সিঙ্গাপুরে করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশির সংখ্যা ২৬০০ ছাড়িয়েছে

আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২০, ৮:২২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করার ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরকে একটি সফল উদাহরণ হিসেবেই এতদিন মনে করা হচ্ছিল। করোনাভাইরাস শব্দটি যখন অনেকের কাছেই পরিচিত হয়ে ওঠেনি, তখনই সিঙ্গাপুরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে।
এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করেছিল দেশটি। কিন্তু সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেশ দ্রুত গতিতে বিস্তার লাভ করছে।
দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৮৮ জন৷ এর মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছে ২ হাজার ৬০০ জন। সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে ৭৪০ জন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এ পর্যন্ত ১১ জন।
সিঙ্গাপুরে করোনার সবচেয়ে বড় ক্লাস্টার হিসেবে পংগল এস-১১ ডরমিটরিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মোট ১৩টি ডরমিটরিকে আইসোলেশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে৷ এসব ডরমিটরিতে বাংলাদেশের নাগরিকই বেশি থাকে।
সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। শনিবার নতুন করে ৯৪২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭০ জনই বাংলাদেশি।
শুক্রবার দেশটিতে নতুন রোগী শনাক্ত হয় ৭২৮ জন। এর মধ্যে ৫২০ জন বাংলাদেশি।
এছাড়া বৃহস্পতিবার ৪৪৭ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৪৪ জনই বাংলাদেশি। বুধবার ৩৩৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১৭১ জনই বাংলাদেশি।
এর আগে, মঙ্গলবার ৩৮৬ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ২০৯ জনই বাংলাদেশি। সোমবার ২৩৩ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১২৫ জনই বাংলাদেশি। রোববার ১৯১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯ জনই বাংলাদেশি।
সিঙ্গাপুরে যেদিন প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়৷ সেদিনই দেশটির সরকার নড়েচড়ে বসে৷ তারা করোনা মোকাবিলায় জাতীয় কমিটি গঠন করে। তিনটি রিস্ক লেভেল ঘোষণা করা হয়৷ রিস্ক লেভেলগুলো হলো; ইয়োলা, অরেঞ্জ ও রেড৷ ইয়োলো মানে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবাই সর্বশেষ চীন ভ্রমণ করেছেন। অল্পসংখ্যক লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত৷
দ্বিতীয় রিস্ক লেভেল অরেঞ্জ মানে কিছু কিছু স্থানীয় লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যাদের কেউ চীন ভ্রমণ করেনি কিংবা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগীর সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই৷
সর্বশেষ রিস্ক লেভেল রেড (লাল) অর্থাৎ সারাদেশে বিভিন্ন স্থান থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলে এবং প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেই রিস্ক লেভেল রেড (লাল) ঘোষণা করা হবে৷ এখন চলছে রিস্ক লেভেল অরেঞ্জ৷
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ