সিংড়ায় যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য ।। প্রাণনাশের ভয়ে মুখ খুলছে না এলাকাবাসী

আপডেট: ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


নাটোরের সিংড়া উপজেলার কলম গ্রামে শুভ নামে (২০) এক চা দোকানি যুবকের মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একটি মোটরসাইকেল চুরি সন্দেহে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মঈনুল হক চুনুর উপস্থিতিতে বেধড়ক পেটানোর কারণে ওই যুবকের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেছেন শুভ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলম গ্রামের এক আওয়ামী লীগ নেতা এবং কলম ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মামুনের একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় শুভকে সন্দেহ করে গত রোববার ইউনিয়ন কাউন্সিল কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এ ঘটনায় শুভ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার মারা যায়। প্রকাশ্যে শুভকে পেটানো হলেও প্রভাবশালী ওই জনপ্রতিনিধি এবং তার সহযোগীদের রক্তচক্ষুর কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস করছেন না। এমন কি স্বজনরাও ভয়ে নিরব হয়ে গেছেন। শুভর বাবাও অভিযোগ করতে সাহস করছেন না। অভিযোগ করলে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। ছেলের মৃত্যুতে তিনি নির্বাক হয়ে গেছেন। কেউ তার ছেলের মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দিচ্ছেন মারা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন জানান, গত শনিবার রাতে কলম ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনের বাসা থেকে তার মোটরসাইকেলটি চুরি হয়। এনিয়ে রোববার সকালে ইউপি চেয়ারম্যান মঈনুল হক চুনুর নির্দেশে গ্রাম পুলিশ শুভর বাবা কলম বাজারের চা দোকানি আলমগীর সরকারকে কাউন্সিল অফিসে ডেকে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে আলমগীরকে দিয়েই তার ছেলে শুভকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। ভারী বস্তু দিয়ে পেটানোর কারণে শুভর নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। এসময় তাকে কাউন্সিলের সামনে ফেলে রেখে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার দুই ভাতিজাসহ সহযোগিরা চলে যায়। পরে শুভকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গ্রামবাসীরা জানায়, শুভকে শুধু মারপিট করা হয় নি। প্লাস দিয়ে হাতের আঙ্গুলের নখ তুলে ফেলা হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে শুভর লাশ এনে দ্রুত দাফন করা হয় বলেও জানায় এলাকাবাসী।
তবে স্থানীয় ওই ইউপি চেয়ারম্যান মঈনুল হক চুনু কাউন্সিল অফিসে শুভকে ডেকে মারপিট করার কথা অস্বীকার করলেও তার অস্বাভাবিক মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, শুভকে কেউ মারপিট বা নির্যাতন করে নি। তার বাবা আলমগীর হোসেনকে গ্রামবাসী ডেকে কাউন্সিলে আনে। এসময় তিনি তার ছেলে শুভর খোঁজ নেন এবং ছেলেকে ডেকে আনতে বলেন। কিন্তু শুভকে পাওয়া যায় নি। পরে জানতে পারেন শুভ আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাকে রাজশাহী নেয়া হয়। শুভ ছিল একজন মাদকাসক্ত ও চোর। বাহির থেকে লোক এনে তাদের নিয়ে এলাকায় চুরি করছিল সে। গ্রামবাসী দেখে ফেলায় পরদিন তাকে না পেয়ে তার বাবা আলমগীরকে ডেকে কাউন্সিলে নিয়ে আসে।
তিনি আরো বলেন, এলাকার একটি বাড়িতে ও একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় শুভকে সন্দেহ করে গ্রামবাসী। গ্রামবাসী তার বাবাকে ডেকে আনলে তার ছেলে শুভর জড়িত থাকার কথা বলা হয়। এসময় আলমগীর তার ছেলের খোঁজ করতে গিয়ে তাকে পায় না। পরে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাকে তার পরিবারের লোকজন রামেক হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেই সে মঙ্গলবার সকালে মারা যায়। প্রতিপক্ষরা তার সুনাম ক্ষুন্ন করতে এ ধরনের মিথ্যা কাহিনী বানিয়ে প্রচার করার চেষ্টা করছে। তিনি শুভর মৃত্যুর বিষয়টি তার বাবার কাছে জানার জন্য পরামর্শ দিয়ে বলেন, শুভর বাবাই তাকে বলেছে শুভ আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া রোববার তার দুই ভাতিজার ইউনিয়ন পরিষদের উপস্থিত থাকার কথাও মিথ্যাচার বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে সিংড়া থানায় ওসি নাছির উদ্দিন মন্ডল জানান, থানায় এ ধরনের কোনো অভিযোগ করে নি কেউ। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ