সিআইডি কর্মকর্তাদের রাউধার মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন

আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০১৭, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীতে পড়াশোনারত অবস্থায় মারা যাওয়া মালদ্বীপের নাগরিক রাউধা আথিফের মৃত্যুর কারণ খুঁজতে তার হোস্টেল কক্ষটি পরিদর্শন করেছেন সিআইডির কর্মকর্তারা। গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটায় ইসলামী মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষটি পরিদর্শন করেছেন সিআইডির কর্মকর্তারা। সেইসঙ্গে এই হত্যা মামলার একমাত্র আসামি রাউধার আথিফের সহপাঠী সিরাত পারভীন মাহমুদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তারা।
মালদ্বীপের নাগরিক রাউধা আথিফ রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি মডেলিংও করতেন।
এদিকে রাউধার হোস্টেলের কক্ষ পরিদর্শন ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাজশাহী সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল করিম খান বলেন, ‘এর আগে থানা ও ডিবি পুলিশ রাউধা মৃত্যুর দুটি মামলা তদন্ত করেছে। তবে সিআইডিতে মামলাগুলো হস্তান্তরের পর আমরা আজকে প্রথম রাউধার কক্ষটি পরিদর্শন করলাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘পরিদর্শনকালে রাউধার ঘরের ছবি তোলা হয়েছে। সেইসঙ্গে রাউধার উচ্চতা, ফ্যানের উচ্চতা ও চেয়ারের উচ্চতা নেওয়া হয়েছে। অগ্রীম সিদ্ধান্ত দিচ্ছি না। তবে এতে করে মনে হচ্ছে আত্মহত্যা করা সম্ভব। তবে অন্য কোনও মোটিভ আছে কিনা, সে ব্যাপারে আরও বেশি করে তদন্ত না করলে মন্তব্য করা কঠিন হবে। অন্য মোটিভ পাওয়া গেলে হত্যা মামলায় টান নিতেই পারে।’
নাজমুল করিম খান বলেন, ‘সিরাত প্রথমে রাউধার ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে দেখেছে। সেইসঙ্গে আমরা বাহির থেকে দুইপাল্লার দরজাটি বন্ধ করে দেখলাম। একটু ফাঁক আছে। যেটা দিয়ে ঘরের ভেতর দেখা যায়।’
এর আগে গত ১০ এপ্রিল রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় তার সহপাঠী সিরাতকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আথিফ। মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে রাউধার মৃত্যুর ১২ দিন পর রাজশাহীর আদালতে এই মামলা দায়ের করেন তিনি। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই মামলার আগে ও পরে দুইবার রাজশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন অফিসে সিরাত দেখা করেছে বলে জানিয়েছে ইসলামী মেডিক্যাল কলেজের সেক্রেটারি আব্দুল আজিজ রিয়াদ।
এদিকে, রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করেছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছে বলেই তাদের মনে হচ্ছে। শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে ও লিখিত জবানবন্দি নিয়ে তারা এই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন বলে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল মুকিত সরকারকে আহ্বায়ক করে ওই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি কলেজের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ দুপুরে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে রাউধা আত্মহত্যা করে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তার সহপাঠীরা ঝুলন্ত রাউধার মরদেহ নামিয়ে ফেলে। গত ৩০ মার্চ রাউধার লাশ দেখতে রাজশাহীতে আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়েশাথ শান শাকির এবং তার মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা। ৩১ মার্চ মেডিকেল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। রাউধা আত্মহত্যা করেছে উল্লেখ করে বোর্ড ময়না তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
মালদ্বীপের মেয়ে রাউধা আথিফের জন্ম ১৯৯৬ সালে ১৮ মে। তিনি রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রাউধা পড়ালেখার পাশাপাশি মডেলিং করতেন। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্বখ্যাত ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের ভারতীয় সংস্করণেও তিনি মডেল হয়েছিলেন। ওই সংখ্যার প্রচ্ছদে আরও পাঁচ মডেলের সঙ্গে রাউধাও ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ