সার থেকে অ্যামোনিয় গ্যাস ছড়াচ্ছে ।। কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিন

আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০১৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

নগরীর শিরোইল কলোনির বাসিন্দারা অ্যামোনিয়া গ্যাসের কবলে পড়েছেন।  রাজশাহী রেল স্টেশনের উত্তর-পূর্বে বিসিআইসি এর একটি সার গুদাম আছে। গুদামে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি সার মজুদ রাখা হয়েছেছে। গুদামের অভ্যন্তরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে সার স্তুপীকুত অবস্থায় আছে। এই সার থেকেই অ্যামোলিয়া গ্যাস উদগীরন হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন এবং সড়কে চলাচলরত পথচারীরা বিষাক্ত এই গ্যাসের শিকার হচ্ছেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশে বুধার লিড শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ওই গুদামে ৮ হাজার মেট্রিক টনের ধারণ ক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সার রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ৭৩৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে গুদামের বাইরে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। এসব সার রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়।
বিসিআইসি সূত্র মতে, এক বছর ধরে সারগুলো খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। বৃষ্টির পানি ও রোদের তাপে ৫০০ বস্তার মধ্যে ৬০টি বস্তার সার গলে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। খোলা আকাশে রাখা সারের তলার দিকের বহু বস্তা শক্ত হয়ে গেছে।
উল্লিখিত গুদামের সার এক বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মতে, ওই অবস্থায় সার পড়ে থাকলে সারের মধ্যেকার অ্যামোনিয়া গ্যাস বাতাসের সঙ্গে মিশে তা পরিবেশ দুষিত করবে। এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক উপসর্গ তৈরি করে। দীর্ঘ সময় কেউ এই পরিবেশে থাকলে তার মারাত্মক স্বাস্থ্য জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় তীব্র ঝাঁজ। চোখ জ্বালা করে, পানি পড়তে শুরু করে। কেউ এই এলাকায় আসতে চায় না। অনেকের পেট ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, হাঁচি, চোখ জ্বালা করাসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গুদাম সংলগ্ন এলাকার দোকানপাটগুলোতে ব্য¦সা মন্দাও দেখা দিয়েছে। সন্ধ্যার পর এলাকার লোকজন জররি বিষয় না থাকলে বাড়ির বের হন না।
সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকেরা  যে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অ্যামোনিয়া গ্যাস যে ছড়াচ্ছে তা এতোদিন সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের গোচরে বিষয়টি আসলো না কেন? তারা ককি জেনেও বিষয়টি নিয়ে উদাসীন ছিলেন? বরং তাদের দায়িত্বেই বিষয়টির আগেই সুরাহা হওয়া উচিৎ ছিল। তবে পরিস্থিতি এখনো নাগালের বাইরে যায়নি বলেই আমাদের ধারণা। পরিস্থিতি বিগড়ে যাওয়ার আগেই সমস্যাটির সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে তা নিয়ে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। ব্যাপারটিকে সে ভাবেই আমলে নিয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলেই আমরা মনে করি। গুদামের বাইরে যেসব সার স্তুপীকৃত আছে সে গুলোর দ্রুত অপসারণ করা দরকার। শুধু তাই নয়, সার গলে যেহেতু মাটির সাথে মিশে গিয়ে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া গ্যাস বাতাসে ছড়াচ্ছেÑ সেটাও যেন বন্ধ করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ