সাড়ে তিনশ বস্তা সরকারি চাল নিয়ে ট্রাক উধাও

আপডেট: জুন ২৫, ২০১৭, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর পবা উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে সাড়ে তিনশ বস্তা চাল বাইরে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছুটির দিনে খাদ্য গুদাম থেকে চাল বের হবার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগ এবং জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। এছাড়া সাড়ে তিনশ বস্তা চালভর্তি ট্রাকের পাশাপাশি একটা ফাঁকা ট্রাকও খাদ্য গুদাম থেকে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। গণমাধ্যমকর্মীরা গতকাল শনিবার দুপুরে বিষয়টি টের পেলে ঘটনাস্থলে যান। এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি দেখে বস্তা ভর্তি ও ফাঁকা ট্রাক দুটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সরকারি ছুটি ছিলো। দুপুর দুইটার দিকে রাজশাহী সদর খাদ্য্য গুদামের দুই নম্বর পবা ইউনিটের সাত নম্বর গুদাম থেকে দুই ট্রাক চাল বাইরে বের হবার সংবাদ পেলে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে যান। এসময় দেখা যায়, চালভর্তি একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-০৬৩৫) দাঁড়িয়ে আছে। চত্বরের ভেতরে খাদ্য গুদাম থেকে একটু দূরে আরো একটি ফাঁকা ট্রাক (ঢাকা-মেট্রো-ট-১১-০৫৫২) অবস্থান করছিলো।
এসময় গুদামের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (তিনি তার নামপ্রকাশ করেন নি) বলেন, ৫০ কেজি ওজনের ৩৫০ বস্তা চাল ট্রাকে লোড দেয়া হয়েছে। ছুটির দিনে চাল কোথায় যাচ্ছে- এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) আবদুর রহিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। আবদুর রহিম রাজশাহী সদর ও পবার খাদ্য গুদামের দুই নম্বর ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এসময় মোবাইল ফোনে আবদুর রহিম বলেন, খাদ্য বিভাগে কোন ছুটি নেই। আর ছুটি থাকলেও চাল বের করা যাবে না- এ ধরনের কোন নিয়ম নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আপনাকে (গণমাধ্যমকর্মীকে) সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে ফোনে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না। এ কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে খাদ্য কর্মকর্তা আবদুর রহিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় দ্রুত ট্রাক দুটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর গণমাধ্যমকর্মীরা পবা খাদ্য গুদামের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা খোঁজ করেও ট্রাক দুটির সন্ধান বের করতে পারেন নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে. সংশ্লিষ্ট খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা আবদুর রহিম ও তার অধীনস্থ কর্মচারীরা ঘটনা থেকে বাঁচতে ট্রাক দুটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।
অপরদিকে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, গুদাম থেকে চিকন চাল বের করে মোটা চাল ঢোকানোর পরিকল্পনা ছিলো। আর এ কারণেই প্রথমেই চিকন চাল বের করা হচ্ছিলো। এরপর ঈদের লম্বা ছুটিতে সময় আর সুযোগমত মোটা চাল ঢোকানো হত গুদামে।
ওই সূত্র আরো আরো জানায়, বাজারে হাইব্রিড মোটাজাতের চাল ৩৩ থেকে ৩৪টাকা কেজি। আর স্বর্ণা চিকন জাতের চাল ৩৯ থেকে ৪০টাকা কেজি। তাই গুদাম থেকে চিকন জাতের চাল বের করে মোটা চাল ঢোকাতে পারলে কেজিতে পাঁচ টাকা করে লাভ হবে। আর বস্তাভর্তি ট্রাকটিতে ছিলো সাড়ে তিনশ বস্তা চাল। প্রতি বস্তায় ছিলো ৫০ কেজি চাল। এহিসেবে ট্রাকটিতে মোট চাল ছিলো সাড়ে ১৭টন। আর কেজিতে পাঁচ টাকা লাভ হলে ট্রাকের মোট চাল থেকে এ চক্রটি মোট ৮৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিতো। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নগরীতে ভিজিএফ ও ভিজিডি নেই। আবার ঈদের একদিন আগে র‌্যাব, পুলিশ, আনসারসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাল বরাদ্দ নেই। সেহেতু ঈদের চালগুলো হয় লোপাট হচ্ছে, নতুবা মোটা চাল দিয়ে চিকন চাল পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে অবৈধভাবে। আর এভাবেই মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে একটি চক্র।
অভিযোগের ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুস সালাম বলেন, সদরে ভিজিএফ, ভিজিডি না থাকলেও মূলত র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে আমাদের কাছ থেকে চাল সরবরাহ দেয়া হয়। কিন্তু পবা খাদ্য গুদাম থেকে কী কারণে ট্রাকে চাল লোড করা হচ্ছিলো- সে বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এঘটনায় খারাপ কোন উদ্দেশ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে খাদ্য কর্মকর্তা আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে নগরীতে একাধিক বাড়ি, আরডিএ’র শতাধিক দোকান ও নগরীর বিলাসবহুল হোটেল আনজুমসহ অঢেল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ