সিংড়ায় করোনার দুর্যোগে ধানকাটা নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২০, ১০:০৮ অপরাহ্ণ

মো. এমরান আলী রানা, সিংড়া


সিংড়া উপজেলার চলনবিল এলাকায় করোনার দুর্যোগে শেষ পর্যন্ত চাহিদামত শ্রমিক দিয়ে সঠিক সময়ে সুষ্ঠুভাবে জমি থেকে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের।
এখন বৈশাখ মাস। আগামী সপ্তাহ থেকেইে শুরু হবে দেশের চলনবিল অঞ্চলের আগাম জাতের বোরো ধান কাটার মৌসুম। ইতোমধ্যে ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য খোলা পরিস্কার, ধান মাড়াই করার যাবতীয় কৃষি উপকরণ সংগ্রহ ও শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে এ অঞ্চলের কৃষক। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং তুলনামূলক তেমন রোগবালাই না থাকায় চলনবিলের মাঠজুড়ে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছে কৃষক।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত শেরকোল, চৌগ্রাম, ডাহিয়া, ইটালী ও শুকাশ ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠের কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
উপজেলার ডাহিয়া গ্রামের কৃষক আলহাজ মোল্লা বলেন, ধানকাটা মৌসুমে আমাদের এলাকায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক এসে ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়ে যায়। কিন্তু এবার কী হবে? এরমধ্যে অনেক জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এই অবস্থায় অন্য জেলা থেকে কীভাবে শ্রমিকরা আসবে। যদি শ্রমিকরা লকডাউনের মধ্যে সময় মতো আসতে না পারে তাহলে কীভাবে ধান ঘরে উঠবে? বেশ দুশ্চিন্তায় আছি।
আয়েশ গ্রামের কৃষক শেখ বাহা উদ্দিন বলেন, আমার ২৯ বিঘা জমিতে মিনিকেট ধানপ্রায় পেকে গেছে। গত বছরের চেয়ে এবছর ফলন ভাল হবে আশা করছি। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আগামী সপ্তাহে আসতে চেয়েছে। শ্রমিকরা না আসলে বিপদের সীমা থাকবে না।
মানিকদিঘী গ্রামের দিনমজুর মধু মিয়া বলেন,আমরা এখন বাড়িতে বসে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। করোনার ভয়ে বাইরে যাচ্ছিনা। প্রতিবছর বৈশাখ মাসের জন্য অপেক্ষা করে থাকি। এই মাসে ধান কেটে যে ধান পাই তা দিয়ে আমার সংসারের সারা বছরের খোরাক হয়। এ বছর মনে হয় করোনা আতঙ্কে সেই সময় নিয়ে ধান কাটতে পারবো না।
সিংড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৫ শ হেক্টর জমি। সেখানে লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে বোরো ধানের চাষ হয়েছে ৩৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর। কৃষি অফিসের তথ্য মতে প্রতিবছর এই উপজেলায় বোরো ধানকাটা মৌসুমে পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধাসহ ১৬টি জেলা থেকে শ্রমিক আসে ধান কাটতে। এবছরও সেই শ্রমিকের চাহিদাই রয়েছে।
এবিষয়ে কৃষি অফিসার মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, চলমান করোনার এই দুর্যোগে বিভিন্ন জেলা থেকে চাহিদা মত শ্রমিকরা সময় মতই আসবেন। শ্রমিকের কোনো সংকট হবে না। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষকেরা প্রায় ১৪ হাজর শ্রমিকের চাহিদা দিয়েছে। আমরা বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকদের চলাচল ও ধান কাটার বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। এছাড়া সিংড়া পৌরসভাসহ ৫টি ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে ৫০% কমিশনে ৬টি ধানকাটার মেশিন(কাম্বাইন্ড হার্ভেস্টার) বিক্রি করা হয়েছে।
এই মেশিনে ঘণ্টায় ৩ বিঘা জমির ধান কাটা যাবে। সব মিলে কৃষকরা সঠিক সময়ের মধ্যেই ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে।