সিলেট-সুনামগঞ্জে ১২২ বছরে এমন বন্যা হয়নি: এনামুর

আপডেট: জুন ১৯, ২০২২, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


সিলেট ও সুনামগঞ্জে যে বন্যা চলছে তা ১২২ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। তিনি বলেছেন, “দেশের দশ জেলার ৬৪ উপজেলা বন্যার কবলে পড়েছে। সব সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার বিকালে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এনামুর রহমান বলেন, “সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে, উদ্ধার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম চালাবে তারা। “১৬ ও ১৭ জুন ৪ ফুট করে ৮ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করা হচ্ছে মঙ্গল ও বুধবার থেকে পানি কমে সিলেট ও সুনামগঞ্জে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী বন্যার কবলে পড়া জেলার সংখ্যা ১০ বললেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ সংখ্যা ১১ বলে জানিয়েছে। এ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী শনিবার বিকাল ৩টায় ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, যমুনা, সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদ-নদীর ১৪টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপরে বয়ে যাচ্ছিল।

ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের রেকর্ড বৃষ্টি চরম দুর্ভোগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায়।মৌসুমের তৃতীয় দফা বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জের অন্তত ৩৫ লাখ মানুষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি এ দুই জেলায় সেনাবাহিনীও উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

হাওরের আরেক জেলা নেত্রকোণাও ডুবছে; শনিবার নতুন করে বানের পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে জেলার সদর, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলা। আগেরদিন কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও বারহাট্টা উপজেলার বেশ কিছু জায়গা ডুবে যায়।
অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুরের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়ে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। কেউ কেউ বাড়িঘর ছেড়ে অন্য আশ্রয়ে চলে গেছে। কেউবা নৌকায় উঠেছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের বিতরণের লক্ষ্যে ৩২ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর বলেন, “সুনামগঞ্জ ও সিলেটে এই পর্যন্ত ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। জিআর থেকে ২০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে”। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু স্থানে মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আভাস রয়েছে।

কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বন্যা কবলিত ১১ জেলাতেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে। আর তিস্তার পানি এ সময়ে বিপদসীমার কাছাকাছি বা উপরে অবস্থান করতে পারে।

এদিকে ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের প্রধান নদীগুলোর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে, অবিরাম বৃষ্টিপাতের মধ্যে ভূমিধস ও অন্যান্য ঘটনায় রাজ্য দুটিতে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা ১৯৯৫ সালের পর থেকে জুন মাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।

আর ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় গেল ৬০ বছরের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। ফলে উজানের পানিতে দেশের হাওরাঞ্চলীয় জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে আশঙ্কা রয়েছে।- বিডিনিউজ