সিলেটের বন্যার্তদের জন্য রাজশাহীতে কনসার্ট

আপডেট: জুন ২৫, ২০২২, ১:২৯ পূর্বাহ্ণ

বন্যার্ত মানুষের সাহায্যের জন্য কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী নগরের লালন শাহ মুক্তমঞ্চে

নিজস্ব প্রতিবেদক:


সিলেটের বন্যার্ত মানুষের সাহায্যের জন্য রাজশাহীতে কনসার্ট ও সাইকেল স্টান্ট প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুন) বিকেল থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত রাজশাহী নগরের লালন শাহ মুক্ত মঞ্চে এসব অনুষ্ঠিত হয়।

মঞ্চের সামনের আসন কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। মঞ্চে একটার পর একটা গান হচ্ছে। আর কিছু তরুণ বক্স হাতে দর্শকদের সামনে ঘুরছেন। দর্শকেরা সামর্থ্য অনুযায়ী বক্সে টাকা ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। সেই টাকা পাঠানো হবে সিলেটের বন্যার্ত মানুষের জন্য।

বিকেল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ব্যান্ড দলের অংশগ্রহণে এই কনসার্ট হয়েছে। ব্যানারে এই কনসার্টের নাম দেওয়া হয় ‘সিলেটের জন্য গণগান’। বিকেল পাঁচটায় গান শুরুর আগেই মঞ্চে সাইকেল স্টান্ট দেখান কিছু তরুণ। তাঁরা রাজশাহীর সাইকেল রাইডারদের সংগঠন ‘জিরো পয়েন্ট সিক্স গ্র্যাভিটি’র সদস্য। তাঁদের সাইকেল স্টান্ট দেখে করতালি দেন দর্শকেরা। এরপর কিছু তরুণ নৃত্য পরিবেশন করেন। তাঁরা ‘স্যালভেশন ড্যান্স ক্রিউ’ গ্রুপের সদস্য।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্বরব্যাঞ্জ’ ব্যান্ড দলের সদস্য মাইশা মাইকে বললেন, কয়েকটি ব্যান্ড দল বন্যার্ত মানুষের সাহায্যে এই কনসার্টের আয়োজন করতে যাচ্ছে, এমন খবর জেনে তাঁদের সঙ্গে এসেছে জিরো পয়েন্ট সিক্স গ্র্যাভিটি ও স্যালভেশন ড্যান্স ক্রিউ। শুধু তা–ই নয়, এই কনসার্টের জন্য অন্য অনুষ্ঠান বাতিল করে বিনা মূল্যে সাউন্ড সিস্টেম দিয়েছে শহরের সিপাইপাড়া এলাকার ‘স্টার সাউন্ড’। তাঁরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে মাইশার পিয়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গিটার বাজিয়ে ‘আমি চেয়ে চেয়ে দেখি সারা দিন’ গান ধরেন ‘অ’ ব্যান্ডের মার্টিন গ্রিন হাঁসদা। তারপর একটার পর একটা গান। ব্যান্ড দল ‘অ’, ‘স্বরব্যাঞ্জ’, ‘অনেস্বর’, ‘ক্যাম্পাস বাউলিয়ানা’ ও ‘অমরত্ব’ পারফর্ম করে। সব কটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যান্ড দল। অনেস্বর ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অর্জুন কুমার বললেন, বানভাসি মানুষের জন্য তাঁরা এই কনসার্টে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছেন।

অনেস্বর ব্যান্ডের অপর সদস্য নওশাদুল ইসলাম বলেন, প্রথমে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে বন্যার্ত মানুষের জন্য বক্স হাতে টাকা তুলেছেন। সর্বস্তরের মানুষ তাঁদের অর্থ দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি দিয়েছেন রিকশা ও অটোরিকশার চালকেরা। তাঁদের সামনে গেলে ফিরতে হয়নি। এই কনসার্টেও তাঁরা বন্যার্ত মানুষের জন্য ভালো সাড়া পেয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ