সিগারেটে প্রতি দশে একজনের মৃত্যু || ধুমপানবিরোধী প্রচারণায় দুর্বলতা কেন?

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০১৭, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

ধুমপান নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছেÑ যা বিশ্বের জন্যই অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসা বিষয়ক জার্নাল দ্য ল্যানসেট-এর প্রতিবেদন মতে, সিগারেটের কারণে বিশ্বজুড়ে দশজনের মধ্যে একজন মারা যাচ্ছে। সেইসাথে প্রতিবন্ধীত্বেরও কারণ এটি”। নতুন এক গবেষণা বলছে, এর অর্ধেকই ঘটছে চিন, ভারত, আমেরিকা এবং রাশিয়াতে। এ সক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশে শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনও কোনও দেশ উচ্চ কর আরোপ, সিগারেটের প্যাকেটে সতর্কবার্তা এবং প্রচার কাজের মাধ্যমে সিগারেটে আসক্তি কিছুটা কমিয়ে আনতে পেরেছে। তবে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইন্সে ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এক্ষেত্রে কোনও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বহু দশক ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি চালানোর পরও ধূমপায়ীদের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বেড়েই চলেছে। একই সাথে বাড়ছে নারী ধূমপায়ীদের সংখ্যাও। ২০১৫ সালের প্রতিবেদন অনুসারে প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজন নারী সিগারেটে আসক্ত।
বাংলাদেশে ধুমপান নিরোধ আইন প্রণীত হয়েছে এবং ধুমপানের কুফল সম্পর্কে কিছু প্রচারণাও আছে কিন্তু তারপরও ধুমপানের মত স্বাস্থ্য-ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির নাগাল টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। ধুমপান নিরোধ বা নিরুৎসাহিত করতে আইনের প্রায়োগিক ব্যাপারটি এখনো খুবই দুর্বল পর্যায়ে আছে। মাঝে মধ্যে ভ্রামম্যমান আদালত পরিচালিত হয় বটে তবে তা নিয়মিত না। লোকালয়ে নির্বিঘেœ ধুমপান চিত্রই তার প্রমাণ দেয়। লোকালয়ে ধুমপানের বহুল ব্যবহার দেখে আইনের অস্তিত্ব উপলুব্ধ হয় না। যারা প্রকাশ্যে ধুমপান করে তারা হয়তো ভুলতেই বসেছেন যে, এ ধুমপান নিরোধ সংক্রান্ত একটি আইন আছে- যাতে লোকালয়ে ধুমপান করা আইনত দ-নীয় অপরাধ।
অপর এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ধুমপানের কারণে একটি দেশের জিডিপি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পাচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন কোটির বেশি। প্রতিবছর তামাক ব্যবহারজনিত ৮টি প্রধান রোগে ১২ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এই রোগিদের মাত্র ২৫ শতাংশ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ধরে হিসাব করলে বছরে দেশের অর্থনীতিতে ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। অন্যদিকে তামাক খাতে বছরে সরকারের আয় হয় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিগারেট থেকেই মাদকের নেশা শুরু হয় এবং মাদকাসক্তদের ৯০ শতাংশই ধূমপায়ী।
সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা ছাড়া ধুমপানের কুফল থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। বরং প্রচলিত ধারার প্রচারণা কার্যক্রম ও আইনের প্রয়োগহীনতা উদ্বেগ- উৎকণ্ঠা বাড়াতে সহায়ক হবে। ধুমপানের কারণে শুধু ব্যক্তি নয়, তার পরিবার, পরিবেশ- প্রতিবেশও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেÑ এসব তথ্য খুবই নিবিষ্ট আকারে মানুষের কাছে নিতে হবে। সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে লাগসই কৌশলের প্রয়োজন- সেটির অভাব আছে। ব্যক্তি-পরিবারের লাভালাভটাকে যদি নিশ্চিত করা যায় তা হলে ধুমপান বিরোধী সামাজিক আন্দোলনের সাফল্য প্রত্যাশা করা যায়। সেই সাথে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে অব্যাহতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পারিচালনার কাজটিও দায়িত্বের সাথে পরিচালিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ