সিংড়ায় ৫০০ মিটার পাকা রাস্তার জন্য একযুগ ধরে অপেক্ষা দুই গ্রামের মানুষ

আপডেট: জুন ৮, ২০২১, ৯:২৩ অপরাহ্ণ

এমরান আলী রানা,সিংড়া:


মাত্র ৫০০ মিটার রাস্তা পাকা করনের অপেক্ষায় র্দীঘ একযুগ ধরেদিন গুনছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার ২নং ডাহিয়া ইউনিয়নের গাড়াবাড়ি সরিষাবাড়ি গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। গ্রামবাসীরা জানায় ২০০৯ সালে বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পের আওতায় সিংড়া-বারুহাস মহাসড় কেরবিয়াশ থেকে ১ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করন করা হয় যা ওই দুটি গ্রামে প্রবেশ পথের ৫০০ মিটার দুরেই শেষ হয়। সেই থেকে ওই কাচারাস্তা দিয়েই যাতায়ত করে আসছেন গ্রামের সাধারন মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই বাকি ৫০০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের আশ্বাস পাওয়া গেলেও প্রায় একযুগ পরও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এভাবে অপেক্ষার দিন গুনছেন ওই গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার বেহাল দশার চিত্র দেখা যায়। গাড়া বাড়ি গ্রামের জন প্রতিনিধি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আকবর হোসেন বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই এই রাস্তার দুর্ভোগ বেড়ে যায়। ১ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে ভ্যানে চড়ে গ্রামের কাছে এসে পাকা রাস্তার মাথায় নেমেই শুরু হয় দুর্ভোগ। জুতা খুলে কাঁদা মাখা অবস্থায় বাড়ি ফিরতে হয়। কৃষিপণ্য সহ প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কাঁধে বা কখনো মাথায় নিয়ে ফিরতে হয় বাড়িতে। মোটরসাইকেল আরোহী মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মোস্তাক বিন সুলতান বলেন, সামান্য এই কাঁচা রাস্তার জন্যই বর্ষার মৌসুমে আমরা মোটরসাইকেল চালাতে পারিনা। আকাশে মেঘ দেখলেই হয় বাড়িতে না হয় বিয়াশ বাজারে মটর বাইক রেখে পায়ে হেটে চলাচল করতে হয়। ওই গ্রামের সোহেল রানা, রফিকুল ইসলাম জানান, এই টুকু রাস্তা দুর্ভোগের কারনেই আমাদের গ্রামে ধানের ব্যবসায়ীকদের কাছে প্রতি মণ ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমে ধান বিক্রয় করতে হয়। সরিষা বাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ২০১৬ সালে আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ উদ্বোধন করতে এসে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি এই রাস্তা পাকা করনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২নং ডাহিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সিরাজুল মজিদ মামুন বলেন, গাড়া বাড়ি সরিষা বাড়ি মূলত দুটি গ্রামে বসবাসরত অধিকাংশ মানুষ মুজিব আদর্শের। অনেকের কাছে তাই গ্রাম দুটি মুজিবন গর হিসাবেও পরিচিত। দেশের এই উন্নয়ন লগ্নে মুজিব আদর্শের গ্রাম দুটি মাত্র ৫০০ মিটার রাস্তা পাকা করনের অভাবে আজ সবার কাছে অবহেলিত। আমি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাসান আলী বলেন, চলনবিল প্রকল্পের মাধ্যমে এই রাস্তার তালিকা পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে রাস্তার কাজ শুরু বরা হবে।