সিংড়ায় টানা বর্ষণে বিঘ্নিত হচ্ছে ডাকঘরের কার্যক্রম

আপডেট: জুলাই ২৬, ২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

সিংড়া প্রতিনিধি


টানা বর্ষণে নাটোরের সিংড়া উপজেলার একমাত্র প্রধান ডাকঘরের কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। ভেজা স্যাঁতসেঁতে ছাদ। পলেস্তার খসে ছাদের রড বেরিয়ে গেছে। এর মধ্যেই চরম ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাকঘর ভবনটির বয়স খুব বেশি হলেও নির্মাণের পর সংস্কার না করায় তা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বৈদেশিক ও ই-মোবাইলে টাকা লেনদেনের জন্য সম্প্রতি ডাক বিভাগ কম্পিউটার দিয়েছে এ কার্যালয়ে। সেটিও পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। তিনটি কক্ষের এ জরাজীর্ণ ডাকঘরটিতে কার্যক্রম চালানো চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে সিংড়া উপজেলা ডাকঘরে গিয়ে দেখা গেছে, টানা কয়েকদিন একটানা ভারী বর্ষণের কারণে ডাকঘরের ভবনের পলেস্তার খসে কয়েকটি স্থানে ছাদ ফুটো হয়ে ঘরের ভেতরে বৃষ্টির পানি পড়ছে যার ফলে কার্যালয়ের কাগজপত্র সব সময় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ভবনটির একটি জানালাও ভালো নেই। দরজারও বেহাল দশা। এছাড়া ভবনের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তার খসে পড়েছে। বাইরের দেয়ালে গাছ জন্মেছে। একমাত্র টয়লেট রয়েছে, তাও ব্যবহার অনুপযোগী। অফিসের আসবাবপত্র ভাঙা। বাস ভবনটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতো সমস্যার মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পোস্টমাস্টার ও পিয়নরা কাজ করছেন। এছাড়াও কার্যালয়ের পাশে পোস্টমাস্টারের আবাসিক ভবনটিরও একই অবস্থা।
বিপ্লব আলী নামের এক গ্রাহক বলেন, প্রতি সপ্তায় দুই একবার পোস্ট অফিসে আসতে হয়। ভবনের মেঝের ঢালাই উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং ছাদ থেকে বালু ঝুরঝুর করে মাথায় পড়ে। এ ভবনটির দ্রুত সংস্কার করা দরকার। গ্রাহক ইলিয়াস আলী বলেন, প্রতিনিয়ত আমাদের পোস্ট অফিসে আসতে হয়। ভবনটির অবস্থা খুবই খারাপ আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
দায়িত্বপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার রেজাউল করিম বলেন, এই কার্যালয় থেকে ২০টি ক্যাটাগরিতে প্রায় ত্রিশ হাজার গ্রাহককে সেবা দেয়া হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই ছাদ থেকে পানি পড়ে। ভবনটি শিগগিরই সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, একাধিকবার ভবনের এ দুর্দশা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ফল মেলে নি।