সিরাজগঞ্জে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধ্বস ।। তিন গ্রামের সহস্রাধিক বসতবাড়ি প্লাবিত

আপডেট: জুলাই ১৫, ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি


সিরাজগঞ্জে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধ্বসে এভাবেই সহস্রাধিক বসবাড়ি প্লাবিত হয়েছে -সোনার দেশ

সিরাজগঞ্জের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাহুকায় দুই পয়েন্টে প্রায় ৫০ মিটার এলাকা জুড়ে ভেঙে যাওয়ায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে বাহুকা-পূর্ব বাহুকা-গজারিয়া, চিলগাছা ও ইটালী গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। প্রবলস্রোতে পানি প্রবেশ করায় ঘরবাড়ির ভেঙে গেছে। আকস্মিক প্লাবিত হওয়ায় আসবাবপত্র নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসসহ ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
আতঙ্কিত লোকজন আসবাপত্র নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে ওয়াপদা বাঁধে ও স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র একমাস আগে বাহুকা থেকে টুটুলের মোড়ের মাঝামাঝিতে সিরাজগঞ্জ বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙে যায়। এ কারণে পানি যাতে লোকালয়ে প্রবেশ না করতে না পারে সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড আধা কিলোমিটার পেছনে নতুন মাটির বাঁধ নির্মাণ শুরু করে। কিন্তু কাজ ধীরগতি হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নতুন বাঁধের বাহুকা পয়েন্টে প্রথমে নতুন-পুরাতন বাঁধের মাঝে লিঙ্কবাঁধে ২৫ মিটার ভেঙে যায়। তাৎক্ষণিক পাউবো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রবল স্রোতে নতুন বাধের ২৫ মিটার এলাকা ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ শুরু করে। ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাহুকা-পুর্ব বাহুকা-ইটালী,গজারিয়া গ্রামের সহস্রোধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। প্রবল  স্রোতে ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। আতঙ্কিত হয়ে আসবাবপত্র নিয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে উচুঁ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করে, অনেকে আসবাবপত্র রেখেই জীবন বাঁচাতে বসতবাড়িতে ছেড়ে যায়। বিকেল পর্যন্ত লিঙ্ক বাঁধের প্রথম অংশ সংস্কারের চেষ্টা করেও কোন সুরাহা না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আরো আতঙ্ক ছড়িয়ে। আতঙ্কে বিকেল থেকে ভাঙ্গা অংশের কাছ থেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে যায়।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, ইদুরের গর্তের কারণে প্রথমে সামান্য পানি লিক করে। এক পর্যায়ে লিঙ্ক বাঁধটি ভেঙে যায়। পরে নতুন রিংবাঁধটিও ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। রাত ২টা থেকে ভাঙা অংশ সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। সকালে সেনাবাহিনীর ১১ পদাতিক ডিভিশনের রিভার কোরের মেজর সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা সংস্কার কাজে সহায়তা করছে।
জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের জন্য পাউবোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তাৎক্ষণিক উচুবাঁধে ও স্কুলে আশ্রয় নেয়া মানুষের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে গতকাল যমুনার পানি ৪ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমলেও পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ এখনো কমেনি। জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নের ২৩০টি গ্রাম প্লাবিত প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। আর নদীভাঙনে প্রায় ৫ শতাধিক বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে। পানিবন্দী এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে নারী-পুরুষদের টয়লেট করতে পড়তে হচ্ছে নানা সমস্যায়। দুর্যোগের সময় জন প্রতিনিধিরা তাদের পাশে না দাঁড়ানোয় পানিবন্দী মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৩৮ মেট্টিক টন চাল ও ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ