে দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় তথা যেখানে জাতির বিবেক তৈরী হয়, তাদেরকে সোচ্চার থাকতে হবে।’

গতকাল সোমবার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় প্যারিস রোডে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত এক মানববন্ধনে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার এ কথা বলেছেন।

উপাচার্য আরও বলেন, ধর্মের রাজনীতি ও ধর্মাশ্রয়ের রাজনীতির মধ্যে ব্যাপক ফারাক রয়েছে। কেননা, রাষ্ট্র ধর্ম, সমাজ ধর্ম ও মানবিকতা ধর্ম আজ ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতিতে বিপন্ন হয়েছে। অথচ ১৯৭১ সালের বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠন করার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা হয়েছিল। কিন্তু আজ দেশ যেন ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। যা আড়াই শতবছর আগের উদ্ভাবিত সম্প্রীতির ঐক্য বিনাশী দ্বিজাতিতত্ত্বের বিষবাষ্প লেলিহান শিখায় পরিণত হয়েছে। ফলে আজ পুড়ছে ঘরবাড়ি, পুড়ছে মানুষ, পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাচ্ছে আত্ম-মানবিক সম্পর্ক। এ যেন সাম্প্রদায়িকতার এক নতুন বিষবাষ্প।

উপাচার্য বলেন, আমরা তো আবহমান বাংলায় সহশ্র বছর ধরে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। যেখানে আমরা বড় হয়েছে অসাম্প্রদায়িত চেতনায়। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে, তা চিন্তা করার বিষয়। ১৯৭৫ সাল পরবর্তী কুচক্রী মহলের দ্বারা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের নামে যে কুসংস্কার ছড়ানো হয়েছিল, তারই পরিণত ফল আজকের এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। যদিও বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গঠিত, তবে কিছু নগণ্য মানুষ এই সম্প্রীতি নষ্ট করছে।

মানবন্ধনে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক বলেন, দেশ যখন উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দেশের এক কুচক্রি মহল পরিকল্পিত ভাবে দেশের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করছে। কিন্তু স্বাধীনতার এই সুবর্ণ জয়ন্তীতে এমন অরাজকতা সত্যিই ন্যক্কারজনক।

তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক দেশে এমন অরাজকতা রুখতে প্রয়োজন বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সরকারের কার্যকরি হস্তক্ষেপ। সেইসাথে দেশের আইসিটি এক্টের কার্যকরি প্রয়োগ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাতে কোনো গুজব ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক তারেক নূরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, উপ-উপাচার্যদ্বয় অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম ও চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দকুমার সাহা প্রমূখ। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম, প্রক্টর অধ্যাপক লিয়াকত আলী, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমানসহ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন সমিতির সদস্য ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।