সিংড়ায় নিহত সাংবাদিকের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান তার স্ত্রীর

আপডেট: মে ১০, ২০২২, ১১:১৯ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি:


পরিবারের এক মাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি ছিল স্বামী । তাকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী জনি বেগম (২৮)। দশ বছরের ছেলে সিয়াম আহমেদ ও চার বছরের মেয়ে সাদিয়া এই দুই এতিম শিশু সন্তানকে নিয়ে তিনি এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, সেই ভাবনা তাঁকে ব্যাকুল । তবে সরকার যদি তার পাশে দাঁড়ান তাহলে এই ব্যাকুলতার কিছুটা অবসান ঘটবে বলে মনে করেন নিহতের স্ত্রী ।

তাঁর স্বামী সোহেল আহমেদ জীবন (৩৩) গত সোমবার সকালে নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

জনি বেগম জানান, তাঁর শ্বশুর আবদুল জলিল বিশ বছর আগে মারা গেছেন এবং বাবা প্রায় ছয় বছর আগে মারা যায়। এখন বৃদ্ধ শাশুড়িসহ পাঁচজনের সংসারে তাঁর স্বামী সোহেল আহমেদই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

বড় ছেলে সিয়াম হোসেন সিংড়া হামিদিয়া ইসলামিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে। ছোট মেয়ে সামিয়া খাতুন প্রাক্-প্রাথমিকে পড়ে। তাঁর স্বামী সিংড়ার শেরকোল আগপাড়া বন্দর উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। এ ছাড়া বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক দুরন্ত সংবাদ পত্রিকার সিংড়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এখন তার স্বামী অবর্তমানে সংসারের হাল তাকেই ধরতে হবে।

জনি বেগম আরও জানান, তিনি ২০২১ সালে সিংড়া কৃষি ডিপ্লোমা থেকে কম্পিউচার বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এর আগে দমদমা স্কুল ও কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এসএসসি (মানবিক বিভাগ) পাশ করেন। কলেছে ভর্তি হওয়ার পর মাঝে তার দুই বছর ড্রপ আউট হয়। তার এতিম দুই শিশু সন্তান এবং বৃদ্ধ শাশুড়িসহ পাঁচজনের সংসারের খরচ চালাতে তিনি ছারা আর কো বিকল্প নেই। তাই সরকারের কাছে তার আকুল আবেদন একটা কর্মসংস্থানের।

নিহতের ছোট ভাই কাউসার আহমেদ জানান, তারা পাঁচ ভাই, সবাই আলাদা ভাবে থাকেন। দ্বিতীয় ছিল সোহেল আহমেদ। তার ছোট যে কম্পিটারের দোকান রয়েছে সেটি তিনি দেখছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ভইয়ের পরিবারকে দেখা বলাছেন এবং লাশ কাটা-ছেরা না করার জন্যই কোন আইনহত ঝামেলাতে যাননি।

এদিকে গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সোহেল আহমেদে জীবনের লাশ তাঁর বালুয়া বাসুয়ার বাড়িতে নেওয়া হয়। বাবার লাশ থেকে কিছুটা দূরে সিয়াম ও সামিয়া ফুফুর কোলে বসে ছিল নির্বাক দৃষ্টিতে। স্বামী হারানোর শোকের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ঘিরে ছিল জনি বেগমকে।

পরে নিহত সোহেল আহমেদ জীবনের জানাজা শেষে বাদ এশা নামাজ পর দমদমা কবর স্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
অপরদিকে নলডাঙ্গার ইউএনওর গাড়িচাপায় সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে নাটোর জেলা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা খাতুনকে প্রধান করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন নাটোরের বিআরটিএর সহকারী পরিচালক রাশেদুজ্জামান ও সিংড়ার ইউএনও এম,এম সামিরুল ইসলাম। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, সিংড়াতে কেন সেখানে সরকারি গাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, গাড়ির চালক কে ছিলেন, তিনি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলাচ্ছিল কি না, এসব দেখা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওই পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে তিনি জানান, প্রতিটা দুর্ঘটনাই বেদনাদায়ক। দুই দিনের ছুটি জনিত কারনে ঘটনা স্থলে যেতে পারেননি। তবে সেখানে অন্য অফিসারদের পাঠানো হয়েছিল। তিনি এসে নিহত পরিবারের সাথে দেখা করবেন এবং তাদের পাশে থাকার কথা জানান জেলার এই শীর্ষ কর্মকর্তা।