সিংড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় একমাসে ৬ জনের প্রাণহানি

আপডেট: মে ২৪, ২০২২, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ

মো. এমরান আলী রানা, সিংড়া:


নাটোর-বগুড়া মহাসড়ক এখন দুর্ঘটনার জন্য ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা। এ সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত একমাসে সিংড়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন। গত ২০ এপ্রিল থেকে ২৩ মে পর্যন্ত সিংড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্র ও গৃহবধূসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়। নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে ৪ জন, সিংড়া-তাড়াশ আঞ্চলিক সড়কে ১ জন ও সিংড়া-নলডাঙ্গা সড়কে ১ জনের মৃত্যু হয়।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল ইফতারি কিনতে যাওয়ার সময় সিংড়া-নলডাঙ্গা আঞ্চলিক সড়কে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিহত হয় মোটরসাইকেল আরোহী ছাত্রলীগ কর্মী মাসুম আলী। এরপর ২৪ এপ্রিল নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের নিংগইন এলাকায় বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন বাপ্পি ও আল-আমিন নামের দুই বন্ধু।

তারা দুজন সিংড়া উপজেলার চকপুর বিলভরট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। গত ২৬ এপ্রিল সিংড়া-তাড়াশ আঞ্চলিক সড়কে দ্রুতগতির অটোরিকশার সাথে ধাক্কা লেগে প্রাণ হারায় ডাহিয়া গ্রামের গৃহবধূ নার্গিস বিবি। এরপর গত ৯ মে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের নিংগইন তেল পাম্প এলাকায় নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা’র সরকারি গাড়ির চাপায় প্রাণ যায় সাংবাদিক সোহেল রানা (৩৬)। তিনি দুরন্ত সংবাদ পত্রিকার প্রতিবেদক, সিংড়া প্রেসক্লাবের সদস্য ও শেরকোল বন্দর স্কুল এন্ড কলেজের সহকারি শিক্ষক ছিলেন। সর্বশেষ ২৩ মে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের চৌগ্রাম বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় দ্রুতগতির ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ হারান চৌগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আইয়ুব আলী (৩২)।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, গাড়ির ফিটনেস না থাকা, অদক্ষ চালক ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকায় যত্রতত্র সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

পরিবেশ ও প্রকৃতি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, নাটোর-বগুড়া মহাসড়ক এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দুর্ঘটনা রোধে এ সড়কের চলমান কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে উদ্যোগ নিতে হবে। চালক ও পথচারীদের সচেতনতাই পারে দূর্ঘটনা রোধ করতে।

সিংড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল হাসান কামরান বলেন, সারাদেশেই সড়ক দুর্ঘটনা নামে হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সিংড়ায় যতগুলো দুর্ঘটনা ঘটেছে তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনেই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, অযোগ্য অপ্রাপ্ত বয়স্কদের গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইন না মানা এগুলোর মূল কারণ।

আসলে এক্ষেত্রে আইনের কোন প্রয়োগ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। কোন দুর্ঘটনাই বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে না। এসব দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপসহ প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং ড্রাইভার এবং পথচারীদের সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, প্রয়োজনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সিংড়া সার্কেল) মো. জামিল আকতার বলেন, পরিসংখ্যানগত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফিডার রাস্তাগুলোর থেকে হাইওয়ে রোডে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের পূর্ব সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অতি দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চেয়ে নিরাপদ গতিতে একটু বিলম্বে হলেও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো উত্তম। চালকদের মনে রাখা উচিত একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ