সিরিয়ায় ‘গ্যাস হামলা’: জরুরি বৈঠকের ডাক জাতিসংঘের

আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০১৭, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে সম্ভাব্য রাসায়নিক গ্যাস হামলায় বহু হতাহতের পর বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
মঙ্গলবার দেশটির বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিবের খান শেইখৌন শহরে চালানো ওই হামলায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য, বুধবার বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, এই হামলার জন্য সিরিয়ার সরকারকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বিশ্ব শক্তি, অপরদিকে দামেস্কের কর্মকর্তারা এ ধরনের (রাসায়নিক) কোনো অস্ত্র ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছেন।
জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রাইক্রফট এই হামলাকে ‘সিরিয়ার শান্তির জন্য অত্যন্ত খারাপ খবর’ বলে মন্তব্য করেছেন।
নিউ ইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এটি পরিষ্কারভাবে একটি যুদ্ধাপরাধ। আমি নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের ডাকছি যারা এর আগে সমর্থনের অযোগ্যদের রক্ষা করতে তাদের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করেছিলেন।”
যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস হামলাটিতে ৫৮ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১টি শিশু রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
ঘটনাস্থল থেকে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে বেসামরিকদের শ্বাস রোধ হয়ে আসার ও মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে আসার দৃশ্য দেখা গেছে। তারপর আহতদের যেসব ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল সেখানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
হামলায় কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে তা নিশ্চিত না হওয়া গেলেও সিরিয়ার সরকার বিরোধীরা দাবি করেছে, তাদের বিশ্বাস হামলায় নার্ভ এজেন্ট সারিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সিরীয় সরকারের এই জঘন্য কাজের’ নিন্দা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ‘নির্দয়, নির্লজ্জ বর্বরতার’ জন্য সিরীয় সরকারকে দায়ী করছেন।
সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্তেফান দ্য মিসতুরা বলেছেন, “এটি একটি ভয়াবহ হামলা এবং এই হামলার জন্য দায়ীদের পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করে তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”
এই হামলার জন্য তাদের বাহিনী দায়ী নয় বলে দাবি করেছে সিরিয়া; আর রাশিয়া জানিয়েছেন, ওই এলাকায় তারা কোনো বিমান হামলা চালায়নি।
এই হামলার কারণে বেলিজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে হতে যাওয়া একটি সম্মেলন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই সম্মেলনে সিরিয়ায় ত্রাণ সহায়তা সরবরাহের উদ্যোগ নিয়ে ৭০টি দাতা দেশের আলোচনার কথা রয়েছে।
এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে আটকে পড়া হাজার হাজার বেসামরিকের জন্য মানবিক ত্রাণ সরবরাহের সুযোগ নিশ্চিত করতে চান।
ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ অবসানের কোনো রাজনৈতিক সম্ভাবনা এখনও দেখা যাচ্ছে না।
প্রায় ৫০ লাখ সিরীয় দেশটি থেকে পালিয়ে অন্যান্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে, ৬০ লাখেরও বেশি সিরীয় অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছেন এবং জাতিসংঘের হিসাবে গৃহযুদ্ধে দেশটিতে এ পর্যন্ত আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।- বিডিনিউজ