সিংড়ায় বাণিজ্যিকভাবে উন্নতজাতের ঘাস চাষে সফল মতিন

আপডেট: জুন ৪, ২০২১, ৯:৫১ অপরাহ্ণ

সিংড়া প্রতিনিধি:


শুধু গবাদি পশুর খাদ্য হিসাবে নয় মাছের বিকল্প খাদ্যের চাহিদাপুরণে নেপিয়ার ও জাম্বু নামের উন্নত জাতের ঘাস বাণ্যিজিকভাবে চাষ শুরু করেছেন আব্দুল মতিন দুলাল নামের এক কৃষক। কৃষক আব্দুল মতিন দুলালের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিয়াশ গ্রামে। প্রায় ৭ বিঘা পরিত্যক্ত জমিতে এই উন্নতজাতের ঘাস চাষে লাভবান হচ্ছেন তিনি।
আব্দুল মতিনের দেখা দেখি এলাকার অনেক বেকার যুবকরাও এগিয়ে আসছেন এই ঘাসচাষে। আজ থেকে ৩০ বছর আগে কৃষক আব্দুল মতিন ছিলেন একজন বেকার যুবক। ১৯৯২ সালে যুবউন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিয়ে এই এলাকার পরিত্যক্ত পুকুর পরিস্কার পরিছন্ন করে তিনিই প্রথম মাছ চাষ শুরু করেন। মাত্র ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে বেকার থেকে একজন সফল মাছ চাষীও স্বচ্ছল ব্যক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত পান এবং এলাকার মানুষের কাছে ‘মৎস্য দুলাল’ নামে পরিচিত লাভ করেন তিনি। আব্দুল মতিনের কাছ থেকে মাছ চাষের পরার্মশ নিয়ে অনেক বেকার যুবকরা মাছচাষ শুরু করেন এবং তারাও সফল হন। মাছ চাষের পাশাপাশি ৪ বছর আগে শুরু করেছেন উন্নত জাতের বাছুর পালন। সেই থেকে গড়ে তুলেছেন ক্ষুদে খামার। গবাদি পশুরখাদ্য ও মাছের বিকল্প খাদ্যের চাহিদা পুরনে মাছচাষ ও গরু খামারির পাশাপাশি এখন বাণ্যিজিকভাবে চাষ করছেন উন্নত জাতের ঘাসচাষ। মাত্র ৩ বছরে ঘাসচাষেও সফল আব্দুল মতিন।
আব্দুল মতিন দুলাল জানান, গ্লাসকার্প প্রজাতির মাছের প্রধান খাদ্য ঘাস। আমার পুকুরে এই গ্লাস কার্প প্রজাতি মাছের খাদ্য হিসাবে এই ঘাস দেয়। ওই মাছগুলো যখন খাবার খেয়ে মলত্যাগ করে তখন এই মলই হয় অন্য মাছের খাদ্য। এভাবে আমি মাছের বিকল্পখাদ্য হিসাবে এই ঘাস ব্যবহার করি। এছাড়া এই ঘাস বাণ্যিজিকভাবে বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রয় করি। অনেকেই জমি থেকে ঘাস কিনে নেন। ঘাস চাষে আমার প্রতি বিঘাজমিতে খরচ হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। বিক্রয় হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. এস এম খুরসীদ আলম বলেন, সিংড়া উপজেলায় দুগ্ধ গাভীসহ ৪ লাখের বেশি গরু আছে। দিন দিন চারণ ভূমি কমে যাওয়ায় এখানে প্রাকৃতিক ঘাসের ঘাটতি আছে প্রায় ১ হাজার ৫০ মেট্রিকটন। ইতোমধ্যে সারা দেশের মত এই উপজেলাতেও বাণ্যিজিকভাবে ঘাসচাষ শুরু হয়েছে। আগ্রহী কৃষকদের মাঝে আমরা বিনামূল্যে ঘাসের কাটিং বিতরণসহ পরার্মশ দিয়ে সহযোগিতা করছি। আশা করা যায় অল্পদিনের মধ্যে এই উপজেলায় ঘাসের যে ঘাটতি আছে তা পুরন হবে।