সাহেদ ও সাবরিনার জালিয়াতি! ভয়ঙ্কর জালিয়াতচক্র যাতে রেহাই না পায়

আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২০, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

দেশবাসী অবাক-বিস্ময়ে দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিশৃঙ্খলা প্রত্যক্ষ করছে। কী সরকারি কিংবা বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এক ধরনের উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যাতে মূলত এ দেশের সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মুখে পড়ছে। মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেÑ কোনো কোনো ক্ষেশত্রে সর্বস্ব হারাচ্ছে- এমনকি অকালে জীবন হারাচ্ছে। এসব অনিয়ম বিশৃঙ্খলার ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমে বিস্তর প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার হয় কিন্তু কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায় নি কিংবা স্বাস্থ্যসেবা শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনার কার্যকর কোনো উদ্যোগও লক্ষ্য করা যায় না।
বর্তমান সময়ে সারা দেশ জুড়ে রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম এবং জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফকে নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশের দায়িত্বশীল সংবাদ মাধ্যমে এদের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ হচ্ছে। সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে জালিয়াতি মামলা নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এবং ডা. সাবরিনাকে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার তিনদিনের রিমান্ড চলছে। করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট দেয়া এবং অর্থ আত্মসাৎসহ নানা প্রতারণার অভিযোগ এদের বিরুদ্ধে। অথচ রিজেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকার পরেও সরকারের সাথে করেনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের চুক্তি হয় প্রতিষ্ঠানটির। অর্থাৎ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর জেনেশুনেই কিংবা কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করেই ওই চুক্তি করেছে। খুবই অবাক করার মত একটি বিষয়।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী কাগজে-কলমে সাহেদের পেশা একটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান এবং সমাজসেবক হলেও তিনি একেকজনের সামনে নিজের একেক পরিচয় তুলে ধরছেন। একেক সময় একেক নাম ধারণ করেছেন। কখনো সামরিক কর্মকর্তা, কখনো মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতা আবার সমাজসেবক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন। তার সাথে মন্ত্রী-এমপি ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পর্ক। এর ফলে অন্যরা সাহেদকে প্রভাবশালী মানুষ হিসেবেই জানতেন। এই সুবাদে সাহেদ একের পর এক জালিয়াতির ঘটনা ঘটিয়ে যেতে পেরেছে।
অন্যদিকে ডা. সাবরিনা সরকারি কমকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তার স্বামী আরিফ সহযোগে করোনার ভুয়া টেস্ট করে মানুষকে রিপোর্ট দেয়া শুরু করে। পুলিশ জানায়, জেকেজি হেলথকেয়ার থেকে ২৭ হাজার রোগীকে করোনা টেস্টের রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনার নমুনা আইইডিসিআরের মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ রিপোর্ট প্রতিষ্ঠানটির ল্যাপটপে তৈরি করা হয়। জব্দ করা ল্যাপটপে এর প্রমাণ মিলেছে।
এটা ভয়ঙ্কর জালিয়াতি। এতে করে বিশ্বে বাংলাদেশ ভাবমূর্তি সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে। দেশ ও মানুষের শত্রু এই জালিয়াত চক্রের কঠোর শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়। কোনো অবস্থাতেই যেন তাদের অপরাধ চোরাবালিতে হারিয়ে না যায়। দেশের মানুষ এই ভয়ঙ্কর জালিয়াত চক্রের বিচার চায়, কঠিন শাস্তি চায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ