সিডিসি মতে করোনায় বাংলাদেশ উচ্চ ঝুঁকিতে! চলমান কৌশল কতটুকু কার্যকর?

আপডেট: জুন ১১, ২০২১, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে অতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-সিডিসি।
বাংলাদেশসহ মোট ৬১ দেশকে এই তালিকায় রেখে মহামারীর মধ্যে এসব দেশ ভ্রমণ না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের। যদি এসব দেশে ভ্রমণ একান্তই করতে হয়, তবে কোভিড-১৯ টিকা নেয়ার পরই তা করতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
দেশে করোনা সংক্রমণের চলমান পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। সামনের দিনগুলো কেমন হবে- বাংলাদেশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কতটুকু সফল হবে, সে ভাবনা থেতে মুক্ত নন- সচেতন ব্যক্তি মাত্রই। ২০২০ সালে করোনা প্রাদুর্ভাবের পর মাঝে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনার তেমন চরিত্র- বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্রমশ পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে বসেছে। ভারতে উদ্ভূত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সীমান্তের জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশে বুধবার (৯ জুন) পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৮১৯ জন। এই রোগে মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৯৪৯ জনের। তার মানে পরিস্থিতি ক্রম-অবনতির দিকে যাচ্ছে।
মাঠের অবস্থাটা একেবারেই ভিন্ন। আশা জাগানিয়া মনে হচ্ছে না। জীবন-জীবিকার মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে জীবন বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে কি না! বিধি-নিষেধ চলছে বটে তবে সেটা করোনা প্রতিরোধে কতটুকু কার্যকর হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেননা লোকডাউন বা বিধি-নিষেধ মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মানার ক্ষেত্রে ব্যাপক উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজশাহী মহানগরীর পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, পাড়া-মহল্লার মধ্যে সেব বাজার আছে সেগুলোতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানা বা মাস্ক পরার ব্যাপারটি নেই বললেই চলে। সদর রাস্তা-সমূহে বিধি-নিেিষধ মানানোর জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির কড়াকড়ি আরোপ থাকলেও পাড়া-মহল্লার বাজারগুলোতে কড়াকড়ি না থাকায় বিধি-নিষেধ কতটুকু কাজে আসছে সে ব্যাপারে সন্দেহ থেকেই যায়। এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টি আরো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা যেতে পারে। ক্লাস্টার অনুযায়ী কিংবা পাড়া-মহল্লায় করোনা প্রতিরোধ কমিটি করে পুরো প্রক্রিয়ায়ে গতিশিীলতা আনা যেতে পারে। চলমান লকডাউন বা বিধি-নিষেধ কার্যকরের বিষয়টি কতটুকু সাফল্য পাচ্ছে সেটাও পর্যালোচনা দরকার। প্রয়োজনে পরিকল্পনা ও কৌশলে ত্বরিত পরিবর্তন এনে সংহারি করোনাকে প্রতিরোধের উপায় বের করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ