সিনেমা হলশূন্য রাজশাহী সিনেপ্লেক্স তৈরির দায় কেউ নিবে না!

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০২২, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে চলচ্চিত্রের ভূমিকা কালের পরিক্রমায় একেবারে তলানিতে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, সিনেমা শিল্পের আর প্রয়োজন নেই। এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না যে, চলচ্চিত্রের দুরাবস্থার জন্য এক শ্রেণির চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালকরাই দায়ি। চলচ্চিত্রের সুষ্ঠু বিনোদনের ধারাটিকে তারা বিকৃত ও অশ্লীলভাবে উপস্থাপন করেছে। রুচিহীন ও বিকৃত-মস্তিস্বসঞ্জাত চলচ্চিত্রের রমরমায় সুষ্ঠুধারার চলচ্চিত্র টিকে থাকা অনেকটাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। বলতে কী! দর্শকরাও চলচ্চিত্র-বিনোদন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়। দেশের চলচ্চিত্র শিল্প মুখ থুবড়ে পড়ে। এক এক করে দেশের সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। মন্দা পরিস্থিতির মুখে বিভাগীয় শহর রাজশাহীর সব সিনেমা হলগুলোও টিকে থাকেনি, বন্ধ হয়ে যায়।
আবারো বলতে হয় এর মানে এই নয় যে, বিনোদন হিসেবে সিনেমার গুরুত্ব শেষ হয়ে গেছে। বরং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সিনেমা শিল্পকে আবারো বিনোদনের শাক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দাঁড় করানো যায়, সে সম্ভাবণাও উজ্জ্বল। কেননা সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয় এটি শিক্ষা-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতির ভাষা হিসেবেও গন্য করা হয়। সিনেমা মানুষের মধ্যে ন্যায়-অন্যায় ও ঔচিত্যের মধ্যে পার্থক্য ও মূল্যবোধ-দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। মানুষের চেতনাকে শাণিত করে- নতুন জাগরণের সৃষ্টি করতে পারে। সিনেমা সন্ত্রাস ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে শাণিত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
সিনেমা শিল্প যে অপাংক্তেয় হয়ে যায় নি- ইদানিং কালের কতিপয় চলচ্চিত্র সেটার প্রমাণ দেখাচ্ছে। শুধু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে, ক্রমপরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে হালনাগাদ প্রযুক্তি-নির্ভর চলচ্চিত্র সময়ের দাবিকেই সমর্থন করে।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হাওয়া’ এর মতো দর্শক হৃদয়জয়ী সিনেমা নির্মিত হচ্ছে দেশে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয়ও দিচ্ছে অনেক নির্মাতা। সম্প্রতি ২৯ জুলাই মুক্তি পেয়েছে চঞ্চল চৌধুরি অভিনীত ও মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’। ছবিটি মুক্তির আগে থেকেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ‘পরাণ, ‘দিন দ্য ডে’ ও ‘সাইকো’ নামের আরো তিনটি সিনেমা দর্শকনন্দিত হয়েছে। বলা যায়, এসব সিনেমা সুষ্ঠু ধারার সিনেমা তৈরিতে পথ দেখাচ্ছে। কিন্তু দর্শক সিনেমা দেখবে কোথায়? সিনেমা হলগুলোর অধিকাংশই বন্ধ হয়ে গেছে। রাজশাহীতে কোনো সিনেমা হল নেই, সিনেপ্লেক্স নেই তা হলে উল্লিখিত সিনেমাগুলো কীভাবে উপভোগ করতে পারে রাজশাহীর দর্শককগণ? অনেকেই ঢাকায় গিয়ে ‘হাওয়া’ সিনেমা দেখে এসেছেন।
রাজশাহীতে সিনেপ্লেক্সেও দাবি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তরুণদের মধ্যেই এই ভাবনা এখন প্রকট। সিনেমা শিল্পের জন্য এই ভাবনা আশা জাগানিয়া। কিন্তু কারা এই সিনেপ্লেক্ষ তৈরির উদ্যোগ নিবেন। ব্যবসায়ীরা আছেন, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ আছে, জরপ্রতিনিধি আছেন তারা বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। ইতোমধ্যে রাজশাহী শহরের নানামাত্রিক সুনাম দেশজুড়ে। সেখানে সিনেপ্লেক্সের শূন্যতা থাকবে কেন?

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ