সিংড়ায় আকস্মিক বন্যায় দিশেহারা ভুট্টা চাষিরা

আপডেট: June 3, 2020, 9:37 pm

সিংড়া প্রতিনিধি:


ভুট্টার মোচা শুকিয়ে জ্বালনী হিসেবে সংগ্রহ করছেন কৃষাণীরা- সোনার দেশ

নাটোরের সিংড়ার কৃষি প্রধান চলনবিল অঞ্চলে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি আর নদী পথে উজানের পানি এসে আকস্মিক বন্যার কবলে নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষক। নৌকা নিয়ে পানির নিচ থেকে কেটে ঘরে তুলতে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা। দ্বিগুন শ্রমিক খরচ দিয়েও অর্ধেকের বেশিজমি থেকে ভুট্টা আনতে পারছেন না। ফলে প্রতিবিঘা জমিতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত ডাহিয়া, সাতপুকুরিয়া, বেড়াবাড়ি ও হিজলী গ্রামের চাষিরা বাড়ির পাশের খলায় শ্রমিকরা ভুট্টা মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত, কেউ নৌকা নিয়ে জমি থেকে ভুট্টা কাটছেন। আবার কেউ ভুট্টার মোচা জ্বালানি হিসেবে সংগ্রহ করছেন।
কৃষকরা জানান হঠাৎ বন্যার পানি আসায় তাদের জমির ভূট্টা ডুবে গেছে। তারা জানান, গত বছর প্রতিবিঘা জমি থেকে ৩৫ থেকে ৪০ মণ ভুট্টা পেয়েছিলেন। এবার এই সেই জমি থেকে পাচ্ছেন ১৫ থেকে ২০ মণ।
ডাহিয়া গ্রামের কৃষক আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি ৯ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। পানিতে সব জমি ডুবে গেছে। নৌকা আর শ্রমিক নিয়ে অর্ধেক জমির ভুট্টা কেটে খোলায় তুলেছি। এখন খোলাতে পানি আসায় মাড়াই নিয়ে বিপদে আছি।
ডাহিয়া গ্রামের আরেক কৃষক রুহুল আমিন বলেন, আমার ২৩ বিঘা জমির ভুট্টা কাটা মাড়াই করে ঘরে তুলেছি। গতবারের চেয়ে অর্ধেক ফলন পেয়েছি। আমার প্রতিবিঘায় খরচ বাদে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই অবস্থায় দেনা পাওনা শোধ করতে পারবো না।
সাতপুকুরিয়া গ্রামের মঞ্জুরুল ও হিজলী গ্রামের কৃষক জাহিদুল বলেন, সিংড়ার চলনবিলের নিচু এলাকার বেড়াবাড়ি ক্যানেলে বাঁধ নির্মাণের কারণে একটু বৃষ্টি আর ঢল হলেই পানি জমে বিলের এই অংশে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। ফলে প্রতি বছরই কো নো না কোনো ফসলহানির ঘটনা ঘটে। তারা এই ক্যানেল খননসহ বাঁধ উচ্ছেদের দাবি জানান।
সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে সিংড়া উপজেলায় ১ হাজার ৭ শ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। এরমধ্যে চলনবিলের ডাহিয়া ও ইটালী ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হেক্টর জমির ভুট্টা আগাম বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। নৌকা দিয়ে কৃষকরা এসব জমির ভুট্টা কাটছেন। তাতে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ভুট্টা কৃষকরা ঘরে তুলতে পারবেন। বাকি অঞ্চলের ফলন ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯০ ভাগ ভুট্টা কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ