সাম্প্রদায়িকতা রোধে রবীন্দ্রচর্চা বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে : রাষ্ট্রপ্রতি

আপডেট: মে ৯, ২০১৭, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

জিল্লুর রহমান, নওগাঁর পতিসর থেকে ফিরে


নওগাঁর পতিসরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি মো.আব্দুল হামিদ- সোনার দেশ

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেছেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালিদের মাঝে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বীজ বপন করেছিলেন। আজ যখন বিশ্বের সর্বস্তরে উগ্র-মৌলবাদ সাম্প্রদায়িকতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে, তখন রবীন্দ্রচর্চা আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। রবীন্দ্রনাথ নিজে মানবতাবাদী অসাম্প্রদায়িকতার মানুষ ছিলেন। তাঁর শিল্পীসত্তা এবং মানবসত্তা সবধরণের ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে।
গতকাল রোববার বিকেল ৩টায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত নওগাঁর পতিসরে কবির ১৫৬তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ আরো বলেন, রবীন্দ্রনাথ কেবল তাঁর সময়ের কবি নন, তিনি ছিলেন সর্বকালের কবি। তিনি বাংলা সাহিত্যকে পূর্ণতা দিয়েছেন, দিয়েছেন বিশ^ সমাজে উচ্চ প্রতিষ্ঠা ও মর্যাদা। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথা সাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন দিকপাল ও উজ্জল নক্ষত্র। তাঁর সাহিত্য সম্ভার একদিকে যেমন বিশাল তেমনই আপন মহিমায় তা বর্নাঢ্য। তাঁর কালজয়ী লেখায় একদিকে বাংলাভাষা ও সাহিত্য যেমন শুদ্ধ হয়েছে তেমনই বিশ্ব সাহিত্যের অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়েছে আপন বৈভব, আঙ্গিক, বহুমাত্রিকতা আর সার্বজনিনতায়।
তিনি আরো বলেন, রবীন্দ্রনাথ সুবিধাবঞ্চিত বাঙালির প্রতি বিশ^াস স্থাপন করেছিলেন। তাদের কল্যান সাধনে ও সুশিক্ষিত করে তোলার জন্য লেখালেখির পাশাপাশি সমাজকর্মী ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে কাজ করে গেছেন। তিনি সংকীর্ন জাতীয়তাবাদ নয়, তিনি বাঙালিকে বিশ^বাদে দিক্ষা দিতে চেয়েছেন। দরিদ্র প্রজাদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য কৃষি ব্যাংক, সমবায় ব্যাংক, সমবায়নীতি ও কল্যানবৃত্তি চালু করেছিলেন। কবি ছিলেন দার্শনিক, সমাজ ভাবুক এবং পল্লী সংস্কারক। গ্রামকে অবজ্ঞা করে নগর নির্ভরতা, শিক্ষিত শ্রেণি-নির্ভরতা ‘ভদ্রলোকের ভারতবর্ষ’ গড়ার বিরোধী ছিলেন তিনি। আজও রবীন্দ্রনাথ আমাদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনধারায় প্রত্যয়ে ও প্রত্যাশায় সমভাবে প্রাসঙ্গিক। স্বদেশপ্রেম, মানবতাবাদ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বিশ^বোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর রচনাবলী এবং কর্মধারা নিঃসন্দেহে প্রেরণার অসীম উৎস। তাই রবীন্দ্রনাথের বিশালতা এবং তাঁর সৃষ্টির অপূর্ব মাধুর্যকে অন্তরাত্মা দিয়ে উপলব্ধি করতে হলে রবীন্দ্রচর্চার কোনো বিকল্প নেই।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত নওগাঁর পতিসর কাছারী বাড়ি সংলগ্ন দেবেন্দ্র মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জমান নূর এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক এমপি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ইব্রাহীম হোসেন খান, অধ্যাপক ড. হায়াৎ মামুদ, নওগাঁর জেলা প্রশাসক ড. মো. আমিনুর রহমান প্রমুখ।
এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাড. শহিদুজ্জমান সরকার এমপি, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মালেক এমপি, ছলিম উদ্দিন তরফদার এমপি, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নুর উর রহমান, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশিদ হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বী বকু, নওগাঁর পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরে দেবেন্দ্র মঞ্চে ঢাকা শিল্পকলা একাডেমী, নওগাঁ জেলা শিল্পকলা একাডেমী, রানীনগর শিল্পকলা একাডেমী ও আত্রাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবশেন করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ