‘সিগারেটের’ আগুনে বাগমারায় ১০০ বিঘা পানের বরজ পুড়ে ছাই

আপডেট: মে ৩, ২০২৪, ১১:২৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ৫৩টি পানের বরজ পুড়ে ভস্মিভূত হয়েছে। এই ঘটনায় হতাহতের কোন খবর পওয়া যায়নি। তবে নিঃস্ব হয়ে প্রায় ৮০ জন পান চাষী। তাদের প্রায় ১০০ বিঘা জমির পানের বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ হিসেবে পান চাষীরা বলছেন, সিগারেটের আগুন থেকে এই আগ্নিকাণ্ডের ঘটনা হতে পারে।

শুক্রবার (৩ মে) দুপুরে বাগমারা উপজেলার গনিপুর ইউনিয়ন’র পোড়াকয়া গ্রামে মাঠে হঠাৎ করেই পান বরজে আগুন লেগে যায়। আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১শো বিঘা পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পানের বরজ পুড়ে যাওয়া চাষী আসাদুল ইসলাম বলেন, প্রথমে আগুন লাগে ইসাহাকের বরজে। এরপরে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে একের পর এক পানের বরজে। এত প্রায় ৮০ জন চাষীর ১০০ বিঘা পানের বরজ পুড়ে গেছে। এই আগুনে অনেকে চাষীর একবিঘা থেকে দেড় বিঘা করে পানের বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কিভাবে পানের বরজে আগুন লেগেছে কেউ জানে না। তারা এখন নিঃস্ব হয়ে গেছে।

চাষী আসাদুল ইসলাম আরও বলেন, আগুনে এমনভাবে পুড়ছে তাতে পানের বরজের কোন কিছু অবশিষ্ট নেই। সব বরজ নতুন করে তৈরি করতে হবে। বছরের এই সময়ে পানের দাম সবচেয়ে বেশি থাকে। এখন বাজারে নতুন পান বিক্রি হচ্ছে চার হাজার টাকা পোয়া। আর পুরানো পান বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পোয়া দরে। এই সময় পানের বরজ পুড়ে যাওয়া মানে চোখের সামনে টাকা পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া। গ্রামবাসী যে যেভাবে পেড়েছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক চাষীর পানের বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

পান চাষী রেজাউল ইসলাম বলেন, তার এক বিঘার বেশি জমির পানের বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যেভাবে পানের বরজ পুড়েছে তাতে করে আবার নতুন করে বরজ তৈরি করতে হবে। এই বরজ তৈরি করতে আবার শীত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ এখন জমিতে পান বপনের সময় না। তাই এই চাষীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলো।

এ ব্যাপারে বাগমারা উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রঞ্জু বলেন, একুরেট বলতে পারবো না। তবে ৬০-৭০ বিঘার বেশি হবে। আমরা চাষীদের তালিকা করতে বলেছি। আগামিকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) তালিকাটা হাতে পাব। এরপরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যামে জেলা প্রশাসককে দেওয়ার হবে। যদি সরকারিভাবে কিছু টাকা পেলে এই চাষীদের উপকার হবে। এই ঘটনায় অনেক চাষী একবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। মাত্র পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যে চাষীদের কোটি টাকার পান পুড়ে গেছে।

বিষয়টি নিয়ে বাগমারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মেহেদী হাসান তুহিনের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। তাই এবিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আক্তার হামিদ খান বলেন, রাজশাহী শহর, বাগমারা, মোহনপুর ও আত্রাই এর ৪টি ইউনিট ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় পান বরজের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে শতাধিক কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। কিভাবে আগুনের সুত্রপাত তা জানা যায়নি।

এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া পানের বরজ পরিদর্শন করেছি। স্থানীদের থেকে যেটি প্রাথমিকভাবে জানা গেছে- সিগারেটের আগুন থেকে হতে পারে। এই ঘটনায় আনুমানিক ৯০-১০০ বিঘা জমির পান পুড়ে যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version