সাহেদের মামলার তদন্তভার নিতে আগ্রহী র‌্যাব

আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২০, ১১:১০ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের প্রতারণা মামলার তদন্তভার নেওয়ার জন্য যেসব আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে, সে অনুযায়ী র‌্যাব কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন এই বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকাল তিনটার দিকে র‌্যাবের সদর দফতরে সাহেদের গ্রেফতার পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন র‌্যাব ডিজি।
সাহেদের মামলার তদন্ত করছে পুলিশ, আর অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব— এতে র‌্যাব বিব্রত কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা বিব্রতবোধ করলে প্রতারণার অভিযোগে সাহেদকে গ্রেফতার করে আনতাম না। এতেই বোঝা যায় যে, বিব্রতবোধ করার কোনও প্রশ্নই আসে না। এই মামলার তদন্তভার গ্রহণের জন্য যে প্রক্রিয়া আছে, সেটি মেনেই আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করবো।’
‘রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আমরা ছবি দেখেছি তাকে গ্রেফতারের সময় তার কোমড়ে পিস্তল ছিল। এমন একটি অস্ত্র তার কাছে রেখে ছবি তোলায় র‌্যাব কতটুকু দায়ত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে’? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘এটা আমি দেখিনি।’
তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমেই বলেছি, সাহেদ খুব ধুরন্দর প্রকৃতির। সে বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে প্রতারণা করার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতো। এভাবে গণ্যমান্যদের বিভ্রান্ত করতো। সে স্থান পরিবর্তনের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতো। এই জন্যই তার উত্তরার অফিসে জাল নোট, জুতো ও সুটকেস ভরা কাপড় পাওয়া গেছে।’
র‌্যাবের ডিজি বলেন, ‘রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের কাছে যারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তারা র‌্যাবের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেন। আমরা তাদেরকে আইনগতভাবে অভিযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়াও আইগতভাবে আমরা তাদেরকেও সহযোগিতা করছি এবং করবো।’
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতাল করোনা পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করে, এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজিকে শোকজ করা হয়। তবে মহামারির এই সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের যারা সাহেদকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের বিষয়ে র‌্যাবের ভূমিকা কী? এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতর নিজেরাই ব্যবস্থা নিচ্ছে। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই আমরা দেখছি।’
রিজেন্ট হাসপাতালের মতো দেশের অন্যান্য হাসপাতালেও বিভিন্ন প্রতরণার অভিযোগ রয়েছে, সেসব হাসপাতালেও র‌্যাব এভাবে অভিযান অব্যাহত রাখবে কিনা? জানতে চাইলে র‌্যাব ডিজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আপনারা জানেন, কয়েকদিন আগেও আমরা এসএইচএফ হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছি। সেই হাসপাতালের মালিক এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। যেখানেই আমরা তথ্য পাচ্ছি, সেখানেই আমরা গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করছি।’
এর আগে বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার কামালপুর গ্রামে লবঙ্গবতী খালের পাশ থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এসময় তিনি নদী পার হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় সাহেদ নৌকায় ওঠার পরপরই তাকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেন র‌্যাবের সদস্যরা। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন