সিংড়ায় সড়ক নির্মাণে মাটি ও নিন্মমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ

আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস



চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ সড়ক পাকাকরণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার দুর্গম নিলামপুর গ্রাম হতে তাজপুর বাজার পর্যন্ত পাকাসড়ক নির্মাণ কাজে মাটি ও আর্বজনা মেশানো ও নি¤œমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এছাড়া ভরাট বালির সঙ্গে মেশানো হচ্ছে মাটি।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সিংড়া উপজেলা গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুর্গম নিলামপুর গ্রাম হতে হাট-তাজপুর বাজার পর্যন্ত (নিলামপুর গ্রাম হতে সারদানগর গ্রাম রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্প) ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৫ টাকা চুক্তি মূল্যে এক কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ কাজ পান নাটোর শহরের লালবাজার এলাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার কনস্ট্রাকশন।
গত শনিবার সরোজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়নের জন্য স্তুপাকারে রাখা খোয়া ময়লা আবর্জনা পরিপূর্ণ ও নিম্মমানের। ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকরা ভরাট বালির পরিবর্তে মাটি মেশানো বালি এবং খড় ও আবর্জনায় ভরা ইটের খোয়া নির্মাণাধী রাস্তায় ফেলছে। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর এলাকাবাসীদের দোষারোপ করে তড়িঘরি করে আবর্জনা ভর্তি খোয়া বালি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। ঠিকাদারের প্রতিনিধি ওহিদুল হক রাস্তা নির্মাণ কাজের উপকরণে আবর্জনা মেশানোর জন্য স্থানীয়দের দোষারোপ করে বলেন, সামান্য খোয়াতেই শুধু আবর্জনা রয়েছে। যা ইতোমধ্যে পরিস্কার করা হয়েছে। এসময় উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের তদারককারী দুই সহকারীকে প্রশ্ন করা হলে, তারা কোন সন্তোষজনক উত্তর না দিয়ে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, এখানে আমাদের কিছু করার নেই। উপজেলার তদারকী অফিসাররা কাজের মান নিয়ে কোন প্রশ্ন করে না। স্থানীয় মুদি দোকানী শহিদুল ইসলাম ও কৃষক রমজান আলী জানান, এতো নি¤œমানের কাজ হচ্ছে যে এ রাস্তা দুই দিনও টিকবে না। আর আমরাতো গরীব মানুষ, আমাদের কথা কে শুনবে। প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। দুভোর্গ কমাতে আমরা রাস্তা চাই। তা যেভাবেই হোক না কেন।এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল কুদ্দুস জানান, এই রাস্তা চলনবিলের সিংড়া ছাড়া আত্রাই-সারদানগর এলাকার একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা। কাজের মান খারাপ বললেও কর্ণপাত করে না ঠিকাদারের লোকজন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক সুজিত কুমার সরকার বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে মালামাল নিয়ে যেতে কষ্টকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হৃদয় চন্দ্র দাস বলেন, এই গ্রামীণ সড়কের কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ইতোপূর্বেও ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু মালামাল ফেরত পাঠানো হয়েছে। আবার অনিয়ম হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।